অপহরণ ব্ল্যাকমেইল থেকে শুরু করে দেহ ব্যবসা সবই করত এই স্বামী স্ত্রী

কুমিল্লায় র‌্যাব ১১ সিপিসি-২ এর সফল অভিযানে নগরীতে ভয়ংকর এক অপরাধ জগতের অবসান হলো। অপহরণ, ব্ল্যাকমেইল, অস্ত্র, ইয়াবা, দেহ ব্যবসা থেকে শুরু করে বহু অপরাধের মূল হোতা স্বামী-স্ত্রী দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পেনড্রাইভ ও মোবাইল মেমোরিকার্ড থেকে উদ্ধার হওয়া কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার নারী পুরষ সহ অন্তত ২০/২২ জন ভিকটিমের ভিডিও উদ্ধার হয়।

যেখানে নানা ভাবে নারী, অস্ত্র ও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষার্থী ও একাধিক প্রবাসীও রয়েছেন। নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার ৩টি ভাড়া বাসায় চলতো এসব অপকর্ম। আর এর সাথে জড়িতদের কয়কজনের পরিচয় পেয়ে র‌্যাব সহ সাংবাদিকদের ও ভাবিয়ে তুলেছে। সঙ্গবদ্ধ এই চক্রের সাথে জড়িত নেতা, কথিত সাংবাদিক, নকল প্রশাসনের লোক ও সরকারি চাকরিজীবী সহ ৮/৯ জন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের ধনাইতরী গ্রামের মৃত হাকিমের ছেলে চইব্রাহিম নামের একজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর হাউজিং এর ব্লক এ সেকশন-৪ প্লট নং ১ কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল হাফিজের ৩য় তলার বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ধনাইতরীর ইউসুফের ছেলে মাহফুজ ও মাহফুজের স্ত্রী রিনাকে আটক করে র‌্যাব। আটকের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী অনেকেই র‌্যাবের অফিসে এসে অভিযোগ করতে দেখা গেছে।

তাজুল নামে এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, গত ডিসেম্বরে রাস্তা থেকে ডেকে বাসায় ঢুকিয়ে আমাকে উলঙ্গ করে শারিরীক নির্যাতন করে ১ লাখ টাকা আদায় করে, এখনো নানা ভাবে হুমকি দামকি দিচ্ছে, তাদের আটকের খবর পেয়ে আসছি আমিও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব। তাদের কঠিন শাস্তি দাবি করতে দেখা যায় অনেকের মুখেই। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই মুখ না খুল্লেও আটকের খবরে অনেককেই মুখ খুলতে দেখা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাহফুজ ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তারা সমাজের ধনাঢ্য ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী দের টার্গেট করে মেয়ে ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায় করত। টাকা না দিলে ব্ল্যাকমেইল করত।

ছবি ফেইসবুক সহ সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেবার হুমকি দিত। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে পেনড্রাইভসহ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি মাহফুজের বিরুদ্ধে অস্ত্র মাদকসহ একাধিক মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গোপনে দেশ ত্যাগের চেষ্টা প্রিয়ার স্বামী মলয় সাহার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

একই সাথে প্রিয়ার সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকেও অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন প্রিয়া সাহার স্বামী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মলয় সাহাও। এ লক্ষ্যে তিনি তিনবার ছুটির আবেদন দিয়েছিলেন।

তবে দুদক প্রশাসন তার আবেদন মঞ্জুর করেনি। মলয় সাহার পাসপোর্টে মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র সফরের সিল থাকায় গোপনে এখন তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করে দেশ ও সরকার বিরোধী তৎপরতার বিষয়টি প্রিয়া সাহার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। এ ধরণের তৎপরতার পর তিনি যদি দেশে ফিরতে না পারেন এ লক্ষ্যে স্বামী-সন্তানসহ ওই দেশেই থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিলো।

কারণ, সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে নালিশ জানানো এবং সহযোগিতার পর বাংলাদেশে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে- সেটি তিনি জানতেন। অত্যন্ত সচেতনভাবে প্রিয়া সাহা এটি করেছেন। এটির জের স্বামী মলয় সাহার ওপরও বর্তাবে- এটিও নিশ্চিত ছিলেন তিনি। ফলে প্রিয়া-কান্ডের পরপরই পর্দার অন্তরালে চলে যান মলয় সাহা। তার ব্যবহার্য মোবাইল নম্বরটি কখনো বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

আবার কল হলেও ওই প্রান্ত থেকে কেউ ধরছে না। যাবতীয় তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও। শো করছে না ইমু আইডিও।
এছাড়া সেগুনবাগিচাস্থ দুদক কার্যালয়ে তার কক্ষে গিয়েও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিয়া সাহার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই অফিস করছেন না মলয় সাহা। কোনো ছুটিও নেননি। সংস্থার সব কর্মকর্তা-কর্মচারির মুখে মুখে শুধু মলয় সাহা ও প্রিয়া সাহা।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

সেই সঙ্গে রয়েছে প্রিয়া সাহার প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা। বিশেষ করে প্রিয়া সাহার এ ঘটনার পর স্বামী মলয় সাহা দুদক কর্মকর্তা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আবারো নেতিবাচক ভাবে মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। মলয় সাহা আত্মগোপনে থেকে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার মলয় সাহা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি দুদক প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা। এমনকি তার ঘনিষ্ট সহকর্মীরাও তার বিষয়ে কোনো কথা বলতে না রাজ।

এদিকে প্রিয়া এবং মলয়স সাহার দুই কন্যা প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করলেও বর্তমানে বাংলাদেশেই অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। মলয় সাহা তাদের সঙ্গে নিয়েই আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি আত্মগোপনে রয়েছেন।

গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিতে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছেন। যদিও মলয় সাহার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের অভিযোগ আনা হয়নি। কোনো মামলাও দায়ের হয়নি। তবে তার কাছ থেকে তথ্য উদ্ধার এবং সেই লক্ষ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা হন্যে হয়ে খুঁজছে বলে জানায় সূত্র।

প্রিয়া সাহাকে নিয়ে বোমা ফাটালেন সংসদ শামীম ওসমান!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

একই সাথে প্রিয়ার সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকেও অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি। এদিকে প্রিয়া সাহাকে নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন।

আজ শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিকী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রিয়া সাহা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, কোথাকার কোন প্রিয়া সাহা। সে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে নালিশ করেছে ডোলান্ড ট্রাম্পের কাছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কি, বাংলাদেশের লটকা? মনে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রভু!

ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রভূ না। বাংলাদেশের প্রভু হচ্ছে জনগণ আর সেই জনগণ তার গার্জিয়ান বানিয়েছে শেখ হাসিনাকে। কারো কাছে জমা টেক্স দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা হন নাই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার নালিশ দেওয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ওই মহিলা অন্য কোনো কারণে করে নাই। উনি কারো থেকে বুদ্ধি নিয়েছেন, শিক্ষা নিয়েছেন তারপর বলেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুইটা শ্রেণী আছে একটা সুশীল শ্রেণী একটা কুশীল শ্রেণী। আমরা হইলাম কুশীল আর কেউ হইছে সুশীল। এরা নিজেরাই নিজেদের সুশীল বলে। আমি পার্লামেন্টে বলছিলাম একদিন একজন সুশীলের নামে। উনার মেয়ের থেকেও অল্প বয়সের মেয়েকে উনি বিয়ে করেছেন যখন বাচ্চা হয়ে গেছে ৬ মাসের মাথায়, তখন বলছিলাম বাব্বাহ সুশীলের তো অনেক জোর দেখা যায়!

উনি আবার একজন বড় অ্যাডভোকেট, আইনের প্রফেসর। আমি আবার উনার নাম বলতে চাই না। শামীম ওসমান বলেন, এমন অনেক সুশীল-কুশীল খেলা বাংলাদেশে চলতেছে, সামনে আরও অনেক খেলা আছে। প্রিয়া সাহার মেয়ে দুইটা থাকে আমেরিকায়। উনি চিন্তা করছেন, এই একটা সহজ জিনিস আছে। উনি ওটা উনার ব্যক্তিগত স্বার্থে বলেছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় চাবেন। আর কিছু না। তিনি ওখানে দেখাবেন, আমি দেশে গেলে আমাকে মেরে ফেলবে।

দেখবেন দুই চারদিনের মধ্যে এটা উনি বলবেন। আরেকটা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। ওটা অন্য একটা দেশ। ছোট একটা দেশ। যারা সারা পৃথিবীর অন্য জায়গায় হামলা করে। ওদেরও কিছু হাত-টাত আছে এখানে। বুঝি আরকি। প্রিয়া সাহা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, উনি বলতে গিয়ে সংখ্যা একটু বেশি বলে ফেলছেন। তিন কোটি ৭০ লাখ না হয়ে যদি শুধু ৭০ হইতো, জিনিসটা খাইতো। ২০০১ এর পরতো ২০-৫০ লাখ লোক বিএনপি-জামাতের অত্যাচারে দেশ ছাড়ছে, ৭৫ এর পর ছাড়ছে, ৭১ এর পর ছাড়ছে না? ওটা যদি তিনি সঠিক ভাবে বলতেন, তাহলে শ্রদ্ধার পাত্র হতেন না।

নয়ন বন্ডের মায়ের দাবির প্রেক্ষিতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে কোন বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এটা এক ধরণের প্রপাগান্ডা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আপনারা যেটাকে বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার বলছেন? তারা (অপরাধী) সকলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চ্যালেঞ্চ জানিয়েছেন এবং দুই পক্ষের সংঘষের মাঝেই তারা নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী নয়ন বন্ডের মায়ের দাবি- ছেলেটা অপরাধী হলে আইনের হাতে তুলে দিতে পারত। তার বিচার হতো। আদালত যে শাস্তি দিত তা সে ভোগ করত কিন্তু তাকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলল। কেন তাকে মেরে ফেলা হল। সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ নয়ন বন্ডসহ অসংখ্য ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের এমন দাবি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনও বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়নি। আমি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি সরকার কখনও বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। এটা এক ধরনের প্রপাগান্ডা সরকারের প্রতি। মূলত বর্হিবিশ্বে সরকারে ভাবমূর্তি সংকটে ফেলানোর জন্যই এমন মিথ্যাচার। এসময় সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে যে সকল ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে সরাদেশব্যাপী।

প্রত্যেকটি ঘটনার মোটিভ অভিন্ন এবং হাইকোর্ট বলছে বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ড তারা পছন্দ করেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গতানুগতিক ভাষায় কথা বলেছেন, অপরাধীকে সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার পর, তাকে ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ওৎপেতে থাকা তার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির এক পর্যায়ে তার (অপরাধী) মৃত্যু হয়। এতে কি সন্দেহ হওয়ার যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে না?

এর জবাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এভাবে যদি আপনারা (সাংবাদিকরা) বলেন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অবিচার করা হবে। বহু ঘটনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত ও নিহত হয়েছেন। এটা কিন্তু দেশবাসী দেখেছে। এসময় সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ক্ষমা চেয়ে বলেন, পুরো দেশবাসী কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জনগণ ক্রসফায়ারকে সমর্থন করছে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উৎসাহী হয়ে পড়েছে। এটা কি এক সময় শাসন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না?

এর জবাবে মন্ত্রী পুনরায় একই কথা বলেন, সরকার বিচার বহিভূর্ত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছে। প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর (ক্রসফায়ার) ম্যাজিস্ট্রিট তদন্ত করে রিপোর্ট প্রধান করেন। এখানে কোন ধরনের অন্যায় করার সুযোগ নেই। এটা আপনার জানেন। আমরা আইনের শাসনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। বিচারের বাইরে সরকার কোন হত্যাকাণ্ডকেই সমর্থন করছে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা আপনাদের।

একি শোনালনে রানা দাশগুপ্ত!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ংকর মিথ্যাচার করেছেন বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা। সে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহল থেকে শুরু করে দেশের সকল মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একই সাথে প্রিয়ার সাহার এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হওয়ায় তার স্বামী মলয় সাহাকেও অতিদ্রুত চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেওয়া প্রিয় সাহার বক্তব্য বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নয় বলে জানিয়েছেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়িটি যে অগ্নিসংযোগ ধ্বংস করা হয়েছে, এটি সত্য। তার বাড়ি গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় প্রিয়া সাহা আমার সামনেই মন্ত্রীর (শ ম রেজাউল করিম) কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী তার সঙ্গে কথা বলতেও অনীহা প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনগড়া অভিযোগের ৮ দিন পর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর।

নির্মল রোজারিও, মঞ্জু ধর, ভদন্ত সুনন্দপ্রিয় মহাথেরো, নির্মল চ্যাটার্জী, মনীন্দ্র কুমার নাথ এবং অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল প্রমুখ।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ব্যক্তির বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায় বিশেষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে ঘৃণ্য অভিসন্ধি আমরা লক্ষ করেছি তা দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী গত ২১ জুলাই ২০১৯ তারিখে লন্ডন থেকে প্রিয়া সাহার কাছ থেকে ব্যাখ্যা জানার আগে তার বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা না নেয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের জীবন ও সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে আন্তরিক স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, এটিও অস্বীকারের উপায় নেই, বিগত দশ বছরে অন্তত এ সরকারের আমলে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় বেশ খানিকটা অগ্রগতি ঘটেছে। তবে শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি আইন বাতিল হয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সদিচ্ছায় প্রণীত হলেও তার বাস্তবায়ন আজো থমকে আছে। রাষ্ট্রীয় মৌলনীতি হিসেবে সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা।

ফিরে এসেছে ঠিক, তবে সাম্প্রদায়িক আবরণ ও আভরণ থেকে তা আজো মুক্ত হতে পারে নি। পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি আছে, তবে আরো অনেক কিছু করার বাকী আছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণের পাশাপাশি অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সমস্যাবলী নিরূপণে ও তা থেকে উত্তরণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্যে সংসদীয় কমিশন গঠনের দাবী জানান।

ক্রুজে আমার মেরিলিন মনরো মুহূর্ত’ (ভিডিও)

বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি অনেক দিন কোনো সিনেমাতে অভিনয় করছেন না। কিন্তু তাই বলে তিনি হারিয়েও যাননি। নাচের অনুষ্ঠানের বিচারক তিনি। এ ছাড়া নিজের রান্নার নতুন নতুন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার সবসময় অ্যাক্টিভ তিনি। শিল্পা কখন কোথায় কী করছেন সবকিছুই তার ভক্তদের নিয়মিত শেয়ার করে জানিয়ে দেন।

তবে এবার তিনি যা করলেন তা দেখে হেসে ফেললেন সকলে। এমনকি শিল্পাও হাসি আটকাতে পারলেন না। তিনি সমুদ্রের মধ্যে একটি জাহাজের উপর দাঁড়িয়ে মজা করে করছিলেন ফটোশুট। করছিলেন স্লো মোশনে ভিডিও। একটি অরেঞ্জ চেক ড্রেস পড়েছিলেন শিল্পা। সমুদ্রের হাওয়ায় উড়ে গেল শিল্পার জামাটি। সঙ্গে সঙ্গে ফটোশুট ছেড়ে নিজের পোশাক সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তিনি।

এই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেন অভিনেত্রী নিজে। ইনস্টাগ্রামের ওই পোস্টে শিল্পা ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার অনুরোধ করে লিখেছেন, ‘ক্রুজে আমার মেরিলিন মনরো মুহূর্ত।’ এ ছাড়া শিল্পা তার ফিটনেসের ভিডিও শেয়ার করেন প্রায়ই। বলিউড এই অভিনেত্রীর বয়স এখন ৪৪, কিন্তু তার ফিটনেস দেখার মতো। শিল্পা জানিয়েছেন শুধু তিনিই নয়, তার পোষ্যও যথেষ্ঠ ফিটনেস ফ্রিক।

বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি অনেক দিন কোনো সিনেমাতে অভিনয় করছেন না। কিন্তু তাই বলে তিনি হারিয়েও যাননি। নাচের অনুষ্ঠানের বিচারক তিনি। এ ছাড়া নিজের রান্নার নতুন নতুন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার সবসময় অ্যাক্টিভ তিনি। শিল্পা কখন কোথায় কী করছেন সবকিছুই তার ভক্তদের নিয়মিত শেয়ার করে জানিয়ে দেন।

তবে এবার তিনি যা করলেন তা দেখে হেসে ফেললেন সকলে। এমনকি শিল্পাও হাসি আটকাতে পারলেন না। তিনি সমুদ্রের মধ্যে একটি জাহাজের উপর দাঁড়িয়ে মজা করে করছিলেন ফটোশুট। করছিলেন স্লো মোশনে ভিডিও। একটি অরেঞ্জ চেক ড্রেস পড়েছিলেন শিল্পা। সমুদ্রের হাওয়ায় উড়ে গেল শিল্পার জামাটি। সঙ্গে সঙ্গে ফটোশুট ছেড়ে নিজের পোশাক সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তিনি।

এই ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেন অভিনেত্রী নিজে। ইনস্টাগ্রামের ওই পোস্টে শিল্পা ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখার অনুরোধ করে লিখেছেন, ‘ক্রুজে আমার মেরিলিন মনরো মুহূর্ত।’ এ ছাড়া শিল্পা তার ফিটনেসের ভিডিও শেয়ার করেন প্রায়ই। বলিউড এই অভিনেত্রীর বয়স এখন ৪৪, কিন্তু তার ফিটনেস দেখার মতো। শিল্পা জানিয়েছেন শুধু তিনিই নয়, তার পোষ্যও যথেষ্ঠ ফিটনেস ফ্রিক।

‘কল্লা কাটা’ কবিতার গুজব রটানো সেই কবি কারাগারে!

‘কল্লা কাটা’ শিরোনামে কবিতা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রটানো সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সেই মাওলানা ও কবি মো. আলী আমজাদ আল আজাদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার বিকালে ডিজিটাল নিরাপক্তা আইনে মামলা দায়েরের পর ধর্মপাশা থানা পুলিশ তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন মঞ্জুর না করে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

আলী আমজাদ আল আজাদ ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর ঘুলুয়া গ্রামের রংপুরহাটির মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে ও পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার দুলিয়া জামে মসজিদের ইমাম।

থানা পুলিশ ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ও স্থানীয় সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীগণ সোমবার রাতে জানান, ‘কল্লা কাটা’ শিরোনামের এক কবিতা লিখে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটান।

এর মাধ্যমে সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে মাওলানা ও কবি মো. আলী আমজাদ আল আজাদকে ধর্মপাশা থানা পুলিশ সোমবার সকালে আটক করে।

এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সোমবার রাতে ধর্মপাশা থানার ওসি মো. এজাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আজাদ হঠাৎ করে কবি বনে গিয়ে গত শনিবার দুপুরে তিনি তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘কল্লা কাটা’ শিরোনামে একটি কবিতা লিখে তা পোস্ট করেন।

তিনি আরও বলেন, কবিতাটিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান সরকার, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদ্মা সেতু, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমসহ নানা বিষয় জড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর অবস্থা তৈরি করার জন্য কবিতাটিতে নানা আপত্তিকর বিষয় তুলে ধরা হয়।

এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এমন গুজব রটানোর খবর জানতে পেরে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে আজাদকে ধর্মপাশা পশ্চিমবাজার থেকে আটক করা হয়। -যুগান্তর

ট্রাফিক সার্জেন্টের মৃত্যুতে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া নিহতের ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন তার বাবা। খবর ইউএনবি’র।

যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া
মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিহত কিবরিয়ার বাবার পক্ষে আইনজীবী মো. ফাইজুল্লাহ এই আবেদন করেন।

রিটে যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যান চাপায় ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে তা জানতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আগামী রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আইনজীবী।

গত ১৫ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠি জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্বপালন করছিলেন কিবরিয়া। এ সময় যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান চাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কিবরিয়াকে রাজধানীতে এনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১৬ জুলাই মারা যান তিনি।

ধর্মীয় অনুশাসন মানলে হার্ট ভালো থাকবে : ডা. দেবী শেঠি

সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখলে ও ধর্মীয় অনুশাসন ঠিকঠাক মেনে চললে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের হার্ট ভালো থাকবে বলে জানিয়েছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি। শনিবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পৃথিবীর খ্যাতনামা কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠী বলেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে ভালো রাখে। আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, ধার্মিক হোন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। আপনাকে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হবে না, শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মানুন। প্রতিদিন কাজ শুরু করার আগে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। কাজ শেষে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন। এগুলো (ধর্মীয় অনুশাসন) খুবই সহজ, এতে আপনি ভালো থাকবেন।’

বাংলাদেশ ও ভারতে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সের লোকেরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন বলেও জানান দেবী শেঠী। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে জন্ম নেওয়া এ ডাক্তার স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখায় নিজ দেশ ও সারা বিশ্বে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের হৃদরোগ হচ্ছে। যাদের বয়স ৬০-৬৫ বছরের বেশি। কিন্তু এ অঞ্চলে (উপমহাদেশ) যুবকদের হৃদরোগ হচ্ছে।

৪০ বছরের আগে পরে হৃদরোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। ডা. দেবী শেঠী বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় সন্তানেরা বৃদ্ধ বাবা-মাকে হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। এ অঞ্চলে বৃদ্ধ বাবা-মারা সন্তানের হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে ছুটেন। তিনি জানান, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ ব্যায়াম করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, তেলে ভাজা খাবার হৃদরোগ ত্বরান্বিত করে। যে কোনো ধরনের জাঙ্ক ফুড হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ধুমপান হৃদরোগকে আমন্ত্রণ জানায়।

পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।