হঠাৎ কোকোর স্ত্রী শর্মিলা ঢাকায়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দম্পতির ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি লন্ডন থেকে ঢাকা এসেছেন।

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় যান। সেখানেই তিনি অবস্থান করবেন বলে জানা যায়।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, শর্মিলা রহমান সিথি ১৫ দিন দেশে থাকবেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি তার মায়ের চিকিৎসা ও শাশুড়ি খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেবেন। তবে দলের রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবেন না কিংবা দলের কোনো নেতাদের সঙ্গে দেখাও করবেন না বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, জিয়া পরিবারের বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। প্রয়াত কোকোর পরিবারের সদস্যরাও একই এলাকায় বসবাস করছেন কিন্তু আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। কোকোর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে চলে যান। এখন তারা সেখানেই বসবাস করছেন।

হঠাৎ কোকোর স্ত্রী শর্মিলা ঢাকায়

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দম্পতির ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি লন্ডন থেকে ঢাকা এসেছেন।

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় যান। সেখানেই তিনি অবস্থান করবেন বলে জানা যায়।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, শর্মিলা রহমান সিথি ১৫ দিন দেশে থাকবেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি তার মায়ের চিকিৎসা ও শাশুড়ি খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেবেন। তবে দলের রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবেন না কিংবা দলের কোনো নেতাদের সঙ্গে দেখাও করবেন না বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, জিয়া পরিবারের বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। প্রয়াত কোকোর পরিবারের সদস্যরাও একই এলাকায় বসবাস করছেন কিন্তু আলাদা ফ্ল্যাটে থাকছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। কোকোর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথি দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে লন্ডনে চলে যান। এখন তারা সেখানেই বসবাস করছেন।

আড়াই লাখ টাকা হেলিকপ্টার ভাড়ায় দু’লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ

বন্যাকবলিত লালমনিরহাটে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করলেও এলাকায় দেখা যাচ্ছিলো না সদর আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে। এ নিয়ে খোদ দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যেই চাপা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণে গিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কাদের।

এই আলোচনা হচ্ছে ভাড়ায় হেলিকপ্টার নিয়ে গিয়ে ত্রাণ বিতরণের কারণে। বলা হচ্ছে, জিএম কাদের আড়াই লাখ টাকারও বেশি ভাড়ায় হেলিকপ্টার নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় এলেও দুর্গতদের (লালমনিরহাট ও পার্শ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রামে) যে ত্রাণ দিয়েছেন, তা সাকুল্যে দুই লাখ টাকার বেশি হবে না। অনেকে এটাকে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ প্রবাদের উদাহরণও বলছেন।

শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে কুড়িগ্রাম যাওয়ার পর দুপুর ১টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কাজিচওড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছায় কাদেরকে বহনকারী হেলিকপ্টার। সেখানে ত্রাণ বিতরণ শেষে বিকেল সোয়া ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে আবার হেলিকপ্টারযোগে রওয়ানা হন কাদের। হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল।

স্থানীয়রা জানান, ১০ জুলাই থেকে প্রায় ১২-১৫ দিন বন্যায় পানিবন্দি ছিল লালমনিরহাট সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলা পাড়ের কয়েক হাজার পরিবার। তখন থেকেই বন্যার্তদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ চলছিল। এতদিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় না এলেও শনিবার আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কাদের। যদিও বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় দুই সপ্তাহ আগেই দুর্গতরা ঘরে ফিরে গেছেন।

কাজিচওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে হেলিকপ্টারযোগে নামার পর প্রশাসনের গাড়িতে করে নিকটস্থ রাজপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে যান জিএম কাদের। সেখানে ৫০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন কাদের। যদিও সেই চাল পরিমাপ করে অনেকেই ৮-৯ কেজি করে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। একইভাবে চাল দেওয়া হয়েছে কুড়িগ্রামের ৫০০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝেও।

তিস্তা চরাঞ্চল রাজপুর ইউনিয়নের চেংড়ার চরের এনামুল হক (৫২) ও ফারুক মিয়া (৪৮) বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৫-১৬ দিন বানের পানিত ভাসলেও এমপির দেখা পাই নাই। পানি নামি যাওয়ার ১৫ দিন পর উড়োজাহাজোত (হেলিকপ্টার) চরি (চড়ে) এমপি আসিল। ভাবচিনো অনেক তেরান পামো (ভাবলাম অনেক ত্রাণ পাবো)। ১৫০ টাকা নৌকা আর ভ্যান ভাড়া দিয়ে আসিয়া তেরান পাইনো ২৫০ টাকার চাউল।

এর চেয়া কামলা (দিনমজুরি) দিলে সাড়ে তিনশ’ টাকা পাইনো হয়। হামার দুঃখ কায়ো বুঝে না বাহে।’ একই এলাকার চরখলাই ঘাটের হযরত আলী (৫৫) বলেন, ‘এমরা আইসে মানুষোক দেকপার (লোক দেখানো)। ২৫০ টাকার চাউল নিবার জন্য খরচ হইলো ২০০ টাকা। খাজনার চেয়া বাজনা বেশি বাহে।’

আলাপ করলে জি এম কাদেরকে বহনকারী সংশ্লিষ্ট এভিয়েশনের হেলিকপ্টারটির পাইলট ক্যাপ্টেন ইসলাম ও রেজা বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে আসতে সোয়া ঘণ্টার মতো লাগে একটি হেলিকপ্টারের। এ বাহনের ফ্লায়িংয়ের ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি লাখ টাকা এবং অপেক্ষা ঘণ্টাপ্রতি ৫ হাজার টাকা ধরা হয়। তবে এই ট্রিপের (জিএম কাদেরের ভাড়া) খরচ ঢাকায় গিয়ে নির্ধারণ করা হবে।

পাইলটের তথ্য অনুসারে, আসা-যাওয়া ধরলে আড়াই ঘণ্টায় ভাড়া আসে আড়াই লাখ টাকা। যেহেতু এই হেলিকপ্টার লালমনিরহাটে আসার আগে কুড়িগ্রামেও গিয়েছে এবং সেখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করেছে, সেখানেও সময় গণনা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাড়তি খরচ সেখানেও যোগ হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ শেষে সোয়া ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে হেলিকপ্টারটি। সেক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা গেছে অপেক্ষায়ও।

ত্রাণ বিতরণস্থলে থাকা কয়েকজন বানভাসি বলেন, দুই জেলায় ৫০০ করে ১০০০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে ১০ হাজার কেজি (প্রায় ১০ টন) চাল দেওয়া হয়েছে যদি ধরা হয়, তাহলে খোলা বাজারে এ প্রকারের চাল প্রতিটন ২০ হাজার টাকা ধরলে খরচ আসে দুই লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই জেলা মিলিয়ে জিএম কাদের ত্রাণ দিয়েছেন দুই লাখ টাকার। এই দুই লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণের জন্য তিনি হেলিকপ্টার ভাড়াই দিয়েছেন আড়াই লাখ টাকার বেশি।

হাফ প্যান্টে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন জয়া!

জয়া আহসান শুধু বাংলাদেশ নয় কলকাতাতেও জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন। নিজের বয়স কখনই বলেন না তিনি। জয়ার বয়স কত জিজ্ঞাস করলে তিনি শুধু মিষ্টি হাসি উপহার দেন। গত শুক্রবার (২ আগস্ট) সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি ছবি শেয়ার করে সবার নজর কেড়েছেন জয়া।

সেখানে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে হাফ প্যান্ট পরনে। অফ হোয়াইট হাফ প্যান্ট ও সাদা শার্টে ফটোশুটের ছবিটি দিয়ে তিনি চমকে দিলেন সকলকে। জয়াকে বেশিরভাগ শাড়িতেই দেখা যায়। ওয়েস্টার্ন পোশাকের জয়াও দৃষ্টিনন্দন। তবে শর্ট প্যান্ট পরা জয়া এবার নিজের আগের চেনা রূপটাকে ভেঙে দিতে চাইলেন যেন।

এদিকে টলিউডে একের পর এক ছবি করে চলেছেন জয়া। সর্বশেষ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কণ্ঠ’ ছবিতে একজন জনপ্রিয় ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে আরও কিছু চমৎকার গল্পের ছবির চমক জাগানিয়া চরিত্রে।

জয়া আহসান শুধু বাংলাদেশ নয় কলকাতাতেও জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন। নিজের বয়স কখনই বলেন না তিনি। জয়ার বয়স কত জিজ্ঞাস করলে তিনি শুধু মিষ্টি হাসি উপহার দেন। গত শুক্রবার (২ আগস্ট) সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি ছবি শেয়ার করে সবার নজর কেড়েছেন জয়া।

সেখানে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে হাফ প্যান্ট পরনে। অফ হোয়াইট হাফ প্যান্ট ও সাদা শার্টে ফটোশুটের ছবিটি দিয়ে তিনি চমকে দিলেন সকলকে। জয়াকে বেশিরভাগ শাড়িতেই দেখা যায়। ওয়েস্টার্ন পোশাকের জয়াও দৃষ্টিনন্দন। তবে শর্ট প্যান্ট পরা জয়া এবার নিজের আগের চেনা রূপটাকে ভেঙে দিতে চাইলেন যেন।

এদিকে টলিউডে একের পর এক ছবি করে চলেছেন জয়া। সর্বশেষ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কণ্ঠ’ ছবিতে একজন জনপ্রিয় ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে আরও কিছু চমৎকার গল্পের ছবির চমক জাগানিয়া চরিত্রে।

পুলিশের চাকরি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ এএসআই রবিউল

রবিউল ইসলাম প্রায় একযুগ ধরে পুলিশ বিভাগে আছেন। এই রবিউল ছোটবেলায় বাবা হারান। তখন থেকে তাকে বড় করেন চাচা আব্দুর রাজ্জাক। সেই চাচা-ফুফুদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন রবিউল। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করলে, প্রভাব খাটিয়ে চাচা রাজ্জাকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৫দিন জেলও খাটান।

রবিউল বর্তমানে পুলিশ সদর দফতরের সংস্থাপন শাখার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পুলিশের নিয়োগ ও বদলির বিষয়গুলো দেখভাল করে এই শাখা। কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০৭ সালে। পরে পদোন্নতি পেয়ে হন এএসআই। দুর্নীতি করে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকার জমির (বসতভিটা, বাগান ও দোকান ঘর) মালিক হয়েছেন রবিউল।

যশোরের কেশবপুর ও রাজধানীর কামরাঙ্গীর চরে মোট পাঁচটি জমির মালিক তিনি। এর দু’টি কামরাঙ্গীর চর ও তিনটি যশোরের কেশবপুরে। এরমধ্যে চারটি নিজের নামে, আরেকটি কিনেছেন শ্বশুর ও ভগ্নিপতির নামে। এছাড়া, পুলিশ সদর দফতরে ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এরই মধ্যে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকে রবিউলের নামে অভিযোগ জমা হয় গত ২০ জুন।

রবিউলের চাচা আব্দুর রাজ্জাক জানান, “পুলিশ সদরে বড় বড় অফিসারদের সাথে তার খাতির, এই প্রভাব দেখিয়ে সম্পদ অর্জন করেছে রবিউল। এনিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও স্থানীয় পুলিশ আমাদের সহায়তা না করে উল্টো আমাদের হয়রানি করে। এখন পুলিশ সদর ও দুদকে অভিযোগ জানিয়েও দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। উল্টো অভিযোগ জানিয়ে জেল খেটে পুরো পরিবার আমরা বাড়িছাড়া। ”

রবিউলের অবিশ্বাস্য সম্পদ: ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে প্রায় দুই কাঠা জমি। এগুলোর দলিলে দাম কম দেখানো হলেও দুই খন্ড জমির বর্তমান বাজার মূল্য ৮০ লাখ। যশোরের কেশরপুর পৌর এলাকায় আছে ৩ শতাংশ জমি, যা কেশবপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিস থেকে দলিল হয় ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। জমির বর্তমান বাজার মূল্য ২১ লাখ টাকা। কেশবপুর পৌর এলাকায় রবিউলের রয়েছে আরও প্রায় ১১ শতাংশ জমি।

দলিলে জমির দাম দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই জমির বাজার বর্তমান বাজার মূল্য ৪৮ লাখ টাকা। এছাড়া, কেশবপুর পৌর এলাকায় বাগান ও স্থাপনাসহ দোকান কেনা হয়েছে এএসআই রবিউলের শ্বশুর মো. শহীদুল ইসলাম ও ভগ্নিপতি মো. ইয়াছিন আলীর নামে। এসবের বর্তমান বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। রবিউলের শ্বশুর শহীদুল পেশায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দফতরি এবং তার ভগ্নিপতি ইয়াছিন আলী পেশায় কৃষিজীবী। তাদের কেউই আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলনা তারাও এখন বহু টাকা-পয়সা ও জমির মালিক।

দুদক ও পুলিশের সদর দফতরে রবিউলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ: বিউলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ব্যবসা ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে দুদক ও পুলিশ সদর দফতরে।

অভিযোগে বলা হয়- কেশবপুরের মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের ঘনিষ্ঠ রবিউল। লতিফ একাধিকবার গ্রেফতার হলেও তাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন রবিউল। কেশবপুরের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন রবিউল। পুলিশ সদর দফতরে চাকরির সূত্রে কেশবপুরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন। তদবির বাণিজ্য করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মঙ্গলকোটের এনামুল মাস্টারের ছেলে মাসুম হোসেন সরদারকে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কনস্টেবল মাসুম বর্তমানে ঝিনাইদহে কর্মরত আছেন।

শিকারপুরের আজিজার গাজীর ছেলে তরিকুল হোসেনকে কনস্টেবল পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন রবিউল। এজন্য আজিজারের কাছ থেকে নিয়েছেন ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তরিকুল কর্মরত আছেন চুয়াডাঙ্গায়। দেউলি গ্রামের চিনু মোড়লের ছেলে মনিরুল ইসলাম মনিরকে কনস্টেবল পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে নিয়েছেন ১২ লাখ টাকা। মনির কর্মরত আছেন খুলনায়।

আটন্ডা গ্রামের ফকির সরদারের ছেলে বুলুকে ডাকাতির মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য নিয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। পুলিশের চাকরি ও মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নামে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আফসার গাজীর কাছ থেকে নিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। এসব অভিযোগের ব্যাপারে যমুনা টেলিভিশন থেকে সপ্তাহ ধরে তার দুই নম্বরে কল দেয়া হলেও ফোন ধরেননি রবিউল। সূত্রে- যমুনা টেলিভিশন

খালেদা জিয়া ছিলেন জেনারেল নিয়াজির মেয়ের মতো: অলি আহমদ।

খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানি সেনারা সম্মান করেছে কিন্তু বাংলাদেশে তিনি সম্মান পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকালে তেজগাঁওয়ে এলডিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী খালেদা জিয়াকে কেন এত সম্মান দিয়েছিল ’— এই নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে উল্লেখ করে অলি আহমেদ বলেন, পাকিস্তানি সেনারা খালেদা জিয়াকে সম্মান দেওয়ার কারণ হলো, সেখানে কর্নেল নিয়াজি। যিনি ছিলেন জিয়াউর রহমানের প্রথম অধিনায়ক। প্রথম অধিনায়ক হলেন বাবার মতো আর সেই ব্যাটালিয়নের অন্যরা হলেন সন্তানের মতো। অফিসারদের স্ত্রীরা ছিলেন তার মেয়ের মতো।’

সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকা হয়তো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করে অলি আহমদ বলেন, ‘কারণ তাদের নির্বাচিত করেছে ২ লাখ পুলিশ। এখানে মানুষের কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না। যে কারণে এমপিরা টেলিফোন করলে এসব পুলিশ কর্মচারী ধরে না। তারা বলে এমপিদের টেলিফোন ধরবো কেন? তারা তো মানুষের ভোটে নির্বাচিত নন, আমাদের বানানো এমপি। আজকে রাজনীতিবিদের সম্মান নেই।’

তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনীর লোকেরা মুক্তিযুদ্ধ শুরু না করলে কেউ মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারতেন না। এ প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, ‘লাঠিসোঁটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয় না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয় না। লালদিঘির মাঠে বক্তব্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয় না। মুক্তিযুদ্ধের জন্য সশস্ত্র বিপ্লব লাগে। এই বিপ্লব আমরা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ৮ম রেজিমেন্ট শুরু করেছিলাম। সেই সম্মানটুকুই খালেদ জিয়াকে দেখানো উচিত।

কারণ, তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন।’ জনগণের বসে থাকার সময় শেষ উল্লেখ করে অলি আহমদ বলেন, ‘দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনও কর্মকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না। আপনারা ছোট ছোট মিছিল-মিটিং করুন। খালেদার মুক্তি ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হোন।’

শেখ হাসিনার বিদেশ সফরের সমালোচনা করে অলি আহমেদ বলেন, ‘দেশে ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি, অথচ প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি কেন বিদেশে অবস্থান করছেন, দেশের মানুষ তা জানেন না।’ বিদেশ থেকে ডেঙ্গুর ওষুধ আনার পক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে অলি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী থাকলে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ নিয়ে আসতাম।’

অলি আহমেদ বলেন, ‘আগামী ৬ আগস্ট জাতীয় মুক্তিমঞ্চের ব্যানারে দেশের সামগ্রিক বিষয়ে সেমিনার করা হবে। এখানে অর্থনীতি, রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ওপর বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক।

এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনডিপির সভাপতি আবু তাহের, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, জাতীয় দলের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কল্যাণ পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ।

আজ মিন্নির জামিন নামঞ্জুর

বরগুনায় সদর কলেজ গেটের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় কারাবন্দি স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য শোনার পর বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আইনজীবীরা জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আদালতে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষ জামিন আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। এরপর বিচারক দুই পক্ষের শুনানি শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে তলব করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে বলেন। পরে তথ্যগুলো যাচাই ও পুনরায় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আজ মিন্নিকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। মিন্নির আইনজীবী মাহাবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ১৫ জন স্বীকারোক্তি দিলেও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চাচ্ছেন। তার দাবি, মিন্নিকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিওয়া হয়েছে।

মিন্নির আরেক আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জানান, আজ মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য আইন ও শালিশ কেন্দ্র থেকে অ্যাড. আব্দুর রশিদ, অ্যাড. নিলা গোস্বামী, লিগ্যাল এইড প্রধান ঢাকা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মো, ফারুক আহম্মেদ, ব্লাস্টের সমন্বয়ক অ্যাড. শাহিদা তালুকদার।

এ্যাডভোকেট এ জেড এম শহীদুজ্জামানসহ প্রায় ৩০ জন আইনজীবী বরগুনায় আসেন। উল্লেখ্য, দুপুরের দিকে জামিন শুনানি শুরু হয়।জামিনের জন্য আদালতে শুনানিতে মিন্নির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম, সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের, ব্লাস্ট ও আসকের অ্যাডভোকেট দীপক চন্দ্র হালদার।

অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুর রশীদ, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমানসহ প্রায় ৩০ জন আইনজীবী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সঞ্জিব দাস, অ্যাডভোকেট মজিবুল হক কিসলুসহ আরো অনেকে।

নয়ন বন্ডকে ১২ লাখ টাকা কে দিয়েছিল, প্রশ্ন মায়ের?

সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। ১৬ জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মিন্নিকে ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ১৫ জনের সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২ জুলাই এই মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চারজন গ্রেফতার হয়নি।

তারা হচ্ছেন মুসা, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রায়হান ও রিফাত হাওলাদার। এদিকে রিফাত হত্যা মামলার অভিযুক্ত হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া কামরুল আহসান সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সকালে আবেদনের পর দুপুরে সাইমুনের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। পরে শুনানি শেষে আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইয়াসিন আরাফাত সাইমুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাইমুনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের। নয়ন ও মিন্নির সম্পর্ক প্রমাণে ২০ আলামত জব্দ করেছে পুলিশ! বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়নের বাড়ি থেকে অন্তত ২০ ধরনের আলামত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি, মিন্নির ব্যবহৃত লিপস্টিক, চিরুনি, চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল, কামিজ, চুলের ক্লিপ, ফেসপাউডার, চোখের ভ্রুতে ব্যবহৃত আই ব্রো, সিমকার্ড এবং কয়েকটি মোবাইল ফোনসেট।

নয়নের বাড়ি থেকে আলামত সংগ্রহের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা বেশকিছু আলামত নয়নের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করেছি। বরগুনা পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা ও বিয়ে প্রমাণ করতেই এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। নয়নের বাড়ির চিরুনিতে আটকে থাকা মিন্নির চুল ও তার ব্যবহৃত কয়েকটি জিনিস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

সেই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, মিন্নি যেহেতু বারবারই নয়নের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন তাই কিছু অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করা গেলে রিফাত হত্যার জট অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। অকাট্য প্রমাণ হাতে এলে তখন প্রমাণ করা সহজ হবে ঘটনার পর নিজেকে আড়াল করতেই কিভাবে মিন্নি একের পর এক মিথ্যা কথা বলে গেছেন।

এগুলোর মধ্যে একটি কামিজ, মিন্নির লেমিনেটিং করা একটি ছবি, চুল পেঁচানো চিরুনি ও এম প্লাস, এন খোদাই করা সামুদ্রিক ঝিনুক রয়েছে। এই ঝিনুকটি মিন্নি ও নয়ন কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়ে সংগ্রহ করেছিলেন। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নয়ন বন্ডকে ১২ লাখ টাকা কে দিয়েছিলো, নয়নের মায়ের প্রশ্ন?

রিফাত শরীফ হত্যার মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও তাকে নিয়ে আলোচনা শেষ নেই। এবার তার মা দাবি করেছেন তার ছেলেকে একটি প্রভাবশালী মহল ষড়যন্ত্র করে মেরে ফেলেছে। তিনি বলেন, কে হ্যারে বন্ড বানাইলো, জিরো জিরো সেভেন বানাইলো, তোমরা খুইজা বের করো। বরগুনা শহরের ডিকেপি রোড এলাকায় নিহত সাব্বির আহমেদ নয়নের (নয়ন বন্ড) বাড়িতে বসে এসব কথা বলেন তিনি।

নয়নের মা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে দোষী, এটা আমি জানি। কিন্তু সে-তো একদিনে নয়ন বন্ড তৈরি হয়নি। তাকে তৈরি করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল তাকে ব্যবহার করার জন্য নয়ন বন্ড হিসেবে তৈরি করেছে। কোন প্রভাবশালী মহল জানতে চাইলে শাহিদা বেগম বলেন, তা ঠিক বলতে পারবো না। তবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তার মুখ থেকে যদি প্রভাবশালী মহলের সব অপকর্মের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়, সেই জন্যই।

তিনি বলেন, আমি টিভির হেড লাইনে পাথরঘাটা বইসা দেখছি, কেউ একজন কইছে আমার ছেলে সীমান্তের কাছে আছে। সেই ছেলে তিন দিন পর কুয়াকাটা এসে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় কীভাবে? তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তার হাতের নখ ও কান নাই। ওরা আমার বাবারে (নয়ন) মাইরা হালাইছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বেগম বলেন, আসল রহস্য আড়াল করার জন্য আমার ছেলেকে মাইরা ফ্যালা হইছে। আমার ছেলে তো খুনি ছিল না। সে মাদকসেবী ছিল। নিশ্চয়ই এর পেছনে অন্যকোনও কারণ আছে। তিনি আরো বলেন, নয়ন ভালো ছাত্র ছিল। কিন্তু ক্লাস টেন থেকে আস্তে আস্তে মাদকের জগতে প্রবেশ করে। আগে নয়ন বন্ড ১২ লাখ টাকাসহ ধরা পড়েছিলো। সে এত টাকা কোথায় পাইলো? কে দিলো? তোমরা খুইজা বের করো।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজির নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ওইদিন বিকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত শরীফ মারা যান। এ ঘটনায় পরদিন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি ছিল নয়ন বন্ড। এরপর গত ২ জুলাই ভোর রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় সে।

জেনে নিন-ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া সমাধান! (ছবিসহ)

গত কয়েকদিনে রাজধানীতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। সবার মধ্যে আতঙ্ক ডেঙ্গু নিয়ে। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দেখতে দেখতে প্রায় মহামারির রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগী ও এ রোগে মৃতের সরকারি আর বেসরকারি সংখ্যায় বিস্তর ফারাক। হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগী নিয়ে হিমশিম অবস্থায়।

তবে কিছু ঘরোয়া সমাধান আছে, যার মাধ্যমে সহজেই ডেঙ্গু থেকে বাঁচা যাবে। এক নজরে দেখে নিন ডেঙ্গু থেকে বাঁচার ঘরোয়া কিছু সমাধান-রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবেন যেভাবে: রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তজমাটে সাহায্য করে। ২০ হাজারের নিচে প্লাটিলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে। কোনো কারণে রক্তে প্লাটিলেট কমে গেলে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই প্লাটিলেটের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

কিছু খাবার আছে যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই সেসব খাবারের নাম। লেবুর রস: লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়। আমলকী: আমলকীতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডিন্ট আছে।

ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়। ডালিম: ডালিম রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর আয়রন রয়েছে যা প্লাটিলেট বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন ১৫০ মিলিলিটার ডালিমের জুস দুই সপ্তাহ পার করুন। ডালিমের রসের ভিটামিন দুর্বলতা দূর করে কাজে শক্তি দেবে।

অ্যালোভেরার রস: অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা উপকারী। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পেঁপে এবং পেঁপে পাতা: পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে।

ডেঙ্গু জ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেল পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্ত প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন। মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ: মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ডেঙ্গু হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ খাওয়াবেন না

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শনিবার তথ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্ষায় (এপ্রিল-অক্টোবর) ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় অধিক সতর্ক থাকুন। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে। অফিস, ঘর ও আশপাশে পানি জমতে দেবেন না। যে কোনো পাত্রে জমিয়ে রাখা বা জমে থাকা পানি ৩ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। যথাসম্ভব লম্বা পোশাক পরিধান করুন। দিনে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও মশারি ব্যবহার করুন।

তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দানা ইত্যাদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ হলেও সাম্প্রতিককালে এর ব্যতিক্রম পাওয়া যাচ্ছে। জ্বরে প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ান।

এ ছাড়া জ্বর হলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ও ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা করুন। জ্বর ভালো হওয়ার পরও ডেঙ্গুজনিত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। বাসস

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। শনিবার তথ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্ষায় (এপ্রিল-অক্টোবর) ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় অধিক সতর্ক থাকুন। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে। অফিস, ঘর ও আশপাশে পানি জমতে দেবেন না। যে কোনো পাত্রে জমিয়ে রাখা বা জমে থাকা পানি ৩ দিনের মধ্যে পরিবর্তন করুন। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। যথাসম্ভব লম্বা পোশাক পরিধান করুন। দিনে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও মশারি ব্যবহার করুন।

তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দানা ইত্যাদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ হলেও সাম্প্রতিককালে এর ব্যতিক্রম পাওয়া যাচ্ছে। জ্বরে প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ান।

এ ছাড়া জ্বর হলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ ও ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা করুন। জ্বর ভালো হওয়ার পরও ডেঙ্গুজনিত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করুন। বাসস