তারেকের হ্যা, খালেদার না

বিএনপির বহিস্কৃতদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মত ভিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন একতরফা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। তাদের ভাষায় নির্বাচনে জনগনের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। সরকার জনগনের অধিকার রক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে, কাজেই তারা ঐ নির্বাচনের পর ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। সেই প্রেক্ষিতে তারা উপজেলা নির্বাচন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত লংঘন করে বিএনপির প্রায় ১৬৪ জন উপজেলায় অংশগ্রহণ করে এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যারা উপজেলা নির্বাচন করেছিল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়। এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে প্রায় ১১৪ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরো অন্তত ৩৪ জনকে বহিস্কার করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বহিস্কারাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এটা নিয়ে মত ভিন্নতা ছিল, তা সত্বেও দলের নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই বহিস্কারাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যেহেতু সাংগঠনিকভাবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। কাজেই যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা স্পষ্টভাবে বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লংঘন করেছে, এক্ষেত্রে তাদের বহিস্কার ছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না।

বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দাবি করেছেন যে, তারেক জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সারাদেশে এই বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক জিয়া বলেছেন দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী। এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্যই উপজেলা নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এই বহিস্কারাদেশের ফলে যেটা হয়েছে, ওই এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে ধস নেমেছে। ও এলাকায় বিএনপির অন্যান্য কর্মীরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং তাঁরাও বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে।

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং তিনি কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে বহিষ্কারাদেশ যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিএনপির একজন নেতা দাবী করেছেন যে, বেগম জিয়ার চিকিৎসক ডঃ মামুনের মাধ্যমে প্রেরিত এক বার্তায় বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যখন আমরা সংস্কারপন্থিদের দলে নিচ্ছি, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে তাঁদের আমরা দলে নিচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে দলের তৃণমূলের নিবেদিত কর্মীদেরকে বহিষ্কারাদেশ ঠিক হয়নি।

তিনি মনে করেন যে, এর ফলে সংগঠনে ভুল বার্তা যাবে এবং এর ফলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, এখন কাউকে শাস্তি দেয়ার সময় না। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। বরং দলে বহিষ্কৃত হয়েছে তাঁদেরকে দ্রুত দলে ফিরিয়ে এনে দলীয় কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের বিভক্তি ও বিরোধ কাটিয়ে ওঠারও নির্দেশ দিয়েছেন বেগম জিয়া বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তারেক জিয়া এখন পর্যন্ত নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। মা পূত্রের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই হলো দেখার বিষয়।

সিনিয়র নেতাদের সরাতে কাজে দিচ্ছে তারেক রহমানের কৌশল!

তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন করছে বিএনপির একটি অংশ। দলে তারেকপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতরা কৌশলে খালেদা জিয়ার অনুসারীদের সরিয়ে দিচ্ছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমান আগামীতে বিএনপির একমাত্র নীতিনির্ধারক হবার বাসনা থেকেই দলের ভেতর প্রশ্নকারী এবং ক্ষমতার প্রশ্নে ঝামেলা সৃষ্টিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে চাইছেন না।

জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের বিপরীতে যারা ক্ষমতার দাবি করতে পারেন তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারেক রহমানের এই বিশেষ কৌশল। কৌশলে খালেদা জিয়া অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে বাঁকা পথে চলছেন তিনি, সঙ্গে নিঃশেষ করা হচ্ছে খালেদার শক্তিশালী অনুসারীদেরও।

কৌশলে ধরাশায়ী হয়ে এরই মধ্যে বিএনপিতে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানদের মতো সিনিয়র নেতারা। কারণ, এরা যদি তারেক অধ্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে, তাহলে তারেকের নেতৃত্বে ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাদের (খালেদা অনুসারীদের) তারেক অধ্যায়ের আগেই ব্যর্থতার কাতারে ফেলে দল ত্যাগে বাধ্য করতে সব ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া শক্তভাবে শুরু হয়েছে। এ কৌশলে ব্যর্থতার দায়ে স্থায়ী কমিটির বড় অংশ যেকোনো মুহূর্তে বাদ পড়লে তৃণমূলেও চাপ পড়বে না। দলে ভাঙনের পরিস্থিতিও তৈরি হবে না। কেননা, ইতোমধ্যে আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই ব্যর্থতার পরিচয় ও প্রশ্নের মুখে রয়েছেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র মতে, গোচরে-অগোচরে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমান সব সময় তার অনুগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আলাদা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক। কৌশলে কাজও হচ্ছে। কেননা, খালেদাপন্থী সেসব নেতারা এরই মধ্যে দলে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

লন্ডন বিএনপির একটি সূত্র বলছে, যেহেতু তারেক রহমান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি, ফলে খুব শিগগিরই তিনি দেশের রাজনীতিতে ফিরতেও পারবেন না। যেহেতু দেশে ফিরতে পারবেন না তাই স্বাভাবিকভাবেই দলে কর্তৃত্ব সিনিয়রদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং তার নেতৃত্বে ফেরাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দলে বিতর্কিত করছেন। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিএনপির তারেকপন্থী সংঘবদ্ধ চক্র।

পুত্রবধুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় জরিমানার টাকা ভাগবাটোয়ারা

সলঙ্গায় পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী সেই শ্বশুরের ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ভুক্তভোগীকেপ্রদান করে অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বররা। একই সঙ্গে পুত্রবধুকে তালাক, শ্বশুরকে গোসলকরিয়ে তওবা পড়ানো সহ পুরো গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় দিয়েছেন গ্রাম্য প্রধান মাতব্বররাগন।

এ ছাড়াও সালিশী বৈঠক বসার পূর্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার কথা বলে ৩০ হাজার এবং গ্রাম্য মেলার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেওয়াহয়েছে। ইজ্জত হরনকারীর ইজ্জতের মুল্য হিসেবে নির্ধারিত জরিমানার টাকা এভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সলঙ্গার সর্বমহলেনানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। জানাগেছে,সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়নের ভরমোহনী গ্রামের মনিরুজ্জামান মনির পুত্র নয়নের সাথে উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা গ্রামেরআইয়ুব আলীর কন্যার বিয়ে হয় প্রায় ৪ বছর আগে।

এদিকে বিয়ের পর থেকেই ঐ পুত্র বধুর শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো। এরই এক পর্যায়ে গত রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকারদিকে বশত বাড়ীতে কোন লোকজন না থাকার সুযোগে তাকে একা পেয়ে লম্পট শ্বশুর তার শয়ন ঘরে ঢুকে জোর পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে।

এ সময় লম্পট শ্বশুরের কবল থেকে ছুটে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গিয়ে চাচা শ্বশুর আব্দুল মান্নানের ঘরে আশ্রয় নেয় কিন্তু সেখানে গিয়েওলম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি আশ্রিত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঐ ভুক্তভুগীকে মারপিট করে ডান চোখে জখম করে এবং এ ঘটনা প্রকাশ করা হলেতাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে লোকজনের অপবাদ থেকে বাঁচার জন্য ঐ পুত্রবধু বিষ পান করে আতœহত্যার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে তার পিত্রালয়ের লোকজন এসে তাকেউদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতলে ভর্তি করে।

এ ঘটনা গ্রাম্য প্রধানের কাছে বিচার প্রার্থনা করা হলেও উল্টো তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি দৈনিক স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায়প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বরদের টনক নড়ে। শুরু হয় নানা দিকে দৌড় ঝাঁপ। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করাহলেও ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয় প্রধানমাতব্বরগন।

ফলে তারা কোন উপায় অন্ত না পেয়ে গত বুধবার গভীর রাতে গ্রাম্য প্রধান মাতব্বরগন একই গ্রামের পশু চিকিৎসক কাওছারের বাড়ীতে সালিশীবৈঠক বসায়। গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশী বৈঠকে পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী লম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনির ২লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রকাশ্যে জরিমানা, গোসল করিয়ে তওবা পড়ানো ও গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় ঘোষনা করা হয়।

এদিকে সালিশী রায়ের ধার্যকৃত জরিমানার টাকার মধ্য থেকে ভুক্তভোগীকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে তাকে তালাক দিয়ে বিদায় করেদেওয়া হয়েছে। অপর দিকে জরিমানার অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান, পশু চিকিৎসক কাওছার হোসেন, গোলামমোস্তফা, মিলন, হান্নান ও মান্নানসহ অন্যান্য মাতব্বরগন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। সেই সাথে গ্রাম্য মাতববর চক্রটি প্রশাসন সহ মিডিয়াকর্মীদের নাম ভাঙ্গীয়া মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অপরদিকে সালিশী বৈঠকটি ধামাপাচা দেওয়ার জন্য গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান ও গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করারজন্য ৩০ হাজার ও গ্রামে মেলা বসানোর নামে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লম্পট মনিরুজ্জামানেরনিকট থেকে হাতিয়ে নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন ওই মাতব্বর চক্রটি।

প্রধানমাতব্বরদের পকেটে থাকা জরিমানার টাকা উদ্ধার ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসন সহ জাতীয় মানবিধিকারকমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

যেভাবে ৯৬ থেকে ৫২ কেজি হলেন সারা আলি খান!

বলিউড নবাব সাইফ আলী খানের কন্যা সারার অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। প্রথম ছবি ‘কেদারনাথ’-এই বহু প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাইফ-কন্যা সারা আলি খান। খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে রণবীর সিংহের বিপরীতে ‘সিম্বা’। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই সারার বৃহস্পতি তুঙ্গে।

কিন্তু প্রথম থেকেই এমন ত্বন্বী ছিলেন না সারা আলি খান। এক সময়ে সারার ওজন ছিল ৯৬ কেজি। এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগছিলেন সারা। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও সেই কথা বলেন সারা। হরমোন-জনিত এই রোগের জন্য ওজন কমাতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল সারাকে।

কিন্তু সেই পৃথুল চেহারা আর নেই। ত্বন্বী সারা এখন ওজন কমিয়ে ইয়ংস্টারদের নতুন সেনসেশন। এখন সারার ওজন মাত্র ৫২কেজি। তবে এই ওজন কমাতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি সারাকে। নিয়মিত ওয়ার্কআউট করার পাশাপাশি ডায়েটেও অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়েছে সারাকে।

জেনে নেওয়া যাক সারা সকাল থেকে রাতের ডায়েট চার্ট—

• ব্রেকফাস্ট- ইডলি অথবা পাউরুটি। সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ।

• লাঞ্চ- রুটি, ডাল, তরকারি, স্যালাড আর কিছু ফল

• সন্ধের স্ন্যাকস- সাধারণত উপমা খান।

• ডিনার— রুটি আর সবুজ তরকারি।

বলিউডের এই অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস!

অক্ষরা হাসান। বলিউডের একজন পরিচিত অভিনেত্রী। এছাড়া তিনি ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা কমল হাসানের মেয়ে। এই স্টার কিডের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস হয়ে গেছে অনলাইনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে ছবিগুলো।

অক্ষরা হাসানের ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে তাকে বেশ খোলামেলা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। যেগুলোতে তিনি কেবল অন্তর্বাস পরে রয়েছেন। সবগুলো ছবিই অক্ষরা নিজে তুলেছেন, অর্থাৎ সেলফি। কিন্তু এসব ছবি অক্ষরা নিজে কখনোই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেননি।

তাহলে কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো এই ছবিগুলো? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে। কেউ কেউ বলছে, অক্ষরা হয়ত তার ঘনিষ্ঠ কোনো মানুষকে ছবিগুলো পাঠিয়েছেন। সেখান থেকেই হয়ত এগুলো ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া তার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েও ফাঁস হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে নিজের এমন ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস হওয়ার বিষয় নিয়ে এখনো কিছুই বলেননি ২৮ বছর বয়সী অক্ষরা হাসান। শুধু তাই নয়, ছবিগুলো আসলেই অক্ষরা হাসানের কিনা, সেই ব্যাপারেও কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করছেন। কেননা আধুনিকতার এই সময়ে ফটোশপের কারসাজিতে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। হলিউডের অনেক তারকা অভিনেত্রীও এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ভারতের অভিনেত্রী অ্যামি জ্যাকসনের ফোন হ্যাক করেও তার ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস করে দেয় হ্যাকাররা।