শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেদের মেরে নিজেও আত্মহত্যা করলেন মা

হাঁটার ক্ষমতাও ছিল না, সম্পূর্ণভাবে বাড়িতেই বন্দি থাকতে হত তাঁদের। প্রায় ২০ বছর ধরে দুই ছেলেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন রাধাম্মা, তবে ফল হয়নি কিছুই
মানসিকভাবে ঠিক কতটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে এক মা তাঁর নিজের ছেলেদের মেরে ফেলে তারপর নিজেও আত্মঘাতী হতে পারেন, সেটা বেঙ্গালুরুর রাধাম্মার গল্প শুনলেই বোঝা যায়।

৫০ বছর বয়সি ডি রাধা ওরফে রাধাম্মা বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক্‌স সিটি এলাকায় থাকতেন তাঁর দুই ছেলে, ২৫ ও ২৮ বছর বয়সি হরিশ ও সন্তোষকে নিয়ে। তাঁরা দু’জনেই ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

হাঁটার ক্ষমতাও ছিল না, সম্পূর্ণভাবে বাড়িতেই বন্দি থাকতে হত তাঁদের। প্রায় ২০ বছর ধরে দুই ছেলেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন রাধাম্মা, তবে ফল হয়নি কিছুই। শহরেই ছোট দু’টি বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি, তার আয় থেকেই চলত সংসার। সম্প্রতি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

গত শনিবার তাঁদের বাড়ির দরজা কিছুটা খোলা থাকায় প্রতিবেশীরাই তিনজনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পরে জানা যায়, খাবারে বিষ মিশিয়ে তা ছেলেদের খাইয়ে, তারপর নিজেও সেই খাবারই খেয়ে আত্মঘাতী হন রাধাম্মা।

ডাক্তার দেখাতে অসুস্থ মাকে কাঁধে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন ছেলেটি!

গত কয়েকদিন যাবত তীব্র জ্বরে ভুগছেন মা। ডাক্তার দেখানোর জন্য এ সন্তান দুই কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন মাকে কাঁধে নিয়ে। আর এই ছবি দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়ে গেছে দেশের মানুষকে।নেত্রকোনার বিরিশিরি ইউনিয়নের সোমেশ্বরী নদীর চর থেকে মঙ্গলবার ছবিটি তুলেছেন বিবিসি’র সাংবাদিক আকবর হোসেন। ছবিটি তার ফেসবুক থেকে নেয়া।

‘ফজরের নামাজ কখনো ক্বাজা করি নাই, ১১৯ বছরেও আমি সুস্থ্য আছি, খালি চোখেই বই পড়ি’

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১৯বছরে পা দিলেও এক ব্যক্তি চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্বাভাবিকভাবে পত্রিকা পড়াসহ সব ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।যে বয়সে তার শেষ সম্বল লাঠি হাতে নিয়ে চলা ফেরা করার কথা ঠিক সেই সময়ে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করায় এলাকায় মানুষের কাছে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বার্ধক্য তাকে হার মানাতে পারেনি। বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি তার কাজকর্মে। তিনি কোন কাজে মনো নিবেশ করলেই আশ-পাশের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় শুরু করে দেন।

এমই এই সাদা মনের মানুষটির নাম মোঃ জোবেদ আলী। তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স হয়তো আারো বেশী হবে। তিনি উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর পুত্র। তাঁর স্ত্রী ফয়জুন নেছা(৮৭), ৩পুত্র ও ৪কন্যা সহ নাতি-নাতিনী সহ বহু বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহী রয়েছে।

৯জানুয়ারী বুধবার দুপুরে তাঁর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোর ঠিক বয়স মনে নেই, তবে আইডি কাডত যা আছে তার চেয়ে বেশী হবে। ছোট বেলা থেকে যুবক বয়সে তিনি নিজের দিঘীর মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, আবাদি বিতরী ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তৈল, রাসায়নিক সার বিহীন শাক-সবজি নিয়মিত খেতেন। এই বয়সে তাঁর ছোট খাট জ্ব্বর-সর্দি ছাড়া বড় ধরনের কোন রোগ ব্যধি হয় নাই।

শরীর এখনও তাঁর ভাল আছে। তিনি একশ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তাই তিনি নিয়মিত পবিত্র কুরআন-মাজিদ, পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। রাতে তিনি কুপি জ্বালিয়ে পবিত্র কুরআন-মাজিদ পড়েন।

তিনি আরো বলেন, কোনদিন ফজরের নামাজ আমি ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলোয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন। এজন্য আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া।

এ ছাড়া পত্রিকা পড়াই তার এখন প্রধান নেশা বলে জানান। এ বিষয়ে রাজারহাট ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই জোবেদ জ্যাঠোকে এই অবস্থায় দেখে আসছি। এখনো তিনি আগের মতোই চলাফেরা করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মরুভূমিতে আজো দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ

অবিশ্বস্য হলেও সত্যে। আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে যে গাছটির নিচে মহানবী (সা) বিশ্রাম নিয়েছিলেন জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় সেই গাছটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও সত্যি। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু দূরে একটি মৃতপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।
মোহাম্মদ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন।
আবু তালিব মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।

পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!

বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্মদ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী।তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী।

চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই।গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পিঠা বিক্রির আয়ে পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কেন হবে, প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গে দিন কয়েক আগে একাত্তর টিভির একটি ‘টক শো’ দেখছিলাম। আলোচনায় উপস্থাপিকা, আলোচকবৃন্দ বনাম লাইভ অতিথির মধ্যে যে ঝড়ো কূটতর্কের তেলেসমাতি দেখলাম তা বোধ করি না বলাই ভালো। টক শো’ উপস্থাপনা বা আলোচনায় কেউকেটাদের শালীনতার ঘাটতি থাকতেই পারে, এটা মেনে নিয়ে আমরা তা দেখছি। কিন্তু বিদ্যার স্বরস্বতীকে পানাডোবায় চুবিয়ে ভদ্র মহোদয়-মহোদয়াগণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের (!) সঙ্গে এভাবে দিস্তা দিস্তা ভুল তথ্য প্রদানে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন- সতিই তা আমার অজানা ছিল।

আলোচনা শেষে জ্ঞানীজনের বাণীতে জানলাম, মালয়েশিয়া, ইরাক, ইরান, মরোক্কো কোনোটাতেই ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং ভ্যাটিকান সিটি বাদে বিশ্বের আর কোনো দেশ রোমান ক্যাথলিসিজমের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না । ভুল করে অন্য দুই একটি দেশের নাম বললে ভালো হতো। কপাল খারাপ হলে যা হয়, যে কয়টা দেশের নাম এলো তাদের সব কয়টিতেই ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম বা অফিসিয়াল ধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। মালয়েশিয়া রাষ্ট্রীয় আচরণে যে ধর্মনিরপেক্ষ তা অস্বীকার করার জোঁ নেই, কিন্তু ইসলাম দেশটির সংবিধানস্বীকৃত ধর্ম।

ওদের সংবিধানের ৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “Islam is the religion of the Federation; but other religions may be practised in peace and harmony in any part of the Federation”। সংবিধানে ধ‍র্মের উল্লেখ থাকলেও একটি দেশ ধ‍র্মীয় আচরণে কতটা ধ‍র্মনিরপেক্ষ হতে পারে, মালয়েশিয়ার তার এক নিখাঁদ উদাহরণ। বাকীটুকু বলতে একটু শিবের গীত প্রয়োজন ।

পৃথিবীতে কতজন মানুষ এখন ধর্মে বিশ্বাসী- এ প্রশ্ন নিয়ে যত বেশি গবেষণা হয়েছে লব্ধ ফলে তথ্যের ফারাক তার চেয়েও অনেক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। এ প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে বিশ্বের ধর্মাবলীদের সংখ্যা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তাদের হিসাবে বর্তমানে বিশ্বের ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। অন্যদিকে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যায় বললে, বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি মানুষ এখন ধর্মে অবিশ্বাসী। ধর্মে অবিশ্বাসকে যদি ধর্ম বলা যায় তবে সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে নাস্তিক্য ধর্ম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম।

মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করে ,ইসলাম গ্রহণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশে নারীরা

পৃথিবীর আর পাঁচটা দেশের থেকে এদেশ আলাদা নয়। এখানেও রাত পোহালে দিন আসে। পাহাড়, নদী; সবই রয়েছে। কর্মসংস্থানেরও অভাব নেই। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে থাকেন প্রচুর মানুষ। তাদেরও হাজারো সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যা তারা কাটিয়ে ওঠেন। সবসময় খুশি থাকেন। আর সেই কারণেই জাতিসংঘের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘হাজার হ্রদের দেশ’ হিসেবে বিখ্যাত ফিনল্যান্ড। বাল্টিক সাগর-উপকূলের দেশটির অবস্থান ইউরোপের সর্ব উত্তরে। ফিনল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সুমেরুবৃত্তে অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলো দীর্ঘায়ত বনভূমি।

এগুলোকে ফিনল্যান্ডের ‘সবুজ সোনা’ বলা হয়। ১৯৫০ এর দশক পর্যন্ত ফিনল্যান্ড কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। সে হিসেবে বলা যায়, ফিনল্যান্ডে শিল্পায়ন কিছুটা দেরিতেই হয়েছে। পরবর্তীতে শিল্পোন্নয়নে অগ্রগতি পেয়ে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয় এটি। ঘন সবুজারণ্য ও স্বচ্ছ জলের স্রোতস্বিনীতে নয়নাভিরাম ফিনল্যান্ড। প্রাচীরঘেরা প্রাসাদ ও অত্যাধুনিক দালানকোঠার গভীর মিতালি দেখা যায় এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হেলসিঙ্কি। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের জরিপ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার স্বীকৃতি পেয়েছে।

ফিনল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দলে নুরুল হুদা স্বপন ও তন্ময় নামে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা এখন ক্রিকেট মাঠে ফিনিশদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আয়তন ও জনসংখ্যা ফিনল্যান্ডের এক দশমাংশই জলাশয় আর দুই তৃতীয়াংশ হচ্ছে বনভূমি। মোট আয়তন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৪৫ বর্গ কিলোমিটার। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, (জুলাই ২০১৮) জনসংখ্যা ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন জনসংখ্যা‍র দিক দিয়ে ফিনল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে মাত্র ১৬ জন মানুষ বসবাস করে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা লাখেরও বেশি।

এদের বেশিরভাগ অভিবাসী। তবে স্থানীয় ও ফিনিশ মুসলমানের সংখ্যাও রয়েছে বেশ। স্বাধীনতা ও ভাষা ফিনল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটিভ সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক থেকে স্বাধীনতা লাভ করেন। এর আগে দীর্ঘ সময় সুইডেনের শাসনাধীন ছিল দেশটি। সেজন্য ফিনিশদের সংস্কৃতিতে সুইডিশ ও রুশ প্রভাব রয়েছে। দাফতরিক ভাষা ফিনিশ (৮৭%) ও সুইডিশ (৫.২%)। ফিনল্যান্ডে ইসলামের আগমন ফিনল্যান্ডে সর্বপ্রথম ইসলামের আগমন ঘটে ১৮০৯ সালে। তখন কিছু তাতার মুসলিম সৈনিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ফিনল্যান্ডে পা রাখে। তাদের নেতৃত্বে ১৮৩০ সালে ফিনল্যান্ডে প্রথম মুসলিম সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯১৭ সালে রাশিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার পর সেই মুসলিমরা ফিনল্যান্ডে থেকে যায়। পরে ধারাবাহিকভাবে যুগোশ্লাভিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, তুরস্ক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে থেকে মুসলমানরা ফিনল্যান্ডে বসবাস করতে শুরু করে। ১৯২৫ সালে ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা সাইয়েদ উমর আবদুর রহিমের নেতৃত্বে সরকারের কাছে স্বীকৃতি চায়। সে বছরই দেশের সরকার ইসলাম ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালে সে দেশে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার জনের মতো। কিন্তু এরপর ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে সংখ্যা। মুসলমানদের সংখ্যা অন্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মহীনদের তুলনায় কম হলেও তাদের দৈনন্দিন জীবনাচার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক বন্ধন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে বহু ফিনিশ ইসলামে দীক্ষিত হচ্ছেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর ইসলাম গ্রহণকারী ফিনিশদের সংখ্যা গড়ে এক হাজার। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করে সংসার গড়ছে। পূর্ব ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে ক্রমেই মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে সরকারি হিসেবেই মুসলমানের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। এটি হলো একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংসদীয় গণতন্ত্র এ দেশের সুস্থ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। এর পশ্চিমে রয়েছে সুইডেন, উত্তরে নরওয়ে, পূর্বে রাশিয়া ও দক্ষিণে এস্তেনিয়া। এটি হলো একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংসদীয় গণতন্ত্র এ দেশের সুস্থ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি।

এর পশ্চিমে রয়েছে সুইডেন, উত্তরে নরওয়ে, পূর্বে রাশিয়া ও দক্ষিণে এস্তেনিয়া। মুসলমানদের মধ্যে বেশিরভাগ অভিবাসী হলেও আদিবাসীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে তাতার মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রথম সৈনিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ফিনল্যান্ডে আসে। সংখ্যায় কম হলেও মুসলমানদের শিকড় এ দেশের গভীরে প্রোথিত। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে প্রতি বছর ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা গড়ে এক হাজারের উপর, যাদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা বেশি। পরে তারা মুসলমান ছেলেদের বিয়ে করে সংসার পাতেন। মসজিদকেন্দ্রিক দাওয়াতি তৎপরতা পরিচালিত হয় ফিনল্যান্ডে।

বড় বড় মসজিদের সঙ্গে পাঠাগার, কমিউনিটি হল, পবিত্র কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র সংযুক্ত। আল-ঈমান মসজিদ ও দাওয়াহ সেন্টারে মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক সৌহার্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টিতে মুসলমানদের অবদান ব্যাপক। কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও ফিনল্যান্ডের শ্রমবাজারে মুসলমান শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার স্বীকৃত। ধর্মচর্চা অব্যাহত রাখার স্বার্থে মুসলমানরা ফিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেন। বিভিন্ন মুসলিম গ্রুপের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গঠিত হয় ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন ইন ফিনল্যান্ড।

এ দেশে হিজাব পরিধানের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হেলসিঙ্কির বিদ্যালয়ে, রাস্তা-ঘাটে ও শপিংমলে ইসলামী পোশাক পরা মেয়েদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করার মতো। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হালাল খাদ্যের দোকান গড়ে উঠেছে। বাধা নেই মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ধর্মচর্চা, ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ ও ধর্ম প্রচারের সুযোগ রয়েছে ফিনল্যান্ডে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। পৃথিবীর সর্ববৃহ‍ৎ এভানজেলিক্যাল লুথেরান গির্জা এখানেই অবস্থিত। অবশ্য দেশের শতকরা ২০ ভাগ মানুষের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই।

হিজাব পরতেও নেই প্রতিবন্ধকতা হিজাব পরার ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডে সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হেলসিঙ্কির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ে, পথঘাট ও শপিংসেন্টারে ইসলামী পোশাকে মেয়েদের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও মুসলমানদের রয়েছে চমত্কার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিনল্যান্ড সরকার ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি মুসলিমবান্ধব। মসজিদ ও নামাজঘর ধর্মচর্চা ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেছেন।

মুসলিম সংগঠনগুলোর ব্যবস্থাপনায় রাজধানী হেলসিঙ্কি, তামপেরে, তুর্কু, অউলু, জাইভাসকিলা, লাহতি প্রভৃতি অঞ্চলে অনেকগুলো মসজিদ রয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বাসাবাড়িতে সম্মিলিত নামাজঘর রয়েছে (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার স্থান)। ১৯৪০ দশকের গোড়ার দিকে ইয়ারভেনপা শহরে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় এটির নির্মাণখরচ বহন করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই মসজিদটির সংস্কার হয়। হেলসিঙ্কিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদ ও দারুল আমান মসজিদ নামে দুইটি মসজিদ পরিচালিত হয়। মসজিদ দুইটির সার্বিক কার্যক্রম চলে ভাড়া করা ভবনে। মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম ফিনল্যান্ডে মসজিদকেন্দ্রিক দাওয়াতি কার্যক্রম ও ত‍ৎপরতা পরিচালিত হয়।

অধিকাংশ মসজিদের আওতাধীন পাঠাগার, কমিউনিটি হল, পবিত্র কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। দুই-চারটি মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মুসলিম সংগঠন ও সংস্থা ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা আধুনিক ইসলামী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে প্রথম ১৯৫২ সালে। এর নাম ফিনিশ ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন। অন্যদিকে আরব বংশোদ্ভূত মুসলমানদের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন ‘ইসলামিক সোসাইটি অব ফিনল্যান্ড’ও রয়েছে। ১৯৮৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাছাড়া মুসলিমরা হেলসিঙ্কিতে ইসলামিক সেন্টার ও যুব ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠা করেছে। মসজিদ, শিশুদের স্কুল, দেশীয় অনুষ্ঠানের ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আলাদা আলাদা কনভেনশন সেন্টার, পাঠাগার ও অভ্যর্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি ইসলামিক সেন্টারের আওতাধীন রয়েছে। তারা ফিনল্যান্ডের ভাষায় পবিত্র কোরআনও অনুবাদ করেছে। রাজধানী ছাড়াও তামপেরে, তুর্কু, ব্রুম্বাগ, কুটা ও প্যারভিনা ইত্যাদি শহরে ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। তবে হেলসিঙ্কি ও তামপেরের ইসলামী সংস্থা দুইটিই সবচেয়ে বড়।

উভয়টির মাঝে দারুণ সমন্বয় ও বোঝাপড়া রয়েছে। সবগুলো সংস্থা ও সেন্টার একসঙ্গে মিলে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো করে থাকে। মুসলিমরা যেসব শহরে থাকে ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে মুসলমানদের বসবাস। তবে রাজধানী হেলসিঙ্কিতেই থাকে বেশিরভাগ। এছাড়াও তামপেরে, ব্রুম্বাগ, তুর্কু, কুতা, পারভিনা ইত্যাদি শহরে মুসলমানদের বসবাস রয়েছে। এদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। মুসলিম শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা ফিনল্যান্ডের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দেন পারিবারিকভাবে। মসজিদকেন্দ্রিকও প্রয়োজনীয় ধর্মশিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। স্কুল পর্যায়েও ইসলাম-শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

কোনো বিদ্যালয়ে যদি মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে সরকারি অনুমতিক্রমে নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি শিক্ষার ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ১১টি মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের ধর্মশিক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত পৃথক পাঠক্রম রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবদীক্ষিত ফিনিশ মেয়েরা।

দেশের শিক্ষামন্ত্রণালয় সরকারি স্কুলে ইসলাম-শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর পাঠ্যবই বের করে। অন্যদিকে হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিও দেওয়া হয়। সব কিছু বিবেচনায় মুসলিমবান্ধব দেশ ফিনল্যান্ডে মুসলমানরা বেশ শান্তিতে আছেন। নারী-পুরুষ সবাই ধর্মানুরাগী। আচরণে ও উচ্চারণে অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল।

সাপের ভয়ে আলু তোলা যাচ্ছে না

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিস্তৃর্ণ আলু ক্ষেতের ইদুরের গর্তে মিলছে বিষধর গোখরা সাপ। আলু তুলতে গিয়ে গত দু’দিনে তানোর পৌরশহরের আকচা বরশো স্কুল এলাকায় অন্তত ১০টি প্রাপ্তবয়স্ক সাপ মেরেছেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভীত শ্রমিকরা দেখা পাওয়া মাত্রই পিটিয়ে মেরেছেন সাপগুলো। প্রাণভয়ে অনেকেই নামছেন না ক্ষেতে।

এতে পরিপক্ক আলু তোলা নিয়ে বেকায়দায় কৃষক। তবে নির্বিচারে সাপ পিটিয়ে না মারার অনুরোধ জানিয়েছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। স্থানীয় কৃষক বিশ্বনাথ চৌধুরী জানান, তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এখন আলু তোলায় ব্যস্ত সবাই। কিন্তু ক্ষেতে গোখরা সাপ দেখা দেয়ায় শ্রমিকরা ক্ষেতে নামতে চাইছেন না।

দ্বিগুন পারিশ্রমিক দিয়েও মজুর নামানো যাচ্ছে না ক্ষেতে। ফলে আলু নিয়ে বেকায়দায় তারা। এলাকায় আলু ক্ষেতে শ্রমিকের কাজ করছেন সিহাবুর ইসলাম (৩১), মমিনুল আলী (২৬), রাকিবুল হোসেন (২৩)। তারা বলেন, প্রতিদিনই আলু তুলতে গিয়ে বিষধর গোখরার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। দংশনের শঙ্কায় দেখা পাওয়ামাত্রই পিটিয়ে মেরে ফেলছেন সাপ। এ ঘটনায় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এ অঞ্চলে পাওয়া গোখরা উপমহাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। এটি গোমা, খইয়া বা খড়মপায়া গোখরা বলেও পরিচিত। ফনায় চশমার মতো দুটি চক্র থাকে। দেড় মিটার দৈর্ঘ্যের গোখরা নিশাচর। এরা মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি ও বনাঞ্চলে বাস করে। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট পাখি, ব্যাঙসহ অন্যান্য উভচর জীব। দেখতে প্রায় একই রকম গোখরা গোষ্ঠীর অন্য সাপগুলো হলো, কেউটে, শঙ্খচূড়, স্পিটিং কোবরা। এরাও অত্যন্ত বিষধর।

বিরক্ত না করলে এরা সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। গোখরা ছাড়াও সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে রাসেল ভাইপার। মারাত্মক বিষধর এ সাপ রয়েছে বিপন্ন প্রাণির তালিকায়। এদিকে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সতর্ক ও সচেতনতা বাড়াতে নানান উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌ. মো. গোলাম রাব্বী। নির্বিচারে সাপ মেরে না ফেলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাপ নির্বিচারে না মেরে সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রার্ণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গোখরা সাধারণত কৃষকের ফসল নষ্টকারী ইদুর দমন করছে। তাছাড়া আঘাত না পেলে সাধারণত আক্রমণ করে না এ প্রজাতির সাপ। কাজেই দেখা পেলে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। লাভবান হবেন কৃষক।

জঙ্গি ব্রেনটন , কারাগারে যেসব সুবিধা পাচ্ছেন

নিউজিল্যান্ডে কোনো অপরাধীর সর্ব্বোচ্চ শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যদি হত্যাকাণ্ডের অপরাধে বিচারের মুখোমুখি হন এবং দোষি সাব্যস্ত হন, তবে তার সর্ব্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাবাস। সে হিসেবে ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে বন্দুক হামলা চালিয়ে ৫০ মুসল্লি হত্যাকারি সন্ত্রাসী ব্রেনটন ট্যারেন্টের সর্ব্বোচ্চ সাজা হলে তার পেছনে সরকারে খরচ হবে মোটা অংকের অর্থ। যার পরিমাণ হতে পারে ২১ কোটি টাকারও বেশি। শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্টকে বর্তমানে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

কারারক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রেও নেয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। তার পাহারায় দেয়া হয়েছে শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষী। কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যান্য গোষ্ঠীর কারারক্ষী দিলে তাদের ওপর সে আক্রমণ করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তাকে সামরিক বিমানে করে কড়া নিরাপত্তাবিশিষ্ট অকল্যান্ডের পারোমোরেমো কারাগারে নেয়া হয়।

ওই কারাগারে বন্দি রয়েছে দেশটির কুখ্যাত সব অপরাধী। সেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে সে। ১৫ মার্চ শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করে ব্রেনটন। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল ফের শুনানির জন্য তাকে আদালতে তোলা হবে। সরকারের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, হামলাকারীকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে কেবল শ্বেতাঙ্গ কারারক্ষীরা। নিউজিল্যান্ডে সাধারণত এমনটা ঘটতে দেখা যায় না। জাতিগোষ্ঠী কিংবা বর্ণ বিবেচনা করে নিউজিল্যান্ডে কারারক্ষী নিয়োগ করা হয় না। নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা টেরেন্টকে নিরাপদভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন।

পারেমোরেমো কারাগারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বন্দি রয়েছে ব্রেনটন। ওই কারাগারে ২৬০ জন বন্দি থাকতে পারে। প্রত্যেকের ৩.১ মিটার প্রস্থ ও ২.৯ মিটার উচ্চতার সেলে থাকতে হয়। সেখানে টয়লেট, শাওয়ার ও বেসিন রয়েছে। দেশের সব কুখ্যাত অপরাধীকে রাখা হয় সেখানে। তাকে অন্যান্য অপরাধী থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা প্রত্যক্ষ কিংবা সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি রাখা হচ্ছে তার ওপর। এছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই তার। দেয়া হবে না কোনো পত্রিকা। থাকবে না রেডিও কিংবা টেলিভিশন সুবিধাও।

মধুর সাথে পেঁয়াজের রস, পুরুষের যৌ’নশক্তি বৃদ্ধির চমৎকার ওষুধ

বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই পুরুষের যৌনশক্তি কমতে থাকে। তিরিশের পর যেভাবে যৌনজীবন উপভোগ করেছেন, পঁঞ্চাশের পর তা সম্ভব নয়। আবার কাজের চাপ, স্ট্রেস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণেও দ্রুত যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন। বর্তমান লাইফস্টাইল ছাড়াও হস্তমৈথুনের অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে থাকলে পুরুষের লিঙ্গ শিথিল হয়ে যেতে পারে। লিঙ্গে ঋজুতার অভাবে ভুগছেন, এমন পুরুষ কিন্তু কম নেই। ভুক্তভোগীরা হতাশ না হয়ে, নীচে উল্লেখিত ঘরোয়া টোটকা করে দেখতে পারেন। উপকার পাবেনই।

কিছুই না এ জন্য লাগবে পেঁয়াজ আর খাঁটি মধু। মধুর উপকারিতা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। আর পেঁয়াজের মধ্যে আপনি নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলস ছাড়াও পাবেন ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ত্বকের ও চুলের সমস্যায় পেঁয়াজের ব্যবহার অনেকেই জানেন। কিন্তু পেঁয়াজ যে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনে, তা আমাদের অজানা। এমনকী অনিদ্রার ওষুধও হল পেঁয়াজের রস। আবার মধুর সংস্পর্শে এই পেঁয়াজ পুরুষের যৌনশক্তির জন্য চমত্‍‌কার ওষুধ।

কী করে খাবেন এই মিশ্রণ
প্রস্তুতি ১: লাগবে ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ ও ২৫০ গ্রাম মধু। পেঁয়াজের রস বের করে নিয়ে মধুর সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে হালকা আঁচে ফোটাতে থাকুন। পেঁয়াজের পুরো রস বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত ফোটাতে হবে। এবার মিশ্রণটি ঠান্ডা করে কাচের শিশিতে তুলে রাখুন। রোজ ২ চামচ করে গরম দুধে রাতে খেয়ে শুয়ে পড়ুন। অন্তত ৪০ দিন খেতে হবে।

হাতে সময় না-থাকলে, এ ভাবেও মিশ্রণটি তৈরি করে নিতে পারেন-
প্রস্তুতি ২: একটি বড় লাল পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে ভালো করে পিষে, পেঁয়াজের রস চা-ছাকনিতে ছেকে নিন। পরিষ্কার এক টুকরো কাপড়ের মধ্য দিয়েও রস ছেকে বের করে নিতে পারেন। ক’চামচ রস বেরোল, তা দেখে নিয়ে তাতে সমপরিমাণ মধু দিন। অর্থাত্‍‌ চার চামচ রস হলে, চার চামচই মধু দিতে হবে। একটি কাচের ছোট পাত্রে মধু ও পেঁয়াজের রস ভালো করে মিশিয়ে, ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে শুতে যাওয়ার আগে এই মিশ্রণটি দু-চামচ করে, দিনে চার চামচ খান।

একমাসের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন। শিথিল, ঝিমিয়ে পড়া কুঞ্চিত লিঙ্গ আগের মতো চাঙ্গা ও পুরুষ্ট হয়ে উঠবে। যৌনমিলনের সময় শিথিলতার সমস্যা আর থাকবে না। তবে, ভালো ফল পেতে হলে ধীরে ধীরে হস্তমৈথুন ছাড়তেই হবে।
যা মাথায় রাখবেন: এই মিশ্রণটি যতদিন খাবেন, স্পাইসি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। টকও খাওয়া যাবে না। যৌন কার্যকলাপও বন্ধ রাখতে হবে।
পুরুষদের যৌন সমস্যা না থাকলেও, এই মিশ্রণটি খাওয়া যাবে। তাতে থাকবেন ইয়াং অ্যান্ড ফিট।