ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে বিএনপিকে ৩ নেতার আল্টিমেটাম

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির বেরিয়ে আসার প্রস্তাব আজ চূড়ান্ত হতে পারে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হবার কথা রয়েছে। বিএনপির একজন এমপির নাটকীয়ভাবে সংসদে শপথ গ্রহণ এবং আরো কয়েকজন এমপি শপথ নিতে পারেন এরকম বাস্তবতার মুখে আজ দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আজকের বৈঠকে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম জাহিদ শপথ নেওয়ার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল অর্থাৎ বহিস্কার করা হতে পারে। তার যেন সংসদ সদস্যপদও বাতিল হয়ে যায় এজন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হতে পারে।

একই সাথে আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বার্তা দেওয়া হবে যে, বাকী পাঁচজন নির্বাচিত এমপির মধ্যে কেউ যদি সিদ্ধান্ত লংঘন করে শপথ গ্রহণ করেন বা সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন তবে তারও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল হবে এবং দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে। একই সাথে কেন শপথ নিচ্ছে সে ব্যাপারেও আজকের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্তত চারজন সদস্য আজকের বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দেবে এবং বেরিয়ে না আসলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মত প্রকাশ করবে। এ ব্যাপারে তারা আল্টিমেটামও দিতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। যে তিনজন সদস্য ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসার মত দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং মির্জা আব্বাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারা মনে করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হওয়ার কারণেই এবং এর দুইজন নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার কারণেই বিএনপির এমপিদের মধ্যে শপথ নেওয়ার আগ্রহ তৈরী হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ওই দুই এমপি বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করছে। ঐ নেতার একজন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এই সমস্ত শপথ নেওয়ার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল নেতা।

গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক গণফোরামের কাউন্সিলে মোকাব্বির খান উপস্থিত ছিলেন। তিনি ড. কামাল হোসেনের কাছাকাছিই মঞ্চে বসেছিলেন বলেও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মত প্রকাশ করেন। সূত্রমতে মনে করা হচ্ছে যে, ড. কামাল হোসেন- ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যোগসাজসে সরকারের সঙ্গে গোপন আতাতের ভিত্তিতে বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্যই বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করে, অবিলম্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির বেরিয়ে আসা উচিত এবং ২০ দলকে সক্রিয় করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শরীক হওয়া দরকার।

বাংলা ইনসাইডার