হারিয়ে যাওয়া সন্তানের জন্য ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখা সেই মা আর নেই

মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সঙ্গে তুলনা হয়না কোন কিছুরই। পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ, একমাত্র মা-ই করতে পারেন। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ৪৪ বছর ধরে, বারো মাস রোজা পালন করছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভেজিরন নেছা। কয়েকদিন আগে এ খবরটি গণমাধ্যমে কয়েকদিন আগে এ খবরটি প্রাকাশ হয়েছিল।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুলাই) বার্ধক্যজনিত কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর নিজ বাড়িতে আনুমানিক বিকেল পাঁচটার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখা সেই মা ভেজিরন নেছা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ৩ ছেলে মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, তিনি শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের বিধান মতে বছরে কয়েকটি রোজা ছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখেছেন। বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যাবার পর, খোঁজার প্রায় দেড়মাস পর তিনি নিয়ত করেন ছেলেকে ফিরে পেলে, যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিনই রোজা রাখবেন। সেই থেকে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রোজা রেখে গেছেন।

গ্রামবাসী জানান, ১৯৭৫ সাল তখন বড় ছেলে শহিদুল ইসলামে বয়স ১১ বছর হবে। সে একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ এবং দরগায় ১৩-১৪টি স্থানে খাবারের আয়োজন করা হয়। তখন মানুষের খুব অভাব চলছিল, ধারণা করা হচ্ছিল হয়তো কোনো জায়গায় খাবার না পেয়ে মসজিদ বা দরগায় খানা খেতে আসবে। তবুও আসেনি তিনি।

এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাকে জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল। পরিবারের লোকজন ছাড়াই সখিরন নেছা একা একা ছেলেকে খুঁজে বেড়াতেন। প্রায় দেড়মাস পর, রমজান মাস আসলে, রোজা থাকা অবস্থায় একদিন সন্ধ্যার আগে গ্রামের কাজীপাড়া জামে মসজিদের কাছে ছেলেকে খুঁজতে গেলেন। না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে আসছিলেন। মসজিদের কাছে আসতেই, মসজিদে হাত দিয়ে পণ করেন ছেলেকে ফিরে পেলে যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন রোজা রাখবেন। মা ফিরে এসে দেখতে পাই ছেলে শহিদ বাড়িতে এসেছে। সেই থেকে তিনি দীর্ঘদিন রোজা রেখেছেন।

ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। তবে আমার মা আমার জন্য সারা জীবন রোজা রাখবেন বলে যে সিন্ধান্ত নিয়ে রোজা পালন করেছেন। পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। এমন মা পাওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়। তিনি তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। বাজার গোপালপুর গ্রামের মাসুম শেখ জানান, আমার বুদ্ধি-জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখছি ভেজিরন নেছা ওরফে ভোজা (বুবু) রোজা রাখছেন।

শত অভাব অনটনের মধ্যে, পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর মুসলমান ধর্মের বিধান মেনে, বড় ছেলে শহিদুল হারিয়ে যাবার পর ফিরে পেয়ে রোজা রেখেছেন। তিনি বলেন, মা তো মা-ই। মায়ের তো কারো সাথে তুলনা হয় না। তবে ছেলের জন্য যে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা একমাত্র মা বলেই সম্ভব হচ্ছে। তার মতো আর মা আছে বলে আমার জানা নেই।

‘ফজরের নামাজ কখনো ক্বাজা করি নাই, ১১৯ বছরেও আমি সুস্থ্য আছি, খালি চোখেই বই পড়ি’

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১৯বছরে পা দিলেও এক ব্যক্তি চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্বাভাবিকভাবে পত্রিকা পড়াসহ সব ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।যে বয়সে তার শেষ সম্বল লাঠি হাতে নিয়ে চলা ফেরা করার কথা ঠিক সেই সময়ে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করায় এলাকায় মানুষের কাছে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বার্ধক্য তাকে হার মানাতে পারেনি। বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি তার কাজকর্মে। তিনি কোন কাজে মনো নিবেশ করলেই আশ-পাশের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় শুরু করে দেন।

এমই এই সাদা মনের মানুষটির নাম মোঃ জোবেদ আলী। তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স হয়তো আারো বেশী হবে। তিনি উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর পুত্র। তাঁর স্ত্রী ফয়জুন নেছা(৮৭), ৩পুত্র ও ৪কন্যা সহ নাতি-নাতিনী সহ বহু বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহী রয়েছে।

৯জানুয়ারী বুধবার দুপুরে তাঁর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোর ঠিক বয়স মনে নেই, তবে আইডি কাডত যা আছে তার চেয়ে বেশী হবে। ছোট বেলা থেকে যুবক বয়সে তিনি নিজের দিঘীর মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, আবাদি বিতরী ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তৈল, রাসায়নিক সার বিহীন শাক-সবজি নিয়মিত খেতেন। এই বয়সে তাঁর ছোট খাট জ্ব্বর-সর্দি ছাড়া বড় ধরনের কোন রোগ ব্যধি হয় নাই।

শরীর এখনও তাঁর ভাল আছে। তিনি একশ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তাই তিনি নিয়মিত পবিত্র কুরআন-মাজিদ, পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। রাতে তিনি কুপি জ্বালিয়ে পবিত্র কুরআন-মাজিদ পড়েন।

তিনি আরো বলেন, কোনদিন ফজরের নামাজ আমি ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলোয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন। এজন্য আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া।

এ ছাড়া পত্রিকা পড়াই তার এখন প্রধান নেশা বলে জানান। এ বিষয়ে রাজারহাট ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই জোবেদ জ্যাঠোকে এই অবস্থায় দেখে আসছি। এখনো তিনি আগের মতোই চলাফেরা করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মরুভূমিতে আজো দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ

অবিশ্বস্য হলেও সত্যে। আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে যে গাছটির নিচে মহানবী (সা) বিশ্রাম নিয়েছিলেন জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় সেই গাছটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও সত্যি। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু দূরে একটি মৃতপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।
মোহাম্মদ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন।
আবু তালিব মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।

পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!

বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্মদ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী।তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী।

চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই।গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কেন হবে, প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গে দিন কয়েক আগে একাত্তর টিভির একটি ‘টক শো’ দেখছিলাম। আলোচনায় উপস্থাপিকা, আলোচকবৃন্দ বনাম লাইভ অতিথির মধ্যে যে ঝড়ো কূটতর্কের তেলেসমাতি দেখলাম তা বোধ করি না বলাই ভালো। টক শো’ উপস্থাপনা বা আলোচনায় কেউকেটাদের শালীনতার ঘাটতি থাকতেই পারে, এটা মেনে নিয়ে আমরা তা দেখছি। কিন্তু বিদ্যার স্বরস্বতীকে পানাডোবায় চুবিয়ে ভদ্র মহোদয়-মহোদয়াগণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের (!) সঙ্গে এভাবে দিস্তা দিস্তা ভুল তথ্য প্রদানে সিদ্ধহস্ত হয়েছেন- সতিই তা আমার অজানা ছিল।

আলোচনা শেষে জ্ঞানীজনের বাণীতে জানলাম, মালয়েশিয়া, ইরাক, ইরান, মরোক্কো কোনোটাতেই ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং ভ্যাটিকান সিটি বাদে বিশ্বের আর কোনো দেশ রোমান ক্যাথলিসিজমের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না । ভুল করে অন্য দুই একটি দেশের নাম বললে ভালো হতো। কপাল খারাপ হলে যা হয়, যে কয়টা দেশের নাম এলো তাদের সব কয়টিতেই ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম বা অফিসিয়াল ধর্ম হিসেবে স্বীকৃত। মালয়েশিয়া রাষ্ট্রীয় আচরণে যে ধর্মনিরপেক্ষ তা অস্বীকার করার জোঁ নেই, কিন্তু ইসলাম দেশটির সংবিধানস্বীকৃত ধর্ম।

ওদের সংবিধানের ৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “Islam is the religion of the Federation; but other religions may be practised in peace and harmony in any part of the Federation”। সংবিধানে ধ‍র্মের উল্লেখ থাকলেও একটি দেশ ধ‍র্মীয় আচরণে কতটা ধ‍র্মনিরপেক্ষ হতে পারে, মালয়েশিয়ার তার এক নিখাঁদ উদাহরণ। বাকীটুকু বলতে একটু শিবের গীত প্রয়োজন ।

পৃথিবীতে কতজন মানুষ এখন ধর্মে বিশ্বাসী- এ প্রশ্ন নিয়ে যত বেশি গবেষণা হয়েছে লব্ধ ফলে তথ্যের ফারাক তার চেয়েও অনেক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংনভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিচিতি আছে। এ প্রতিষ্ঠান ২০১২ সালে বিশ্বের ধর্মাবলীদের সংখ্যা নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তাদের হিসাবে বর্তমানে বিশ্বের ৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। অন্যদিকে অবিশ্বাসীদের সংখ্যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যায় বললে, বিশ্বের ১০০ কোটির বেশি মানুষ এখন ধর্মে অবিশ্বাসী। ধর্মে অবিশ্বাসকে যদি ধর্ম বলা যায় তবে সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে নাস্তিক্য ধর্ম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম।

মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করে ,ইসলাম গ্রহণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশে নারীরা

পৃথিবীর আর পাঁচটা দেশের থেকে এদেশ আলাদা নয়। এখানেও রাত পোহালে দিন আসে। পাহাড়, নদী; সবই রয়েছে। কর্মসংস্থানেরও অভাব নেই। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে থাকেন প্রচুর মানুষ। তাদেরও হাজারো সমস্যা। কিন্তু সেই সমস্যা তারা কাটিয়ে ওঠেন। সবসময় খুশি থাকেন। আর সেই কারণেই জাতিসংঘের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘হাজার হ্রদের দেশ’ হিসেবে বিখ্যাত ফিনল্যান্ড। বাল্টিক সাগর-উপকূলের দেশটির অবস্থান ইউরোপের সর্ব উত্তরে। ফিনল্যান্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সুমেরুবৃত্তে অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হলো দীর্ঘায়ত বনভূমি।

এগুলোকে ফিনল্যান্ডের ‘সবুজ সোনা’ বলা হয়। ১৯৫০ এর দশক পর্যন্ত ফিনল্যান্ড কৃষিপ্রধান দেশ ছিল। সে হিসেবে বলা যায়, ফিনল্যান্ডে শিল্পায়ন কিছুটা দেরিতেই হয়েছে। পরবর্তীতে শিল্পোন্নয়নে অগ্রগতি পেয়ে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয় এটি। ঘন সবুজারণ্য ও স্বচ্ছ জলের স্রোতস্বিনীতে নয়নাভিরাম ফিনল্যান্ড। প্রাচীরঘেরা প্রাসাদ ও অত্যাধুনিক দালানকোঠার গভীর মিতালি দেখা যায় এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হেলসিঙ্কি। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের জরিপ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য দেশ হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার স্বীকৃতি পেয়েছে।

ফিনল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দলে নুরুল হুদা স্বপন ও তন্ময় নামে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা এখন ক্রিকেট মাঠে ফিনিশদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আয়তন ও জনসংখ্যা ফিনল্যান্ডের এক দশমাংশই জলাশয় আর দুই তৃতীয়াংশ হচ্ছে বনভূমি। মোট আয়তন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৪৫ বর্গ কিলোমিটার। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, (জুলাই ২০১৮) জনসংখ্যা ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জন। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন জনসংখ্যা‍র দিক দিয়ে ফিনল্যান্ডের অবস্থান তৃতীয়। প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে মাত্র ১৬ জন মানুষ বসবাস করে। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে মুসলমানের সংখ্যা লাখেরও বেশি।

এদের বেশিরভাগ অভিবাসী। তবে স্থানীয় ও ফিনিশ মুসলমানের সংখ্যাও রয়েছে বেশ। স্বাধীনতা ও ভাষা ফিনল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটিভ সোশ্যালিস্ট রিপাবলিক থেকে স্বাধীনতা লাভ করেন। এর আগে দীর্ঘ সময় সুইডেনের শাসনাধীন ছিল দেশটি। সেজন্য ফিনিশদের সংস্কৃতিতে সুইডিশ ও রুশ প্রভাব রয়েছে। দাফতরিক ভাষা ফিনিশ (৮৭%) ও সুইডিশ (৫.২%)। ফিনল্যান্ডে ইসলামের আগমন ফিনল্যান্ডে সর্বপ্রথম ইসলামের আগমন ঘটে ১৮০৯ সালে। তখন কিছু তাতার মুসলিম সৈনিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ফিনল্যান্ডে পা রাখে। তাদের নেতৃত্বে ১৮৩০ সালে ফিনল্যান্ডে প্রথম মুসলিম সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯১৭ সালে রাশিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার পর সেই মুসলিমরা ফিনল্যান্ডে থেকে যায়। পরে ধারাবাহিকভাবে যুগোশ্লাভিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, তুরস্ক, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে থেকে মুসলমানরা ফিনল্যান্ডে বসবাস করতে শুরু করে। ১৯২৫ সালে ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা সাইয়েদ উমর আবদুর রহিমের নেতৃত্বে সরকারের কাছে স্বীকৃতি চায়। সে বছরই দেশের সরকার ইসলাম ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালে সে দেশে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজার জনের মতো। কিন্তু এরপর ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে সংখ্যা। মুসলমানদের সংখ্যা অন্য ধর্মাবলম্বী ও ধর্মহীনদের তুলনায় কম হলেও তাদের দৈনন্দিন জীবনাচার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক বন্ধন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে মুগ্ধ হয়ে বহু ফিনিশ ইসলামে দীক্ষিত হচ্ছেন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর ইসলাম গ্রহণকারী ফিনিশদের সংখ্যা গড়ে এক হাজার। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম পুরুষদের বিয়ে করে সংসার গড়ছে। পূর্ব ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে ক্রমেই মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে সরকারি হিসেবেই মুসলমানের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। এটি হলো একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংসদীয় গণতন্ত্র এ দেশের সুস্থ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি। এর পশ্চিমে রয়েছে সুইডেন, উত্তরে নরওয়ে, পূর্বে রাশিয়া ও দক্ষিণে এস্তেনিয়া। এটি হলো একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংসদীয় গণতন্ত্র এ দেশের সুস্থ রাজনীতির মূল চাবিকাঠি।

এর পশ্চিমে রয়েছে সুইডেন, উত্তরে নরওয়ে, পূর্বে রাশিয়া ও দক্ষিণে এস্তেনিয়া। মুসলমানদের মধ্যে বেশিরভাগ অভিবাসী হলেও আদিবাসীদের মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে তাতার মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রথম সৈনিক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ফিনল্যান্ডে আসে। সংখ্যায় কম হলেও মুসলমানদের শিকড় এ দেশের গভীরে প্রোথিত। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে প্রতি বছর ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা গড়ে এক হাজারের উপর, যাদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা বেশি। পরে তারা মুসলমান ছেলেদের বিয়ে করে সংসার পাতেন। মসজিদকেন্দ্রিক দাওয়াতি তৎপরতা পরিচালিত হয় ফিনল্যান্ডে।

বড় বড় মসজিদের সঙ্গে পাঠাগার, কমিউনিটি হল, পবিত্র কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র সংযুক্ত। আল-ঈমান মসজিদ ও দাওয়াহ সেন্টারে মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। এদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক সৌহার্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টিতে মুসলমানদের অবদান ব্যাপক। কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও ফিনল্যান্ডের শ্রমবাজারে মুসলমান শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার স্বীকৃত। ধর্মচর্চা অব্যাহত রাখার স্বার্থে মুসলমানরা ফিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেন। বিভিন্ন মুসলিম গ্রুপের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গঠিত হয় ফেডারেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন ইন ফিনল্যান্ড।

এ দেশে হিজাব পরিধানের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হেলসিঙ্কির বিদ্যালয়ে, রাস্তা-ঘাটে ও শপিংমলে ইসলামী পোশাক পরা মেয়েদের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করার মতো। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হালাল খাদ্যের দোকান গড়ে উঠেছে। বাধা নেই মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ধর্মচর্চা, ধর্মীয় উপাসনালয় নির্মাণ ও ধর্ম প্রচারের সুযোগ রয়েছে ফিনল্যান্ডে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। পৃথিবীর সর্ববৃহ‍ৎ এভানজেলিক্যাল লুথেরান গির্জা এখানেই অবস্থিত। অবশ্য দেশের শতকরা ২০ ভাগ মানুষের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই।

হিজাব পরতেও নেই প্রতিবন্ধকতা হিজাব পরার ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডে সরকারি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হেলসিঙ্কির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ে, পথঘাট ও শপিংসেন্টারে ইসলামী পোশাকে মেয়েদের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও মুসলমানদের রয়েছে চমত্কার সম্পর্ক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিনল্যান্ড সরকার ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি মুসলিমবান্ধব। মসজিদ ও নামাজঘর ধর্মচর্চা ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ করেছেন।

মুসলিম সংগঠনগুলোর ব্যবস্থাপনায় রাজধানী হেলসিঙ্কি, তামপেরে, তুর্কু, অউলু, জাইভাসকিলা, লাহতি প্রভৃতি অঞ্চলে অনেকগুলো মসজিদ রয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বাসাবাড়িতে সম্মিলিত নামাজঘর রয়েছে (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার স্থান)। ১৯৪০ দশকের গোড়ার দিকে ইয়ারভেনপা শহরে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় এটির নির্মাণখরচ বহন করা হয়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই মসজিদটির সংস্কার হয়। হেলসিঙ্কিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মসজিদ ও দারুল আমান মসজিদ নামে দুইটি মসজিদ পরিচালিত হয়। মসজিদ দুইটির সার্বিক কার্যক্রম চলে ভাড়া করা ভবনে। মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম ফিনল্যান্ডে মসজিদকেন্দ্রিক দাওয়াতি কার্যক্রম ও ত‍ৎপরতা পরিচালিত হয়।

অধিকাংশ মসজিদের আওতাধীন পাঠাগার, কমিউনিটি হল, পবিত্র কোরআন শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। দুই-চারটি মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মুসলিম সংগঠন ও সংস্থা ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা আধুনিক ইসলামী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে প্রথম ১৯৫২ সালে। এর নাম ফিনিশ ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন। অন্যদিকে আরব বংশোদ্ভূত মুসলমানদের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠন ‘ইসলামিক সোসাইটি অব ফিনল্যান্ড’ও রয়েছে। ১৯৮৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাছাড়া মুসলিমরা হেলসিঙ্কিতে ইসলামিক সেন্টার ও যুব ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠা করেছে। মসজিদ, শিশুদের স্কুল, দেশীয় অনুষ্ঠানের ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আলাদা আলাদা কনভেনশন সেন্টার, পাঠাগার ও অভ্যর্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি ইসলামিক সেন্টারের আওতাধীন রয়েছে। তারা ফিনল্যান্ডের ভাষায় পবিত্র কোরআনও অনুবাদ করেছে। রাজধানী ছাড়াও তামপেরে, তুর্কু, ব্রুম্বাগ, কুটা ও প্যারভিনা ইত্যাদি শহরে ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। তবে হেলসিঙ্কি ও তামপেরের ইসলামী সংস্থা দুইটিই সবচেয়ে বড়।

উভয়টির মাঝে দারুণ সমন্বয় ও বোঝাপড়া রয়েছে। সবগুলো সংস্থা ও সেন্টার একসঙ্গে মিলে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো করে থাকে। মুসলিমরা যেসব শহরে থাকে ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে মুসলমানদের বসবাস। তবে রাজধানী হেলসিঙ্কিতেই থাকে বেশিরভাগ। এছাড়াও তামপেরে, ব্রুম্বাগ, তুর্কু, কুতা, পারভিনা ইত্যাদি শহরে মুসলমানদের বসবাস রয়েছে। এদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। মুসলিম শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা ফিনল্যান্ডের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দেন পারিবারিকভাবে। মসজিদকেন্দ্রিকও প্রয়োজনীয় ধর্মশিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। স্কুল পর্যায়েও ইসলাম-শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

কোনো বিদ্যালয়ে যদি মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে সরকারি অনুমতিক্রমে নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি শিক্ষার ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ১১টি মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের ধর্মশিক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত পৃথক পাঠক্রম রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবদীক্ষিত ফিনিশ মেয়েরা।

দেশের শিক্ষামন্ত্রণালয় সরকারি স্কুলে ইসলাম-শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতি বছর পাঠ্যবই বের করে। অন্যদিকে হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিও দেওয়া হয়। সব কিছু বিবেচনায় মুসলিমবান্ধব দেশ ফিনল্যান্ডে মুসলমানরা বেশ শান্তিতে আছেন। নারী-পুরুষ সবাই ধর্মানুরাগী। আচরণে ও উচ্চারণে অত্যন্ত মার্জিত ও রুচিশীল এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল।

ইসলামের দৃষ্টিতে বর-কনের বয়সের পার্থক্য কতো হওয়া উচিৎ?

বর্তমানে মানুষ মেয়েদের অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত অবহেলা করে। যেমন, বাচ্চা মেয়ের বিয়ে বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে দেয়া। যার পরিণতি হলো স্বামী যদি মারা যায় তাহলে মেয়ের চরিত্র নষ্ট হয়। আবার কোথাও এই অবিচার হয়, ছোটো ছেলের সঙ্গে যুবতি মেয়ের বিয়ে দেয়। এখানে একটি বিয়ে হয়েছে বর ছোটো আর কণে বয়স্ক। দুইজনের বয়সের পার্থক্য এতো যদি মহিলার প্রথম সন্তান ছেলে হতো তাহলে বর তার সমবয়সী হতো। আমি এমনটা অপছন্দ করি।

এই অপছন্দ ওয়াজিব বা হারামের পর্যায় নয়। বরং অপছন্দ স্বভাবসূলভ এবং বিবেকের। বয়সের সমতা হলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত, পৃষ্ঠা-৩৫৬।] স্বামী-স্ত্রীর বয়সের সমতা শরিয়তের বিধান : স্বামী-স্ত্রীর বয়সের সমতা রক্ষা করা আবশ্যক। বয়স স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আচরণগত (স্বভাব ও দৈহিক) বিষয়। এক প্রকার শরয়ী বিষয়ও বটে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানও লক্ষ্যণীয়। কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ অর্থাৎ জান্নাতে হুরগণ (জান্নাতের রমণী) সমবয়সী হবে।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا আমি জান্নাতী নারীকে উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছি। অতপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী। কামিনী সমবয়স্কা। বয়সের ব্যবধানে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আমি লক্ষ্য করেছি, বাচ্চাদের সঙ্গে বাচ্চাদের যেমন আন্তরিকতা হয় বড়দের সঙ্গে তেমন হয় না। হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের প্রস্তাব সর্ব প্রথম হজরত আবু বকর রা. দেন। অতপর হজরত ওমর রা. প্রস্তাব দেন। কারণ, এটুকু যোগ্যতা ও সম্মান তাঁদের অর্জিত ছিলো।

তাঁদের কন্যাদ্বয় রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মাণিতা স্ত্রী ছিলেন। এখন তারা রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাতা সম্মান অর্জন করবেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, انها لصغيرة সে অনেক ছোট। তাঁদের বয়স অনেক বেশি ছিলো। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বয়সের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আবেদন নাকচ করে দেন।

হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের ঘটনা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, হজরত শায়খাইন রা. (আবু বকর ও ওমর) এর সঙ্গে বিয়ে দিতে রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আপত্তি ছিলো সে ছোট। বাচ্চা। এর থেকে বুঝা গেলো মেয়ের বয়স কম হলে স্বামীর বয়স বেশি হওয়া উচিৎ নয়। বয়সের অসমতায় বিয়ে দেয়াও ঠিক নয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত।] হজরত ফাতেমা [রা.] -এর বিয়ের সময় বয়স ছিলো সাড়ে পনেরো বছর। হজরত আলী রা. বয়স ছিলো একুশ বছর।

এর থেকে জানা যায়, বর-কণের বয়সের সমতা ঠিক রাখা উচিৎ। উত্তম হলো সমবয়সী স্বামী সমবয়সী স্ত্রী থেকে একটু বড় হবে। জ্ঞানীগণ বলেন, মেয়ে যদি একটু ছোট হয় তাহলে সমস্যা নেই। রহস্য হলো নারী অধীনস্থ হয় এবং কর্তৃত্বকারী। তাছাড়াও নারীর শারীরিক শক্তি ও সামর্থ থাকে দুর্বল। ফলে সে আগে বৃদ্ধা হয়ে যায়। যদি দুই-চার বছরের পার্থক্য থাকে তাহলে সমতা আসে। [হুকুকুল জাওযাইন, পৃষ্ঠা-৩৭০।]

ভারতে ১০০ দলিত পরিবারের ইসলাম গ্রহণ

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ১০০ দলিত পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। জমি দখল এবং ধর্ষণের ঘটনায় উচ্চবর্ণের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে সুবিচার চেয়ে ধর্না দিচ্ছিল। এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলনরত পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অবশেষে গতকাল শনিবার তারা ইসলাম গ্রহণ করেন।

আন্দোলনরতদের দাবি ছিল, ভাগানা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং শামলাত ভূমি থেকে অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে হবে। এ নিয়ে তারা শুক্রবার হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের সঙ্গে দেখা করে দাবিও জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস না পেয়ে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ভাগানা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সুবিচার পাওয়ার আশায় তারা মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের সঙ্গে চারবার দেখা করেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছেও অনেকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হিসার (হরিয়ানা) প্রশাসন নীরব থেকেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২১ মে হরিয়ানার ভাগানা গ্রামে উচ্চবর্ণের লোকদের সঙ্গে দলিতদের বিবাদ শুরু হয়। এ সময় ৫২ টি পরিবারের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। শামলাতে একটি জমি থেকে অবৈধ দখলদারি মুক্ত করার দাবিকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। গ্রামবাসীরা দলিতদের একঘরে করে দিলে তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন। পরে ভাগানা গ্রামের ৪ দলিত নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

ভাগানা কা- সংঘর্ষ সমিতি বা বিকেএসএস’র প্রেসিডেন্ট বীরেন্দর বাগোরিয়া বলেছেন, উচ্চবর্ণের লোকেরা আমাদের মানুষ বলেই মনে করতে চায় না, তাই ওই ধর্মে থাকার আর যৌক্তিকতা কোথায়? তিনি বলেছেন, মৌলবি আব্দুল হানিফের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তারা কলেমা পড়ে নামাজ পড়েছেন বলেও জানান বীরেন্দর বাগোরিয়া।