পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য ‘বোঝা’: বান কি মুন

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি অবশেষে বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় সংকট হতে পারে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বড় ‘বোঝা’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। বুধবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এর হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন এবং কুতুপালং ১৭নং ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন, নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হক। জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়ান কূটনীতিক বান কি মুন জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা ভয়হীন ভাবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়। নানামুখী সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশি মানুষের প্রশংসা করেন মুন। বিশ্বব্যাংকের সিইও বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশিদের উদারতা ও দুর্বল রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব উখিয়ার কুতুপালং ২০নং ক্যাম্প ও ১৭নং ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং বাস্তুচূত রোহিঙ্গা নর-নারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবি প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। সাবেক মহা-সচিবের আগমন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সহ ক্যাম্প অভ্যন্তরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মূলত রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, আবাসন বিষয় সম্পর্কে দেখতে আসেন বাং কি মুন। তিনি ১৭ ও ২০ নং ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে কয়েকজন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতার সাথে কথা বলেন বলে ক্যাম্পের হেডমাঝি সিরাজুল মোস্তাফা জানিয়েছেন।

কুতুপালং আন-রেজিষ্ট্রার্ট ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোঃ নুর জানান, রোহিঙ্গাদের দাবী দাওয়া সম্পর্কে সাবেক মহা-সচিবকে রোহিঙ্গারা অবগত করেন। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হেলিক্যাপ্টার যোগে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

৬১ টাকার গ্যাস ৯ টাকায় বিক্রি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি জনগণকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেছেন, প্রতি ঘন মিটার এলএনজি আমদানিতে ৬১.১২ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে তা প্রতি ঘন মিটার মাত্র ৯.৮ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরও ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এরপরও আন্দোলন? তাহলে যে দামে ক্রয় করছি, সেই দামেই বিক্রি করি।

সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে চীন সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা শুধু আমাদের দেশে না, বিদেশেও যখন এলএনজি আমদানি করা হয় তখন দাম বৃদ্ধি করে। তখন তারা মেনেও নেয়। আমাদের হয়তো এত বড় সমস্যায় পড়তে হতো না। আপনাদের মনে আছে ২০০০ সালে আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল, আমাদের দেশের গ্যাস বিক্রি করার। কিন্তু আমি রাজি হইনি।

সেটার খেসারত দিতে হয়েছিল। আমি ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়েছিল ক্ষমতায় আসলে গ্যাস বিক্রি করবে। আমরা কেন গ্যাস বিক্রি করব? আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় গ্যাস আমরা ব্যবহার করব। আমরা রিজার্ভ রাখব। তারপর যদি থাকে বিক্রির চিন্তা করব। আগে কত গ্যাস আছে তা আমাকে জানতে হবে। আমি সে সময় যে ভবিষ্যৎবাণী করেছি সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমাকে শিল্পায়ন করতে হবে; বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে, সার উৎপাদন করতে হবে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে, অর্থনীতির উন্নতি করতে হবে। আমাকে এলএনজি আমদানি করতে হয়। এটা আমাদানি করতে আমার কত টাকা খরচ হয়, সে হিসাবটা আগে জানতে হবে। আমাদের প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। আর আমরা দিচ্ছি ৯.৮ টাকায়। তাহলে আমরা কী পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবে বলে চীন আমাকে আশ্বস্ত করেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেন, রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুইবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি। তারা আমার কথা শুনে সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা বলেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ জুলাই ৫ দিনের সরকারি সফরে ঢাকা থেকে চীনে পৌঁছান। ৬ জুলাই দেশে ফিরে আসেন।

‘মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ প্রথম দেখলাম’

মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ দেখলাম’ এই কথা বলেই কেঁদে দিলেন পুলিশে চাকরি পাওয়া ফারজানা আক্তার সুমির বাবা রিকসা চালক উমর ফারুক। ফারজানা আক্তা।সুমি বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুহিলা গ্রামে। সোমবার (৮ জুলাই) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন এ তরুণী সুমি।

এ সময় পাশে থাকা সুমির বাবা উমর ফারুক সহ অনেকেই কেঁদে ফেলেন। এতো কষ্টের কান্না নয়। এ তো আনন্দের অশ্রুজল। রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোজন-যোজন ব্যবধানে আশাহত হয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগেনা।

পরে ১০৩ টাকায় আবেদন ফরম পূরণ করে গত ১ জুলাই ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে দাঁড়ালেন রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। সব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হলেন। উমর ফারুক বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ। বিনা পয়সায় আমার মাইয়ার (মেয়ের) চাকরি হইছে। মাগনা (টাকা ছাড়া) চাকরি হয় এইড্যা (এটি) আইজই (আজ) দেখলাম।

আমি কোন দিন কল্পনাও করিনি যে টাকা ছাড়া আমার মেয়ে সুমির চাকরী হবে। সুমি কোন দিন সরকারী চাকরী করবে এটা ভাবিনি। যা এতো আমার বিশ্বাসই হতো না। পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বছরের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারীর কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা যেন পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

এর আগে ১ জুলাই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল টিআরসি পদে ৬ হাজার ২৮০ জন শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

তারেকের হ্যা, খালেদার না

বিএনপির বহিস্কৃতদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মত ভিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন একতরফা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। তাদের ভাষায় নির্বাচনে জনগনের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। সরকার জনগনের অধিকার রক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে, কাজেই তারা ঐ নির্বাচনের পর ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। সেই প্রেক্ষিতে তারা উপজেলা নির্বাচন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত লংঘন করে বিএনপির প্রায় ১৬৪ জন উপজেলায় অংশগ্রহণ করে এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যারা উপজেলা নির্বাচন করেছিল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়। এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে প্রায় ১১৪ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরো অন্তত ৩৪ জনকে বহিস্কার করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বহিস্কারাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এটা নিয়ে মত ভিন্নতা ছিল, তা সত্বেও দলের নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই বহিস্কারাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যেহেতু সাংগঠনিকভাবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। কাজেই যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা স্পষ্টভাবে বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লংঘন করেছে, এক্ষেত্রে তাদের বহিস্কার ছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না।

বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দাবি করেছেন যে, তারেক জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সারাদেশে এই বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক জিয়া বলেছেন দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী। এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্যই উপজেলা নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এই বহিস্কারাদেশের ফলে যেটা হয়েছে, ওই এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে ধস নেমেছে। ও এলাকায় বিএনপির অন্যান্য কর্মীরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং তাঁরাও বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে।

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং তিনি কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে বহিষ্কারাদেশ যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিএনপির একজন নেতা দাবী করেছেন যে, বেগম জিয়ার চিকিৎসক ডঃ মামুনের মাধ্যমে প্রেরিত এক বার্তায় বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যখন আমরা সংস্কারপন্থিদের দলে নিচ্ছি, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে তাঁদের আমরা দলে নিচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে দলের তৃণমূলের নিবেদিত কর্মীদেরকে বহিষ্কারাদেশ ঠিক হয়নি।

তিনি মনে করেন যে, এর ফলে সংগঠনে ভুল বার্তা যাবে এবং এর ফলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, এখন কাউকে শাস্তি দেয়ার সময় না। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। বরং দলে বহিষ্কৃত হয়েছে তাঁদেরকে দ্রুত দলে ফিরিয়ে এনে দলীয় কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের বিভক্তি ও বিরোধ কাটিয়ে ওঠারও নির্দেশ দিয়েছেন বেগম জিয়া বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তারেক জিয়া এখন পর্যন্ত নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। মা পূত্রের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই হলো দেখার বিষয়।

সিনিয়র নেতাদের সরাতে কাজে দিচ্ছে তারেক রহমানের কৌশল!

তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন করছে বিএনপির একটি অংশ। দলে তারেকপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতরা কৌশলে খালেদা জিয়ার অনুসারীদের সরিয়ে দিচ্ছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমান আগামীতে বিএনপির একমাত্র নীতিনির্ধারক হবার বাসনা থেকেই দলের ভেতর প্রশ্নকারী এবং ক্ষমতার প্রশ্নে ঝামেলা সৃষ্টিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে চাইছেন না।

জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের বিপরীতে যারা ক্ষমতার দাবি করতে পারেন তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারেক রহমানের এই বিশেষ কৌশল। কৌশলে খালেদা জিয়া অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে বাঁকা পথে চলছেন তিনি, সঙ্গে নিঃশেষ করা হচ্ছে খালেদার শক্তিশালী অনুসারীদেরও।

কৌশলে ধরাশায়ী হয়ে এরই মধ্যে বিএনপিতে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানদের মতো সিনিয়র নেতারা। কারণ, এরা যদি তারেক অধ্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে, তাহলে তারেকের নেতৃত্বে ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাদের (খালেদা অনুসারীদের) তারেক অধ্যায়ের আগেই ব্যর্থতার কাতারে ফেলে দল ত্যাগে বাধ্য করতে সব ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া শক্তভাবে শুরু হয়েছে। এ কৌশলে ব্যর্থতার দায়ে স্থায়ী কমিটির বড় অংশ যেকোনো মুহূর্তে বাদ পড়লে তৃণমূলেও চাপ পড়বে না। দলে ভাঙনের পরিস্থিতিও তৈরি হবে না। কেননা, ইতোমধ্যে আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই ব্যর্থতার পরিচয় ও প্রশ্নের মুখে রয়েছেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র মতে, গোচরে-অগোচরে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমান সব সময় তার অনুগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আলাদা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক। কৌশলে কাজও হচ্ছে। কেননা, খালেদাপন্থী সেসব নেতারা এরই মধ্যে দলে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

লন্ডন বিএনপির একটি সূত্র বলছে, যেহেতু তারেক রহমান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি, ফলে খুব শিগগিরই তিনি দেশের রাজনীতিতে ফিরতেও পারবেন না। যেহেতু দেশে ফিরতে পারবেন না তাই স্বাভাবিকভাবেই দলে কর্তৃত্ব সিনিয়রদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং তার নেতৃত্বে ফেরাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দলে বিতর্কিত করছেন। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিএনপির তারেকপন্থী সংঘবদ্ধ চক্র।

পুত্রবধুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় জরিমানার টাকা ভাগবাটোয়ারা

সলঙ্গায় পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী সেই শ্বশুরের ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ভুক্তভোগীকেপ্রদান করে অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বররা। একই সঙ্গে পুত্রবধুকে তালাক, শ্বশুরকে গোসলকরিয়ে তওবা পড়ানো সহ পুরো গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় দিয়েছেন গ্রাম্য প্রধান মাতব্বররাগন।

এ ছাড়াও সালিশী বৈঠক বসার পূর্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার কথা বলে ৩০ হাজার এবং গ্রাম্য মেলার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেওয়াহয়েছে। ইজ্জত হরনকারীর ইজ্জতের মুল্য হিসেবে নির্ধারিত জরিমানার টাকা এভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সলঙ্গার সর্বমহলেনানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। জানাগেছে,সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়নের ভরমোহনী গ্রামের মনিরুজ্জামান মনির পুত্র নয়নের সাথে উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা গ্রামেরআইয়ুব আলীর কন্যার বিয়ে হয় প্রায় ৪ বছর আগে।

এদিকে বিয়ের পর থেকেই ঐ পুত্র বধুর শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো। এরই এক পর্যায়ে গত রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকারদিকে বশত বাড়ীতে কোন লোকজন না থাকার সুযোগে তাকে একা পেয়ে লম্পট শ্বশুর তার শয়ন ঘরে ঢুকে জোর পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে।

এ সময় লম্পট শ্বশুরের কবল থেকে ছুটে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গিয়ে চাচা শ্বশুর আব্দুল মান্নানের ঘরে আশ্রয় নেয় কিন্তু সেখানে গিয়েওলম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি আশ্রিত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঐ ভুক্তভুগীকে মারপিট করে ডান চোখে জখম করে এবং এ ঘটনা প্রকাশ করা হলেতাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে লোকজনের অপবাদ থেকে বাঁচার জন্য ঐ পুত্রবধু বিষ পান করে আতœহত্যার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে তার পিত্রালয়ের লোকজন এসে তাকেউদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতলে ভর্তি করে।

এ ঘটনা গ্রাম্য প্রধানের কাছে বিচার প্রার্থনা করা হলেও উল্টো তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি দৈনিক স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায়প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বরদের টনক নড়ে। শুরু হয় নানা দিকে দৌড় ঝাঁপ। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করাহলেও ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয় প্রধানমাতব্বরগন।

ফলে তারা কোন উপায় অন্ত না পেয়ে গত বুধবার গভীর রাতে গ্রাম্য প্রধান মাতব্বরগন একই গ্রামের পশু চিকিৎসক কাওছারের বাড়ীতে সালিশীবৈঠক বসায়। গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশী বৈঠকে পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী লম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনির ২লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রকাশ্যে জরিমানা, গোসল করিয়ে তওবা পড়ানো ও গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় ঘোষনা করা হয়।

এদিকে সালিশী রায়ের ধার্যকৃত জরিমানার টাকার মধ্য থেকে ভুক্তভোগীকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে তাকে তালাক দিয়ে বিদায় করেদেওয়া হয়েছে। অপর দিকে জরিমানার অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান, পশু চিকিৎসক কাওছার হোসেন, গোলামমোস্তফা, মিলন, হান্নান ও মান্নানসহ অন্যান্য মাতব্বরগন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। সেই সাথে গ্রাম্য মাতববর চক্রটি প্রশাসন সহ মিডিয়াকর্মীদের নাম ভাঙ্গীয়া মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অপরদিকে সালিশী বৈঠকটি ধামাপাচা দেওয়ার জন্য গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান ও গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করারজন্য ৩০ হাজার ও গ্রামে মেলা বসানোর নামে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লম্পট মনিরুজ্জামানেরনিকট থেকে হাতিয়ে নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন ওই মাতব্বর চক্রটি।

প্রধানমাতব্বরদের পকেটে থাকা জরিমানার টাকা উদ্ধার ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসন সহ জাতীয় মানবিধিকারকমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

পিঠা বিক্রির আয়ে পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।

সাপের ভয়ে আলু তোলা যাচ্ছে না

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিস্তৃর্ণ আলু ক্ষেতের ইদুরের গর্তে মিলছে বিষধর গোখরা সাপ। আলু তুলতে গিয়ে গত দু’দিনে তানোর পৌরশহরের আকচা বরশো স্কুল এলাকায় অন্তত ১০টি প্রাপ্তবয়স্ক সাপ মেরেছেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভীত শ্রমিকরা দেখা পাওয়া মাত্রই পিটিয়ে মেরেছেন সাপগুলো। প্রাণভয়ে অনেকেই নামছেন না ক্ষেতে।

এতে পরিপক্ক আলু তোলা নিয়ে বেকায়দায় কৃষক। তবে নির্বিচারে সাপ পিটিয়ে না মারার অনুরোধ জানিয়েছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। স্থানীয় কৃষক বিশ্বনাথ চৌধুরী জানান, তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। এখন আলু তোলায় ব্যস্ত সবাই। কিন্তু ক্ষেতে গোখরা সাপ দেখা দেয়ায় শ্রমিকরা ক্ষেতে নামতে চাইছেন না।

দ্বিগুন পারিশ্রমিক দিয়েও মজুর নামানো যাচ্ছে না ক্ষেতে। ফলে আলু নিয়ে বেকায়দায় তারা। এলাকায় আলু ক্ষেতে শ্রমিকের কাজ করছেন সিহাবুর ইসলাম (৩১), মমিনুল আলী (২৬), রাকিবুল হোসেন (২৩)। তারা বলেন, প্রতিদিনই আলু তুলতে গিয়ে বিষধর গোখরার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। দংশনের শঙ্কায় দেখা পাওয়ামাত্রই পিটিয়ে মেরে ফেলছেন সাপ। এ ঘটনায় শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এ অঞ্চলে পাওয়া গোখরা উপমহাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। এটি গোমা, খইয়া বা খড়মপায়া গোখরা বলেও পরিচিত। ফনায় চশমার মতো দুটি চক্র থাকে। দেড় মিটার দৈর্ঘ্যের গোখরা নিশাচর। এরা মানুষের বসতবাড়ির আশেপাশে, চাষের জমি ও বনাঞ্চলে বাস করে। এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট পাখি, ব্যাঙসহ অন্যান্য উভচর জীব। দেখতে প্রায় একই রকম গোখরা গোষ্ঠীর অন্য সাপগুলো হলো, কেউটে, শঙ্খচূড়, স্পিটিং কোবরা। এরাও অত্যন্ত বিষধর।

বিরক্ত না করলে এরা সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। গোখরা ছাড়াও সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে রাসেল ভাইপার। মারাত্মক বিষধর এ সাপ রয়েছে বিপন্ন প্রাণির তালিকায়। এদিকে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সতর্ক ও সচেতনতা বাড়াতে নানান উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌ. মো. গোলাম রাব্বী। নির্বিচারে সাপ মেরে না ফেলারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাপ নির্বিচারে না মেরে সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রার্ণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গোখরা সাধারণত কৃষকের ফসল নষ্টকারী ইদুর দমন করছে। তাছাড়া আঘাত না পেলে সাধারণত আক্রমণ করে না এ প্রজাতির সাপ। কাজেই দেখা পেলে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। লাভবান হবেন কৃষক।

মিম ও বাপ্পির বহুল আলোচিত দৃশ্য (ভিডিও সহ) !!! মিডিয়ায় তোলপাড়

আবারও জুটি হয়ে পর্দায় ফিরছেন বাপ্পী চৌধুরী ও বিদ্যা সিনহা মিম। আগামী ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পাচ্ছে তাঁদের অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দাগ হৃদয়ের’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন তারেক শিকদার। সম্প্রতি ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে।

পরিচালক তারেক শিকদার বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা ছবিটির ছাড়পত্র পেয়েছি। সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা আমার ছবিটি নিয়ে প্রশংসা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, ছবিটি দর্শক পছন্দ করবে। আগামী বছর ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ছবিটি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা প্রযোজক সমিতিতে ছবি মুক্তির জন্য নাম নিবন্ধন করিয়েছি।’

তারেক সিকদার আরো বলেন, ‘আমার এই ছবিটি একেবারেই প্রেম-ভালোবাসার গল্প নিয়ে বানিয়েছি। সঙ্গে দর্শক সামাজিক কিছু মেসেজ পাবে। এর আগে হাজারো ছবি নির্মাণ হয়েছে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে। আমরা সবাই জীবনে প্রেম করেছি, কিন্তু একজনের প্রেমের গল্পের সঙ্গে অন্যজনের প্রেমের গল্পের মিল নেই। তেমনি আমরা এই গল্পটাও একেবারেই মৌলিক একটি গল্প নিয়ে নির্মাণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, ছবিটি সবাই পছন্দ করবেন।’

ছবির গল্পে দেখা যাবে, একজন চিত্রশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিম। খুব সাদামাটা একটি মেয়ে। যার আঁকা ছবি দেখে তার খোঁজে লন্ডন থেকে বাপ্পী ছুটে আসে। আঁচলের চরিত্রটি খুব চঞ্চল একটি মেয়ের। সেও বাপ্পীকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু বাপ্পী ভালোবাসে মিমকে। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প।

‘দাগ’ ছবির কাহিনী লিখেছেন কামাল আহমেদ, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। আগে বাপ্পী-মিমকে সুইটহার্ট, আমি তোমার হতে চাই, দুলাভাই জিন্দাবাদ ছবিতে জুটি হিসেবে দেখা গেছে।তারেক শিকদার পরিচালিত ত্রিভুজ প্রেমের ‘দাগ হৃদয়ের’ ছবিটিতে বাপ্পী ও মিম ছাড়াও দেখা যাবে নায়িকা আঁচল আঁখিকে।