হারলেন কোহলি, ট্রলের শিকার এই আনুশকা!

আপাত দৃষ্টিতে সহজ লক্ষ্যটাই পাহাড় হয়ে দাড়ায় ভারতের জন্য। মাত্র ২৪০ রানে তাড়া করতে নেমে পাঁচ রানের মধ্যে ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফিরে যান। ঘটনাচক্রে রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি প্রত্যেকেই আউট হয়ে যান ব্যক্তিগত এক রান করে। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ান-ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই ব্যক্তিগত এক রান করে আউট হয়ে যাননি।

ফলত নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানের লজ্জাজনক হার। কোহলিদের এ হার নিয়ে খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা। সমালোচকরা মিম উৎসবে মেতেছেন কোহলির স্ত্রী অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে নিয়ে। মাইক্রো-ব্লগিং সাইট টুইটারে কোহলি ও আনুশকার মিম বানিয়ে ভক্তরা নানা মন্তব্য করে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইট্টিনের প্রতিবেদন জানিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হারের পর ক্রিকেট-ভক্তরা তাঁদের সমস্ত আবেগ-অনুভূতি উগড়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। টুইটার ব্যবহারকারীরা আনুশকা শর্মার ‘সুই ধাগা’ সিনেমার দৃশ্য নিয়ে মিম বানাচ্ছেন। তাতে যুক্ত করছেন কোহলির ধরাশায়ী অবস্থা। ভক্তদের হতাশা আর ক্ষোভ সব যেন আছড়ে পড়ছে আনুশকার ওপর!

মঙ্গলবারের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির জন্য কেন উইলিয়ামসনদের ইনিংস থেমেছিল ৪৬.১ ওভারে। এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু করা যায়নি। গতকাল বুধবার ছিল রিজার্ভ ডে। বাকি চার ওভার খেলে কোহলিদের সামনে নিউজিল্যান্ড লক্ষ্য দেয় মাত্র ২৪০ রান। খেলতে নেমে ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় কোহলির দল। বিশ্বকাপ না, হানিমুন কাপ খেলতে গিয়েছিল ভারত’!

সাবেক বিগ বস প্রতিযোগী, মডেল, অভিনেত্রী, রিয়েলিটি টেলিতারকা ও ‘বিতর্কের রানি’ অভিধা পাওয়া রাখি সায়ন্ত ফের আলোচনায় এলেন। এবার ভারতের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার বিষয়ে কড়া সমালোচনা করলেন তিনি। তার প্রশ্ন, ভারতীয় ক্রিকেটাররা কি ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন, না কি ‘হানিমুন কাপ’ খেলতে গিয়েছিলেন? রাখির ভিডিও-বার্তা অন্তর্জালে ভাইরাল হয়েছে।

ইংল্যান্ডে শুধু ক্রিকেটাররাই যাননি, নিজেদের স্বামীকে মানসিকভাবে চাঙা রাখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন তাদের স্ত্রীরা। ম্যাচ না-থাকা দিনগুলোতে স্বামীসঙ্গে ঘুরেও বেরিয়েছেন তারা। আর তাতেই চটেছেন অভিনেত্রী রাখি সায়ন্ত। ভিডিও-বার্তায় তিনি বললেন, ‘রোহিত শর্মার স্ত্রী গিয়েছে, বিরাট কোহলির স্ত্রী গিয়েছে, আরো অনেকের স্ত্রী গিয়েছে সেখানে। এ তো ওয়ার্ল্ড কাপ না, মনে হচ্ছে তারা হানিমুন কাপ খেলতে গিয়েছে।’

ভারত হারায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাখি সায়ন্ত। ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো দুনিয়া, পুরো ভারতের মানুষের চোখ ছিল তোমাদের দিকে। না তারা ঠিকঠাক খেয়েছে, অফিস করেছে, ব্যবসা করেছে। কিছু করেনি তারা। এক মা তার বাচ্চাকে দুধ না দিয়ে বলেছে, বিশ্বকাপ আসলে তারপর দুধ খেতে দেব।’ ক্রিকেটারদের প্রতি রাখির প্রশ্ন, ‘কী হয়েছে তোমাদের, বলো তো? কেন তোমরা সেখানে বউকে নিয়ে গিয়েছ?’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির জন্য কেন উইলিয়ামসনদের ইনিংস থেমেছিল ৪৬.১ ওভারে। এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু করা যায়নি। বুধবার ছিল রিজার্ভ ডে। বাকি চার ওভার খেলে কোহলিদের সামনে নিউজিল্যান্ড লক্ষ্য দেয় মাত্র ২৪০ রান। খেলতে নেমে ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় কোহলির দল।

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে হেরে ভারতের ক্রিকেট বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। মাত্র ২৪০ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দল। আপাত দৃষ্টিতে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঁচ রানের মধ্যে ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফিরে যান। ক্রিকেটপ্রেমী ভারতে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

সেবার কেঁদেছিল বাংলাদেশ, এবার কাঁদলো ভারত

২০১৬ সালের ২৩শে মার্চ। টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয় তখন সময়ের ব্যাপার। দরকার ৩ বলে ২ রান।
পরপর দুই বলে আউট মুশফিক-মাহামুদউল্লাহ। শেষ বলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রান আউট! ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল টাইগাররা।

সেই রান আউটে ভারত টিকে থাকলো টুর্নামেন্টে। আনন্দের সেই রান আউট। সেই রান আউটের তিন বছর কেটে গেছে। আজ ভারত বাদ পড়লো সেরকমই এক রান আউটে। রান আউটটা আজ কান্নার কারণ ভারতের।

মার্টিন গাপটিল। শেষ দুই বিশ্বকাপে দেখেছেন মুদ্রার দুই পিঠ। ২০১৫ বিশ্বকাপে যেখানে একাই টেনে তুলেছিলেন নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে, ২০১৯ বিশ্বকাপে সেখানে ধুঁকছে ব্যাট হাতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারও দলকে ফাইনালে তুলতে পালন করলেন অন্যতম ভূমিকা। এবার ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে! রান আউটে নিউজিল্যান্ডকে তুললেন ফাইনালে।

গাপটিলের এক থ্রোতে ঘুরে গেছে ম্যাচের চাকা। যদিও নিউজিল্যান্ডের আজকের ম্যাচের বড় হুমকি ছিল জাদেজা, তবুও ইতিহাস বলে ধোনি ক্রিজে থাকা মানে ম্যাচের পাল্লা ভারতের পক্ষে ঝুঁকে থাকা। সেই ধোনিই যখন ভারতকে নিয়ে যাচ্ছিল জয়ের দিকে, গাপটিল ফেরালেন তাঁকে অবিশ্বাস্য এক থ্রোতে। সেখানেই মূলত ম্যাচ চলে যায় কিউইদের হাতে। তাইতো ম্যাচ শেষে টেইলর-উইলিয়ামসন বা হেনরিকে বাদ দিয়ে সবাই পড়ে আছে গাপটিলের সেই থ্রোতে!

ধোনি আউট না হলে হয়তো এতক্ষণে ফাইনালে থাকতো ভারত। তবে গাপটিলের সেই রান আউটে ধোনির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটা হয়ে থাকলো এক দুঃস্বপ্নের ম্যাচ। এক ভুলে যাওয়ার ম্যাচ। অন্যতম ফেভারিট ভারতকে বিদায় নিতে হচ্ছে সেমি থেকেই।

হৃদয়ছোঁয়া বার্তা; কোরআনের উদাহরণ দিয়ে যা বললেন হাশিম আমলা!

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর নামক একটি স্থানিয় মসজিদে জুম্মার নামায পড়তে যাচ্ছিলেন তামিম-মুশফিকেরা, তারা পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসী হামলায় মারা যান একাধিক মানুষ।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নিন্দার ঝড়। সে তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার হাশিম আমলাও আছেন এদের মাঝে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কিছুক্ষণ আগে একটা বার্তা দিয়েছেন আমলা। সেখানে নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এই প্রোটিয়া ওপেনার।

সুস্পষ্ট ভাবেই বুঝা যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের আজকের হামলাটি নিরীহ মুসলিমদের বিরুদ্ধে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন হামলা ছিলো না, বরং ঐতিহাসিক ভাবে মুসলিমদের উপর হামলার একটি ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে আজকের হামলাটি হয়েছে।

যা বন্ধুকদারী ব্যবহৃত বন্দুকেই প্রমাণিত। সেটা ভালো করেই জানেন ধর্মাপ্রাণ আমলা। তাই তো তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বসীরা এগুলোকে কিছু মনে করেন না।’ এখানেই থামেননি ৩৫ বছরের ডান হাতি ওপেনার। উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করলেন কোরআনের আয়াত।

আমলা যে ছবিটি তার টুইট বার্তায় পোস্ট করেছেন সেই ছবিটিতে দেখা যায়, মৃত্যু পথের ওই যাত্রি এমন অবস্থায়ও এক আঙুল উঁচু করে, এক আল্লাহর প্রতি আস্থার জানান দিচ্ছেন।

এব্যাপারে আমলা পবিত্র কোরআন শরীফের সূরা আল ইমরানের ১৭৫ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। ‘সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আর তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।’-সূরা আল ইমরান-১৭৫।

মসজিদে হামলায় আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আমলর সেই পোস্ট এরপর আমলা আরো যোগ করেন, ‘নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে আজকের সন্ত্রাসী হামলার শিকার আহত ব্যক্তিটি এখনও আল্লাহর রহমতে প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী।’

এরপর নিহত এবং হতাহতদের প্রতি আল্লাহর রহমত কামনা করেন আমলা। তার ভাষায়, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত করুন। আমীন।’