সিনিয়র নেতাদের সরাতে কাজে দিচ্ছে তারেক রহমানের কৌশল!

তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন করছে বিএনপির একটি অংশ। দলে তারেকপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতরা কৌশলে খালেদা জিয়ার অনুসারীদের সরিয়ে দিচ্ছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমান আগামীতে বিএনপির একমাত্র নীতিনির্ধারক হবার বাসনা থেকেই দলের ভেতর প্রশ্নকারী এবং ক্ষমতার প্রশ্নে ঝামেলা সৃষ্টিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে চাইছেন না।

জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের বিপরীতে যারা ক্ষমতার দাবি করতে পারেন তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারেক রহমানের এই বিশেষ কৌশল। কৌশলে খালেদা জিয়া অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে বাঁকা পথে চলছেন তিনি, সঙ্গে নিঃশেষ করা হচ্ছে খালেদার শক্তিশালী অনুসারীদেরও।

কৌশলে ধরাশায়ী হয়ে এরই মধ্যে বিএনপিতে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানদের মতো সিনিয়র নেতারা। কারণ, এরা যদি তারেক অধ্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে, তাহলে তারেকের নেতৃত্বে ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাদের (খালেদা অনুসারীদের) তারেক অধ্যায়ের আগেই ব্যর্থতার কাতারে ফেলে দল ত্যাগে বাধ্য করতে সব ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া শক্তভাবে শুরু হয়েছে। এ কৌশলে ব্যর্থতার দায়ে স্থায়ী কমিটির বড় অংশ যেকোনো মুহূর্তে বাদ পড়লে তৃণমূলেও চাপ পড়বে না। দলে ভাঙনের পরিস্থিতিও তৈরি হবে না। কেননা, ইতোমধ্যে আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই ব্যর্থতার পরিচয় ও প্রশ্নের মুখে রয়েছেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র মতে, গোচরে-অগোচরে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমান সব সময় তার অনুগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আলাদা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক। কৌশলে কাজও হচ্ছে। কেননা, খালেদাপন্থী সেসব নেতারা এরই মধ্যে দলে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

লন্ডন বিএনপির একটি সূত্র বলছে, যেহেতু তারেক রহমান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি, ফলে খুব শিগগিরই তিনি দেশের রাজনীতিতে ফিরতেও পারবেন না। যেহেতু দেশে ফিরতে পারবেন না তাই স্বাভাবিকভাবেই দলে কর্তৃত্ব সিনিয়রদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং তার নেতৃত্বে ফেরাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দলে বিতর্কিত করছেন। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিএনপির তারেকপন্থী সংঘবদ্ধ চক্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *