শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ ঘোষণাকারী কে এই মুফতি রুহুল আমীন? | পড়ুন বিস্তারিত ...

শেখ হাসিনাকে ‘কওমী জননী’ ঘোষণাকারী কে এই মুফতি রুহুল আমীন?

কওমী জননী- আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম, গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমিন। এ লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকা (সদর-কালিয়ায়) গণসংযোগ করছেন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, মুফতি রুহুল আমীনের আগমন উপলক্ষে এলাকায় শোডাউন করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কয়েকশ মোটর সাইকেল ও গাড়ি নিয়ে তারা নতুন এই প্রার্থীকে এলাকায় স্বাগত জানান। এরপর এলাকায় তিনি গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগে মুফতি রুহুল আমীন স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি। তিনি আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের খাদেম হিসেবে নির্বাচিত করবেন। মুফতি রুহুল আমিন ‘ছদর সাহেব’ খ্যাত আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর ছেলে। জাতীয় পর্যায়ে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। ২০০৮ সালে মহাজোট ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

তা ছাড়া তার গোপালগঞ্জে তার কর্মস্থল থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে তার অনুসারীরা জানান। কওমী আলেম-উলামার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসার সনদের যে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন।

আল্লামা শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি প্রধানমন্ত্রীর !!

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি তোলা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শুকরানা মাহফিল থেকে। শোলাকিয়ার ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসাগুলোর ছয় বোর্ডের সমন্বিত সংস্থা আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যাহ বাংলাদেশ আয়োজিত এই ‘শুকরানা মাহফিলে’ সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী। মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের সবই দিয়েছেন, আপনার প্রতি আমাদের আরও একটু চাওয়া আছে। আমরা আপনার কাছে ইমামদের ৫ হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার টাকা ভাতা দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের সব ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে ভাতা দিলে সরকারের ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, যা খুবই কম। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আপনি মানবতা দেখিয়েছেন।

আপনি বলেছেন ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হলে ৮ লাখ মানুষের খাওয়ার অভাব হবে না। আমরা চাই আমাদের অন্যান্য দাবির মতো আপনি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের দাবিও মেনে নেবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো আলেমকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি৷ আমরা চাই আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহ আহম্মদ শফীকে আপনি স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন।

এদিকে শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেমেছে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ঢল। রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাস ভর্তি করে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মধ্যরাত থেকেই ঢাকায় আসতে শুরু করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও চারপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শাহবাগ ও টিএসসি মোড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যান। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

মৎস্যভবন, হাইকোর্টের সামনের এলাকা, দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি থেকে সোহরাওয়র্দী উদ্যানের প্রতিটি প্রবেশ পথে সতর্ক অবস্থা দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের। এ ছাড়া প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর ও হাতে তল্লাশির মধ্য দিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও গণতন্ত্র বজায়ে পাশে থাকবেন আলেমরা !!

উন্নয়নের গণতন্ত্র এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকার কথা বলেছেন কওমি আলেম-ওলামারা। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘শুকরানা মাহফিলে’ আলেম-ওলামাদের বক্তব্যে এমন কথাই শোনা গেছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক শিক্ষা ও আরবি) স্বীকৃতি দেওয়ায় রোববার (৪ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া এ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও এর আগে মাহফিলে অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। তানযিমুল মাদারিসে আরাবিয়ার সহ-সভাপতি মাওলানা ইউনুস বলেন, ইসলামের প্রকৃত খেদমতকারী শেখ হাসিনা। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনার উন্নয়নের বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কওমি আলেমরাও পাশে রয়েছেন।

মাওলানা ইউনুস মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অন্য বক্তারা বলেন, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়ে ইসলামের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’র ব্যানারে আয়োজিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*