‘তোমার মতো সার্জেন্ট এই গাড়ির দরাজা ধরারও যোগ্য না’ | পড়ুন বিস্তারিত ...

‘তোমার মতো সার্জেন্ট এই গাড়ির দরাজা ধরারও যোগ্য না’

রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টের প্রতি ‘সরকারদলীয় এমপির মেয়ে’ দাবি করা এক নারীর আগ্রাসী আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ওই নারীকে সার্জেন্ট ঝোটন সিকদারসহ পুলিশদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভিডিওটি শেয়ার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। ভিডিওটি দেখুন এইখানে ক্লিক করে:

পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এই ভদ্র ম‌হিলা মিরপুর ১৩ নম্বর স্কলা‌স্টিকা স্কু‌লের সাম‌নে তার প্রাই‌ভেটকার (ঢাকা মে‌ট্রো~গ~২৬~৯৩৪৭) ডাবল লে‌নে পা‌র্কিং ক‌রে রে‌খে‌ছেন। তার গা‌ড়ির জন্য পেছ‌নের গা‌ড়িগু‌লো আস‌তে পার‌ছে না। প্রচণ্ড জ্যাম লে‌গে আছে। তা‌কে অনেকবার স‌বিনয় অনু‌রোধ করলাম, আপু আপনার গা‌ড়ির ড্রাইভা‌র‌কে ডে‌কে দ্রুত গা‌ড়ি‌টি স‌রি‌য়ে পেছ‌নের গা‌ড়িগু‌লো আসার সু‌যোগ দিন এবং জ্যামমুক্ত ক‌রেন। ‌কিন্তু না, তি‌নি আমার কোনো কথা তো শুন‌লেনই না, বরং আমা‌কে খারাপ ভাষায় গালাগা‌লি ক‌রেন এবং সঙ্গে ব‌লেন তু‌মি সরকা‌রের দুই টাকার চাকর, আমা‌কে চেনো তু‌মি? কার গা‌ড়ি জা‌নো এটা? আ‌রও অ‌নেক খারাপ কথা!’

ভিডিওতে কথা বলা ওই নারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আইন লঙ্ঘন করার ভিডিও নেয়ার সময় সার্জেন্টকে তিনি বলেন, ‘এই কার গাড়ির ছবি তোলো? এটা সরকারি দলের লোকের গাড়ি। কার গাড়ির ছবি তোলো? বেশি কইরো না! তোমার মতো সার্জেন্ট কয় টাকা বেতনে চাকরি করে? কয় টাকা বেতনে চাকরি করে তোমার মতো সার্জেন্ট? আমরা প্রধানমন্ত্রীর লোক, ঠিক আছে? যদি সাহস থাকে আমার বাবা জাতীয় কমিটির সদস্য, আমার বাবা এমপি, ঠিক আছে? তোমার মতো হাজারটা সার্জেন্ট…ঠিক আছে? কয়টাকা বেতনে চাকরি করো? হ্যাঁ চাকরই তো..চাকরই তো!’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিহাদ রহমান লিখেছেন, ‘অন্যায় যে করবে সে অপরাধী, হোক আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি কোনো ছাড় নেই। সার্জেন্ট ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য।’

এদিকে পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ফেসবুকে অনেকেই ওই নারীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তার কঠোর সমালোচনা করেন।

হাসান রিজভি নামের চট্টগ্রামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘এরা রাস্তাঘাটে সরকারের নাম অন্যায় কাজে বিক্রি করে কষ্টে অর্জিত দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’

কাজী কামরুল নামে এক ব্যবসায়ী লিখেছেন, ‘উনাকে ও উনার গাড়িটা আটক করা উচিত ছিল। তারপর দেখা যেত তিনি কোন নেতার বউ বা মেয়ে। এরা দলের ক্ষতি করে। উনার কথাগুলো রেকর্ড করা ছিল তাই আটক করা যেত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*