খালি থাকা ৪ আসনে প্রার্থী ফিরে পেল বিএনপি | পড়ুন বিস্তারিত ...

খালি থাকা ৪ আসনে প্রার্থী ফিরে পেল বিএনপি

আপিল আবেদনের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্র পাওয়ায় চার আসনে নিজেদের একক প্রার্থী ফিরে পেয়েছে বিএনপি। বিভিন্ন আসনে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনব্যাপী এই শুনানি চলবে। বিএনপির যে চার একক প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন বগুড়া-৭ আসনের মোর্শেদ মিল্টন, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম), মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান ও ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১১তম সংসদ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩৬ আসনে এবং বিএনপি পাঁচ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।গত রবিবার রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করে ছয় আসনে বিএনপির সব প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। আসনগুলো হলো সুনামগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, পাবনা-১, বগুড়া-৭ ও ঢাকা-১। সেই সাথে তিন আসন কুড়িগ্রাম-৪, সাতক্ষীরা-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন হারান আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে প্রথম দিন বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ১০০ আবেদনের শুনানি করা হয়। যার মাধ্যমে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনিসহ (পটুয়াখালী-৩) মোট ৫৬ প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাড়পত্র দেয়া হয়। তবে ৫-১০ জন প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনিষ্পন্ন রেখেছে ইসি।

আপিলের ক্রম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ১৬০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে। আর শুক্রবার ১৫০টি এবং শনিবার বাকি ২৩৩টি আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেয়া মনোনয়নপত্র বাতিল এবং গ্রহণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনের বেধে দেয়া তিন দিন সময়ের মধ্যে মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল।

ইসিকে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা ফখরুল:: আজ (৫ ডিসেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকেদের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ন্যায়বিচার যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হবেন।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থিতা বাতিল করলেও বিএনপির অধিকাংশ প্রার্থী প্রথম দিনের আপিলে ন্যায় বিচার পাওয়াকে আমরা বিজয় হিসেবে দেখছি।

আমি নির্বাচন কমিশনকে আপিলে ন্যায় বিচার করায় ধন্যবাদ জানাই।’তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নষ্ট করার জন্য প্রশাসন যুক্ত হচ্ছে। আমরা আবারও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে গ্রেপ্তার বন্ধ করার জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’তিনি আরও বলেন,

আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ভীত হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বে-আইনিভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে সরকার। গ্রেপ্তার না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আজকে সরকার এত ভীত সন্ত্রস্ত যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে এই নির্বাচনে। উদ্দেশ্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। আবারো বলছি-নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন, দলগুলোর যে অধিকার আছে, তা প্রয়োগ করার সুযোগ দিন, গ্রেপ্তার বন্ধ করুন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*