মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল | পড়ুন বিস্তারিত ...

মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা -৯ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।বৃহস্পতিবার দুপুরে (৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের আদেশে মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা আব্বাসকে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।এর আগে গত ২৮ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ের পর ঢাকা-৯ আসনে মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। কিন্তু তা নিতে জমা নিতে অস্বীকৃতি জানান রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

সমর্থকদের অভিযোগ, মির্জা আব্বাসের ছবি দেখেই শেষদিনে মনোনয়নপত্র জমা নিতে গড়িমসি করেন তারা। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা দাবি করেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসায় তা জমা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে ১ ডিসেম্বর মির্জা আব্বাসের মনোনয়পত্র নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দেয়া হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

ফলে ওই মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই সম্পন্নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রিট করা হয়। মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এছাড়া যাচাই-বাছাইয়ের পর!

কোনো পক্ষ আপিল করলে সেটিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করার দেন আদালত। আদালতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার একেএমন এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।এরা আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণে রিটার্নিং অফিসারকে দেয়া হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে নির্বাচন কমিশন।

বিএনপির অফিস এখন মনোনয়ন বাণিজ্য:: বিএনপির নয়াপল্টন অফিস ও গুলশানে বেগম জিয়ার কার্যালয় এখন মনোনয়ন বানিজ্যের হাটে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি।বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী’র ৫৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন দেখা গেছে যারা যত বেশি চাঁদা দিতে পারছে তাদেরকেই বিএনপি মনোনয়ন দিচ্ছে। এমনকি তারা (বিএনপি) অনেক ঋণখেলাপী, দশ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত আসামী এবং ওয়াদুদ ভূইয়া বিশ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত তাকেও নমিনেশন দিয়েছে।সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি যেভাবে মনোনয়ন দিচ্ছে সেটি দেশের রাজনীতির জন্য প্রচন্ড কলঙ্কজনক এবং অশুভ। যারা মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাণিজ্য করে তারা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায় তাহলে দেশটাই তো বেঁচে দিবে। সুতরাং এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সমস্ত পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সবসময় সিরিয়াসলি নিতে হবে। আমরা যদি নির্বাচনকে সিরিয়াসলি না নিই তবে সেটি ভূল হবে। কারণ প্রতিপক্ষকে দুর্বল মনে করা হলো নিজের প্রস্তুতি ভালো না হওয়া। এসময় তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী’র স্মৃতির প্রতি গভীর শশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম উপদেষ্টা লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা এড. বলরাম পোদ্দার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, সংগঠনের সহ সভাপতি অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, সংগঠনের সাধারণ সম্পদক অরুন সরকার রানা, আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমেদ জয়, শাহ আলম, বৃষ্টি রাণী সরকার, মাধবী সরকার, আফসার উদ্দিন, হাবিব উল্লাহ রিপন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*