মৃত্যুর পর চল্লিশার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? | পড়ুন বিস্তারিত ...

মৃত্যুর পর চল্লিশার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

আমাদের সমাজে একটা রীতি প্রচলিত রয়েছে সেটা হলো- কোন ব্যক্তি যদি মারা যায়, তাহার মৃত্যুর চল্লিশ দিনের মাথায় বিশাল মজলিশের মাধ্যমে মেজবানের আয়োজন করা হয়। ইসলামি শরিয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। প্রকৃত পক্ষে ইসলামের পূর্বযুগে মৃত ব্যক্তির জন্য এভাবে খাবারের ব্যবস্থা করার প্রচলন ছিল। ইবনে মাযাহ শরীফে সাহাবী জায়ীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে মৃতের বাড়ীতে এ ধরনের খাবারের ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদে হযরত ওমর (রা.) মৃত্যুর পর এ ধরনের খানা পিনার আয়োজন করাকে নিয়াহাত অর্থাৎ জাহেলিয়াত যুগের রসম বলে উল্লেখ করেছেন। বুলগুল মারামে’নামক গ্রন্থে ৪ মাযহাবের ইমামও একে ‘নিয়াহাত’ বলে উল্লেখ করেন।তবে মা-বাবা, কোনও আত্মীয়-স্বজন মারা যাওয়ার পর তার জন্য আমাদের কি করণীয়? নিচে তা উল্লেখ করা হলো ১. মৃত্যুর পর জীবিত অবস্থায় কৃত আমল দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) বলেন, “মানুষ যখন মারা যায়, তখন সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের দরজা বন্ধ হয়না। (১) ছাদকায়ে জারিয়া। (২) যদি এমন সন্তান রেখে যায়, যে পিতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। (৩) যদি এমন দ্বীনি শিক্ষা রেখে যায়, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (সহীহ মুসলিম)

যে ৪ টি শর্ত পূরণ না করলে মুসলমানদের বিয়ে বিশুদ্ধ হয়…

স্ত্রী সহবাসের দোয়া সবার জানা দরকার প্লিজ পড়ুন

ফরজ নামাজ শেষে প্রিয়নবি যে দোয়া পড়তেন

২. মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-ছাদকা করা, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-ছাদকা করার ব্যাপারে বুখারী-মুসলিমে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত হাদীসটি বিশেষ ভাবে প্রণিধানযোগ্য।হযরত আয়েশা (রা.) বলেন,“জনৈক ব্যক্তি রাসূল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই কোন অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর ছাওয়াব পাবেন? রাসূল (সা.) বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

৩. ঋণ পরিশোধ করা, মা-বাবার কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘‘মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ তা তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়”। (সুনান ইবন মাজাহ:২৪১৩) ৪. কাফফারা আদায় করা

মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা, ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা) (সূরা আন-নিসা:৯২)

৫. মান্নত পূরণ করা, মা-বাবা কোন মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, কোন মহিলা রোজা রাখার মান্নত করেছিল, কিন্তু সে তা পূরণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করল। এরপর তার ভাই এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি বলরেন, তার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন কর। (সহীহ ইবন হিববান:২৮০)

একজন নারীর হজ প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

বিপদে সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেও আল্লাহপাক মুখ ফিরিয়ে নেননা

যে গোনাহ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন প্রিয়নবি

৬. কবর যিয়ারত করা, সন্তান তার মা-বাবার কবর যিয়ারত করবে। এর মাধ্যমে সন্তান এবং মা-বাবা উভয়ই উপকৃত হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম,অত:পর মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তোমরা কবর যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনান তিরমীযি :১০৫৪)

উল্লেখ্য, তবে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো সময় আত্মীয়স্বজন, লোকদের খাওয়াতে পারেন। কিন্তু সেটি চল্লিশ দিনেই হতে হবে, সেটি নির্ধারণ করা যাবে না। ইসলামে নিজস্ব ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো সময়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি আত্মীয়স্বজনকে খাওয়াতে পারেন। তবে সেটাকে ৪০তম দিনেই নির্ধারণ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*