ধর্মীয় অনুশাসন মানলে হার্ট ভালো থাকবে : ডা. দেবী শেঠি

সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখলে ও ধর্মীয় অনুশাসন ঠিকঠাক মেনে চললে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের হার্ট ভালো থাকবে বলে জানিয়েছেন উপমহাদেশের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি। শনিবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

পৃথিবীর খ্যাতনামা কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেঠী বলেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে ভালো রাখে। আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, ধার্মিক হোন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখুন। আপনাকে আধ্যাত্মিকতা অর্জন করতে হবে না, শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মানুন। প্রতিদিন কাজ শুরু করার আগে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। কাজ শেষে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন। এগুলো (ধর্মীয় অনুশাসন) খুবই সহজ, এতে আপনি ভালো থাকবেন।’

বাংলাদেশ ও ভারতে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সের লোকেরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন বলেও জানান দেবী শেঠী। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে জন্ম নেওয়া এ ডাক্তার স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখায় নিজ দেশ ও সারা বিশ্বে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের হৃদরোগ হচ্ছে। যাদের বয়স ৬০-৬৫ বছরের বেশি। কিন্তু এ অঞ্চলে (উপমহাদেশ) যুবকদের হৃদরোগ হচ্ছে।

৪০ বছরের আগে পরে হৃদরোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে। ডা. দেবী শেঠী বলেন, ইউরোপ আমেরিকায় সন্তানেরা বৃদ্ধ বাবা-মাকে হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে নিয়ে যায়। এ অঞ্চলে বৃদ্ধ বাবা-মারা সন্তানের হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে ছুটেন। তিনি জানান, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

কবিরাজ : তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদিক ঔষধের দ্বারা নারী- পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – খিলগাঁও, ঢাকাঃ। মোবাইল : ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ ব্যায়াম করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, তেলে ভাজা খাবার হৃদরোগ ত্বরান্বিত করে। যে কোনো ধরনের জাঙ্ক ফুড হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ধুমপান হৃদরোগকে আমন্ত্রণ জানায়।

পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।

যে ছবি মন কেড়েছে অনেকের

কোনো ব্যক্তি বা কোনো বিষয়কে বিখ্যাত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে প্রায়ই কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এই মাধ্যমে এমন কিছু পোস্ট বা ছবি ভাইরাল হয় যা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে যায়।

সম্প্রতি স্যান্ডেল হাতে পাঁচ শিশুর সেলফি তোলার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। পাঁচ শিশুর নিষ্পাপ হাসি মন কেড়েছে অনেকের।

তবে এই শিশুরা কোথাকার বা এই ছবির আলোকচিত্রী কে, তা জানা যায়নি। অনেকে আবার বলছেন, ছবিটি ফটোশপ করা।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও এই ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে এই ছবি শেয়ার করেছেন অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি।

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুক ও টুইটারের হোমপেজে ঘুরছে এই ছবি। বাংলাদেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ছবি শেয়ার করে তাদের মুগ্ধকার কথা জানিয়েছেন।

আহসান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‌‘মুগ্ধকর ছবি। এমন অকৃত্রিম হাসি বহু দিন দেখি না।’

টুইটারে একজন ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘যখন জীবন তোমাকে দেবে একটি স্যান্ডেল, তোলো সেলফি।’

অনেক বলিউড তারকাও ছবিটি শেয়ার দিয়ে তাদের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে ছবিটি শেয়ার দিয়ে অভিনেতা বোমান ইরানি লিখেছেন, জীবনে খুশি থাকার জন্য বেশি কিছু লাগে না। ছবিটি প্রশংসার দাবিদার।

প্রযোজক অতুল কাসবেকার টুইটারে ছবিটি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আমাকে মুগ্ধ করেছে। কেউ তাদের খোঁজ জানালে আমি তাদের জন্য উপহার পাঠাতাম।’

তবে অমিতাভ বচ্চন মনে করছেন, ছবিটি ফটোশপ করা। অতুলের পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে অমিতাভ লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে ছবিটি ফটোশপ করা। যে হাতে স্যান্ডেল ধরা হয়েছে সেখানে লক্ষ্য করুন, শরীরের আকৃতির তুলনায় সেটিতে কী পার্থক্য আর অপর হাতটিও!’

হারলেন কোহলি, ট্রলের শিকার এই আনুশকা!

আপাত দৃষ্টিতে সহজ লক্ষ্যটাই পাহাড় হয়ে দাড়ায় ভারতের জন্য। মাত্র ২৪০ রানে তাড়া করতে নেমে পাঁচ রানের মধ্যে ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফিরে যান। ঘটনাচক্রে রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি প্রত্যেকেই আউট হয়ে যান ব্যক্তিগত এক রান করে। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ান-ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনো দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই ব্যক্তিগত এক রান করে আউট হয়ে যাননি।

ফলত নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানের লজ্জাজনক হার। কোহলিদের এ হার নিয়ে খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা। সমালোচকরা মিম উৎসবে মেতেছেন কোহলির স্ত্রী অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাকে নিয়ে। মাইক্রো-ব্লগিং সাইট টুইটারে কোহলি ও আনুশকার মিম বানিয়ে ভক্তরা নানা মন্তব্য করে চলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইট্টিনের প্রতিবেদন জানিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হারের পর ক্রিকেট-ভক্তরা তাঁদের সমস্ত আবেগ-অনুভূতি উগড়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। টুইটার ব্যবহারকারীরা আনুশকা শর্মার ‘সুই ধাগা’ সিনেমার দৃশ্য নিয়ে মিম বানাচ্ছেন। তাতে যুক্ত করছেন কোহলির ধরাশায়ী অবস্থা। ভক্তদের হতাশা আর ক্ষোভ সব যেন আছড়ে পড়ছে আনুশকার ওপর!

মঙ্গলবারের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির জন্য কেন উইলিয়ামসনদের ইনিংস থেমেছিল ৪৬.১ ওভারে। এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু করা যায়নি। গতকাল বুধবার ছিল রিজার্ভ ডে। বাকি চার ওভার খেলে কোহলিদের সামনে নিউজিল্যান্ড লক্ষ্য দেয় মাত্র ২৪০ রান। খেলতে নেমে ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় কোহলির দল। বিশ্বকাপ না, হানিমুন কাপ খেলতে গিয়েছিল ভারত’!

সাবেক বিগ বস প্রতিযোগী, মডেল, অভিনেত্রী, রিয়েলিটি টেলিতারকা ও ‘বিতর্কের রানি’ অভিধা পাওয়া রাখি সায়ন্ত ফের আলোচনায় এলেন। এবার ভারতের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার বিষয়ে কড়া সমালোচনা করলেন তিনি। তার প্রশ্ন, ভারতীয় ক্রিকেটাররা কি ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন, না কি ‘হানিমুন কাপ’ খেলতে গিয়েছিলেন? রাখির ভিডিও-বার্তা অন্তর্জালে ভাইরাল হয়েছে।

ইংল্যান্ডে শুধু ক্রিকেটাররাই যাননি, নিজেদের স্বামীকে মানসিকভাবে চাঙা রাখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন তাদের স্ত্রীরা। ম্যাচ না-থাকা দিনগুলোতে স্বামীসঙ্গে ঘুরেও বেরিয়েছেন তারা। আর তাতেই চটেছেন অভিনেত্রী রাখি সায়ন্ত। ভিডিও-বার্তায় তিনি বললেন, ‘রোহিত শর্মার স্ত্রী গিয়েছে, বিরাট কোহলির স্ত্রী গিয়েছে, আরো অনেকের স্ত্রী গিয়েছে সেখানে। এ তো ওয়ার্ল্ড কাপ না, মনে হচ্ছে তারা হানিমুন কাপ খেলতে গিয়েছে।’

ভারত হারায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাখি সায়ন্ত। ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো দুনিয়া, পুরো ভারতের মানুষের চোখ ছিল তোমাদের দিকে। না তারা ঠিকঠাক খেয়েছে, অফিস করেছে, ব্যবসা করেছে। কিছু করেনি তারা। এক মা তার বাচ্চাকে দুধ না দিয়ে বলেছে, বিশ্বকাপ আসলে তারপর দুধ খেতে দেব।’ ক্রিকেটারদের প্রতি রাখির প্রশ্ন, ‘কী হয়েছে তোমাদের, বলো তো? কেন তোমরা সেখানে বউকে নিয়ে গিয়েছ?’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির জন্য কেন উইলিয়ামসনদের ইনিংস থেমেছিল ৪৬.১ ওভারে। এরপর বৃষ্টিতে আর খেলা শুরু করা যায়নি। বুধবার ছিল রিজার্ভ ডে। বাকি চার ওভার খেলে কোহলিদের সামনে নিউজিল্যান্ড লক্ষ্য দেয় মাত্র ২৪০ রান। খেলতে নেমে ২২১ রানেই গুটিয়ে যায় কোহলির দল।

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে হেরে ভারতের ক্রিকেট বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়। মাত্র ২৪০ রানের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দল। আপাত দৃষ্টিতে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঁচ রানের মধ্যে ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা ফিরে যান। ক্রিকেটপ্রেমী ভারতে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য ‘বোঝা’: বান কি মুন

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যাটি অবশেষে বাংলাদেশের জন্য অসহনীয় সংকট হতে পারে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বড় ‘বোঝা’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। বুধবার (১০ জুলাই) বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারযোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ২০ এর হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন এবং কুতুপালং ১৭নং ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন, নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হক। জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়ান কূটনীতিক বান কি মুন জাতিসংঘের ৮ম মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা ভয়হীন ভাবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়। নানামুখী সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশি মানুষের প্রশংসা করেন মুন। বিশ্বব্যাংকের সিইও বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশিদের উদারতা ও দুর্বল রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব উখিয়ার কুতুপালং ২০নং ক্যাম্প ও ১৭নং ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং বাস্তুচূত রোহিঙ্গা নর-নারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবি প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। সাবেক মহা-সচিবের আগমন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সহ ক্যাম্প অভ্যন্তরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মূলত রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, আবাসন বিষয় সম্পর্কে দেখতে আসেন বাং কি মুন। তিনি ১৭ ও ২০ নং ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে কয়েকজন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতার সাথে কথা বলেন বলে ক্যাম্পের হেডমাঝি সিরাজুল মোস্তাফা জানিয়েছেন।

কুতুপালং আন-রেজিষ্ট্রার্ট ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোঃ নুর জানান, রোহিঙ্গাদের দাবী দাওয়া সম্পর্কে সাবেক মহা-সচিবকে রোহিঙ্গারা অবগত করেন। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে হেলিক্যাপ্টার যোগে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

সেবার কেঁদেছিল বাংলাদেশ, এবার কাঁদলো ভারত

২০১৬ সালের ২৩শে মার্চ। টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জয় তখন সময়ের ব্যাপার। দরকার ৩ বলে ২ রান।
পরপর দুই বলে আউট মুশফিক-মাহামুদউল্লাহ। শেষ বলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রান আউট! ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল টাইগাররা।

সেই রান আউটে ভারত টিকে থাকলো টুর্নামেন্টে। আনন্দের সেই রান আউট। সেই রান আউটের তিন বছর কেটে গেছে। আজ ভারত বাদ পড়লো সেরকমই এক রান আউটে। রান আউটটা আজ কান্নার কারণ ভারতের।

মার্টিন গাপটিল। শেষ দুই বিশ্বকাপে দেখেছেন মুদ্রার দুই পিঠ। ২০১৫ বিশ্বকাপে যেখানে একাই টেনে তুলেছিলেন নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে, ২০১৯ বিশ্বকাপে সেখানে ধুঁকছে ব্যাট হাতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারও দলকে ফাইনালে তুলতে পালন করলেন অন্যতম ভূমিকা। এবার ব্যাট হাতে নয়, বল হাতে! রান আউটে নিউজিল্যান্ডকে তুললেন ফাইনালে।

গাপটিলের এক থ্রোতে ঘুরে গেছে ম্যাচের চাকা। যদিও নিউজিল্যান্ডের আজকের ম্যাচের বড় হুমকি ছিল জাদেজা, তবুও ইতিহাস বলে ধোনি ক্রিজে থাকা মানে ম্যাচের পাল্লা ভারতের পক্ষে ঝুঁকে থাকা। সেই ধোনিই যখন ভারতকে নিয়ে যাচ্ছিল জয়ের দিকে, গাপটিল ফেরালেন তাঁকে অবিশ্বাস্য এক থ্রোতে। সেখানেই মূলত ম্যাচ চলে যায় কিউইদের হাতে। তাইতো ম্যাচ শেষে টেইলর-উইলিয়ামসন বা হেনরিকে বাদ দিয়ে সবাই পড়ে আছে গাপটিলের সেই থ্রোতে!

ধোনি আউট না হলে হয়তো এতক্ষণে ফাইনালে থাকতো ভারত। তবে গাপটিলের সেই রান আউটে ধোনির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটা হয়ে থাকলো এক দুঃস্বপ্নের ম্যাচ। এক ভুলে যাওয়ার ম্যাচ। অন্যতম ফেভারিট ভারতকে বিদায় নিতে হচ্ছে সেমি থেকেই।

৬১ টাকার গ্যাস ৯ টাকায় বিক্রি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি জনগণকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেছেন, প্রতি ঘন মিটার এলএনজি আমদানিতে ৬১.১২ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে তা প্রতি ঘন মিটার মাত্র ৯.৮ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরও ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এরপরও আন্দোলন? তাহলে যে দামে ক্রয় করছি, সেই দামেই বিক্রি করি।

সোমবার (৮ জুলাই) বিকেলে চীন সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা শুধু আমাদের দেশে না, বিদেশেও যখন এলএনজি আমদানি করা হয় তখন দাম বৃদ্ধি করে। তখন তারা মেনেও নেয়। আমাদের হয়তো এত বড় সমস্যায় পড়তে হতো না। আপনাদের মনে আছে ২০০০ সালে আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল, আমাদের দেশের গ্যাস বিক্রি করার। কিন্তু আমি রাজি হইনি।

সেটার খেসারত দিতে হয়েছিল। আমি ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়েছিল ক্ষমতায় আসলে গ্যাস বিক্রি করবে। আমরা কেন গ্যাস বিক্রি করব? আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় গ্যাস আমরা ব্যবহার করব। আমরা রিজার্ভ রাখব। তারপর যদি থাকে বিক্রির চিন্তা করব। আগে কত গ্যাস আছে তা আমাকে জানতে হবে। আমি সে সময় যে ভবিষ্যৎবাণী করেছি সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমাকে শিল্পায়ন করতে হবে; বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে, সার উৎপাদন করতে হবে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে, অর্থনীতির উন্নতি করতে হবে। আমাকে এলএনজি আমদানি করতে হয়। এটা আমাদানি করতে আমার কত টাকা খরচ হয়, সে হিসাবটা আগে জানতে হবে। আমাদের প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে খরচ পড়ে ৬১.১২ টাকা। আর আমরা দিচ্ছি ৯.৮ টাকায়। তাহলে আমরা কী পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছি।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে সম্মত করতে চেষ্টা করবে বলে চীন আমাকে আশ্বস্ত করেছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেন, রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন চীন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুইবার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি। তারা আমার কথা শুনে সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা বলেন। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ জুলাই ৫ দিনের সরকারি সফরে ঢাকা থেকে চীনে পৌঁছান। ৬ জুলাই দেশে ফিরে আসেন।

‘মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ প্রথম দেখলাম’

মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ দেখলাম’ এই কথা বলেই কেঁদে দিলেন পুলিশে চাকরি পাওয়া ফারজানা আক্তার সুমির বাবা রিকসা চালক উমর ফারুক। ফারজানা আক্তা।সুমি বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুহিলা গ্রামে। সোমবার (৮ জুলাই) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন এ তরুণী সুমি।

এ সময় পাশে থাকা সুমির বাবা উমর ফারুক সহ অনেকেই কেঁদে ফেলেন। এতো কষ্টের কান্না নয়। এ তো আনন্দের অশ্রুজল। রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোজন-যোজন ব্যবধানে আশাহত হয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগেনা।

পরে ১০৩ টাকায় আবেদন ফরম পূরণ করে গত ১ জুলাই ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে দাঁড়ালেন রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। সব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হলেন। উমর ফারুক বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ। বিনা পয়সায় আমার মাইয়ার (মেয়ের) চাকরি হইছে। মাগনা (টাকা ছাড়া) চাকরি হয় এইড্যা (এটি) আইজই (আজ) দেখলাম।

আমি কোন দিন কল্পনাও করিনি যে টাকা ছাড়া আমার মেয়ে সুমির চাকরী হবে। সুমি কোন দিন সরকারী চাকরী করবে এটা ভাবিনি। যা এতো আমার বিশ্বাসই হতো না। পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বছরের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারীর কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা যেন পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

এর আগে ১ জুলাই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল টিআরসি পদে ৬ হাজার ২৮০ জন শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

অপহরণের হাত থেকে বোনকে বাঁচাল ছোট ভাই।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃষ্টি আক্তার (১৩) নামের এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের হাত থেকে নিজের বোনকে বাঁচাল ছোট ভাই। জানা গেছে, বৃষ্টি আক্তার নামে ওই ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় ছোট ভাই সিয়ামের (১১) সাহসিকতায় অপহরণকারীরা ওই ছাত্রীকে রেখে পালিয়ে যায়। সোমবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কবিরাজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ওই ছাত্রী বর্তমানে রায়পুর সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। ছাত্রীর বাবা কৃষক ফিরোজ আলম বলেন, তাঁর মেয়ে এলাকার উধমারা উচ্চ বিদ্যায়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রাত ৮টায় ঘরের সামনে সিঁড়িতে বসে আমার ছোট ছেলে সিয়ামের সাথে গল্প করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে ২ জন মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা এসে বৃষ্টির মুখের সামনে স্প্রে মেরে অজ্ঞান করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল।

তখনই তার পাশে থাকা ছোট ছেলে সিয়াম ঘর থেকে একটি দাও নিয়ে ওই দুই দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে এলে অপহরণকারীরা বৃষ্টিকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জাকির হোসেন বলেন, মেয়েটি এখনও ভালো করে কথা বলতে পারছে না। তবে সে সুস্থ রয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া বলেন, এ ঘটনাটি থানা পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি। যদি কেউ কোন অভিযোগ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হারিয়ে যাওয়া সন্তানের জন্য ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখা সেই মা আর নেই

মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহের সঙ্গে তুলনা হয়না কোন কিছুরই। পৃথিবীতে সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ, একমাত্র মা-ই করতে পারেন। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য ৪৪ বছর ধরে, বারো মাস রোজা পালন করছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভেজিরন নেছা। কয়েকদিন আগে এ খবরটি গণমাধ্যমে কয়েকদিন আগে এ খবরটি প্রাকাশ হয়েছিল।

এদিকে সর্বশেষ পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুলাই) বার্ধক্যজনিত কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর নিজ বাড়িতে আনুমানিক বিকেল পাঁচটার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখা সেই মা ভেজিরন নেছা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ৩ ছেলে মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, তিনি শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের বিধান মতে বছরে কয়েকটি রোজা ছাড়া দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখেছেন। বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম হারিয়ে যাবার পর, খোঁজার প্রায় দেড়মাস পর তিনি নিয়ত করেন ছেলেকে ফিরে পেলে, যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিনই রোজা রাখবেন। সেই থেকে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রোজা রেখে গেছেন।

গ্রামবাসী জানান, ১৯৭৫ সাল তখন বড় ছেলে শহিদুল ইসলামে বয়স ১১ বছর হবে। সে একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ এবং দরগায় ১৩-১৪টি স্থানে খাবারের আয়োজন করা হয়। তখন মানুষের খুব অভাব চলছিল, ধারণা করা হচ্ছিল হয়তো কোনো জায়গায় খাবার না পেয়ে মসজিদ বা দরগায় খানা খেতে আসবে। তবুও আসেনি তিনি।

এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন তাকে জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল। পরিবারের লোকজন ছাড়াই সখিরন নেছা একা একা ছেলেকে খুঁজে বেড়াতেন। প্রায় দেড়মাস পর, রমজান মাস আসলে, রোজা থাকা অবস্থায় একদিন সন্ধ্যার আগে গ্রামের কাজীপাড়া জামে মসজিদের কাছে ছেলেকে খুঁজতে গেলেন। না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে আসছিলেন। মসজিদের কাছে আসতেই, মসজিদে হাত দিয়ে পণ করেন ছেলেকে ফিরে পেলে যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন রোজা রাখবেন। মা ফিরে এসে দেখতে পাই ছেলে শহিদ বাড়িতে এসেছে। সেই থেকে তিনি দীর্ঘদিন রোজা রেখেছেন।

ছেলে শহিদুল ইসলাম জানান, প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। তবে আমার মা আমার জন্য সারা জীবন রোজা রাখবেন বলে যে সিন্ধান্ত নিয়ে রোজা পালন করেছেন। পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। এমন মা পাওয়া সত্যিই গর্বের বিষয়। তিনি তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। বাজার গোপালপুর গ্রামের মাসুম শেখ জানান, আমার বুদ্ধি-জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখছি ভেজিরন নেছা ওরফে ভোজা (বুবু) রোজা রাখছেন।

শত অভাব অনটনের মধ্যে, পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর মুসলমান ধর্মের বিধান মেনে, বড় ছেলে শহিদুল হারিয়ে যাবার পর ফিরে পেয়ে রোজা রেখেছেন। তিনি বলেন, মা তো মা-ই। মায়ের তো কারো সাথে তুলনা হয় না। তবে ছেলের জন্য যে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা একমাত্র মা বলেই সম্ভব হচ্ছে। তার মতো আর মা আছে বলে আমার জানা নেই।