তারেকের হ্যা, খালেদার না

বিএনপির বহিস্কৃতদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার মত ভিন্নতার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন একতরফা পক্ষপাতিত্ব হয়েছে। তাদের ভাষায় নির্বাচনে জনগনের মতামতের প্রতিফলন হয়নি। সরকার জনগনের অধিকার রক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে, কাজেই তারা ঐ নির্বাচনের পর ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। সেই প্রেক্ষিতে তারা উপজেলা নির্বাচন থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত লংঘন করে বিএনপির প্রায় ১৬৪ জন উপজেলায় অংশগ্রহণ করে এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যারা উপজেলা নির্বাচন করেছিল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় তাদেরকে বহিস্কার করা হয়। এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে প্রায় ১১৪ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরো অন্তত ৩৪ জনকে বহিস্কার করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বহিস্কারাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এটা নিয়ে মত ভিন্নতা ছিল, তা সত্বেও দলের নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই বহিস্কারাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, যেহেতু সাংগঠনিকভাবে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। কাজেই যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা স্পষ্টভাবে বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত লংঘন করেছে, এক্ষেত্রে তাদের বহিস্কার ছাড়া অন্যকোন পথ ছিল না।

বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দাবি করেছেন যে, তারেক জিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে সারাদেশে এই বহিস্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক জিয়া বলেছেন দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটাই এই মুহুর্তে সবচেয়ে জরুরি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী। এলাকায় জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব ধরে রাখার জন্যই উপজেলা নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু এই বহিস্কারাদেশের ফলে যেটা হয়েছে, ওই এলাকাগুলোতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে ধস নেমেছে। ও এলাকায় বিএনপির অন্যান্য কর্মীরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং তাঁরাও বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে।

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং তিনি কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন যে বহিষ্কারাদেশ যেন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। বিএনপির একজন নেতা দাবী করেছেন যে, বেগম জিয়ার চিকিৎসক ডঃ মামুনের মাধ্যমে প্রেরিত এক বার্তায় বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন যখন আমরা সংস্কারপন্থিদের দলে নিচ্ছি, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে তাঁদের আমরা দলে নিচ্ছি, ঠিক সেই সময়ে দলের তৃণমূলের নিবেদিত কর্মীদেরকে বহিষ্কারাদেশ ঠিক হয়নি।

তিনি মনে করেন যে, এর ফলে সংগঠনে ভুল বার্তা যাবে এবং এর ফলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি এটাও বলেছেন যে, এখন কাউকে শাস্তি দেয়ার সময় না। এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। বরং দলে বহিষ্কৃত হয়েছে তাঁদেরকে দ্রুত দলে ফিরিয়ে এনে দলীয় কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের বিভক্তি ও বিরোধ কাটিয়ে ওঠারও নির্দেশ দিয়েছেন বেগম জিয়া বলে জানা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু তারেক জিয়া এখন পর্যন্ত নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। মা পূত্রের এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোথায় নিয়ে যায় সেটাই হলো দেখার বিষয়।

সিনিয়র নেতাদের সরাতে কাজে দিচ্ছে তারেক রহমানের কৌশল!

তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়ন করছে বিএনপির একটি অংশ। দলে তারেকপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতরা কৌশলে খালেদা জিয়ার অনুসারীদের সরিয়ে দিচ্ছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একটি সূত্র বলছে, তারেক রহমান আগামীতে বিএনপির একমাত্র নীতিনির্ধারক হবার বাসনা থেকেই দলের ভেতর প্রশ্নকারী এবং ক্ষমতার প্রশ্নে ঝামেলা সৃষ্টিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে চাইছেন না।

জানা গেছে, দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে তারেক রহমানের বিপরীতে যারা ক্ষমতার দাবি করতে পারেন তাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তারেক রহমানের এই বিশেষ কৌশল। কৌশলে খালেদা জিয়া অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে বাঁকা পথে চলছেন তিনি, সঙ্গে নিঃশেষ করা হচ্ছে খালেদার শক্তিশালী অনুসারীদেরও।

কৌশলে ধরাশায়ী হয়ে এরই মধ্যে বিএনপিতে বিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানদের মতো সিনিয়র নেতারা। কারণ, এরা যদি তারেক অধ্যায় পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় থাকে, তাহলে তারেকের নেতৃত্বে ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই তাদের (খালেদা অনুসারীদের) তারেক অধ্যায়ের আগেই ব্যর্থতার কাতারে ফেলে দল ত্যাগে বাধ্য করতে সব ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তার অনুপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া শক্তভাবে শুরু হয়েছে। এ কৌশলে ব্যর্থতার দায়ে স্থায়ী কমিটির বড় অংশ যেকোনো মুহূর্তে বাদ পড়লে তৃণমূলেও চাপ পড়বে না। দলে ভাঙনের পরিস্থিতিও তৈরি হবে না। কেননা, ইতোমধ্যে আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র সব নেতাই ব্যর্থতার পরিচয় ও প্রশ্নের মুখে রয়েছেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র মতে, গোচরে-অগোচরে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমান সব সময় তার অনুগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আলাদা সিন্ডিকেট তৈরি করে কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন তারেক। কৌশলে কাজও হচ্ছে। কেননা, খালেদাপন্থী সেসব নেতারা এরই মধ্যে দলে প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে রয়েছেন।

লন্ডন বিএনপির একটি সূত্র বলছে, যেহেতু তারেক রহমান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি, ফলে খুব শিগগিরই তিনি দেশের রাজনীতিতে ফিরতেও পারবেন না। যেহেতু দেশে ফিরতে পারবেন না তাই স্বাভাবিকভাবেই দলে কর্তৃত্ব সিনিয়রদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং তার নেতৃত্বে ফেরাটা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দলে বিতর্কিত করছেন। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বিএনপির তারেকপন্থী সংঘবদ্ধ চক্র।

পুত্রবধুকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় জরিমানার টাকা ভাগবাটোয়ারা

সলঙ্গায় পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী সেই শ্বশুরের ২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও মাত্র ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ভুক্তভোগীকেপ্রদান করে অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বররা। একই সঙ্গে পুত্রবধুকে তালাক, শ্বশুরকে গোসলকরিয়ে তওবা পড়ানো সহ পুরো গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় দিয়েছেন গ্রাম্য প্রধান মাতব্বররাগন।

এ ছাড়াও সালিশী বৈঠক বসার পূর্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করার কথা বলে ৩০ হাজার এবং গ্রাম্য মেলার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেওয়াহয়েছে। ইজ্জত হরনকারীর ইজ্জতের মুল্য হিসেবে নির্ধারিত জরিমানার টাকা এভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সলঙ্গার সর্বমহলেনানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। জানাগেছে,সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়নের ভরমোহনী গ্রামের মনিরুজ্জামান মনির পুত্র নয়নের সাথে উল্লাপাড়া উপজেলার পাগলা গ্রামেরআইয়ুব আলীর কন্যার বিয়ে হয় প্রায় ৪ বছর আগে।

এদিকে বিয়ের পর থেকেই ঐ পুত্র বধুর শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো। এরই এক পর্যায়ে গত রবিবার বিকাল ৩ ঘটিকারদিকে বশত বাড়ীতে কোন লোকজন না থাকার সুযোগে তাকে একা পেয়ে লম্পট শ্বশুর তার শয়ন ঘরে ঢুকে জোর পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে।

এ সময় লম্পট শ্বশুরের কবল থেকে ছুটে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গিয়ে চাচা শ্বশুর আব্দুল মান্নানের ঘরে আশ্রয় নেয় কিন্তু সেখানে গিয়েওলম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনি আশ্রিত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঐ ভুক্তভুগীকে মারপিট করে ডান চোখে জখম করে এবং এ ঘটনা প্রকাশ করা হলেতাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে লোকজনের অপবাদ থেকে বাঁচার জন্য ঐ পুত্রবধু বিষ পান করে আতœহত্যার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে তার পিত্রালয়ের লোকজন এসে তাকেউদ্ধার করে মুমুর্ষ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতলে ভর্তি করে।

এ ঘটনা গ্রাম্য প্রধানের কাছে বিচার প্রার্থনা করা হলেও উল্টো তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি দৈনিক স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায়প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে গ্রাম্যপ্রধান মাতব্বরদের টনক নড়ে। শুরু হয় নানা দিকে দৌড় ঝাঁপ। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করাহলেও ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয় প্রধানমাতব্বরগন।

ফলে তারা কোন উপায় অন্ত না পেয়ে গত বুধবার গভীর রাতে গ্রাম্য প্রধান মাতব্বরগন একই গ্রামের পশু চিকিৎসক কাওছারের বাড়ীতে সালিশীবৈঠক বসায়। গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশী বৈঠকে পুত্রবধুকে ধর্ষনের চেষ্টাকারী লম্পট শ্বশুর মনিরুজ্জামান মনির ২লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রকাশ্যে জরিমানা, গোসল করিয়ে তওবা পড়ানো ও গ্রামবাসীকে এক বেলা ভুড়িভোজ করানোর রায় ঘোষনা করা হয়।

এদিকে সালিশী রায়ের ধার্যকৃত জরিমানার টাকার মধ্য থেকে ভুক্তভোগীকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করে তাকে তালাক দিয়ে বিদায় করেদেওয়া হয়েছে। অপর দিকে জরিমানার অবশিষ্ট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান, পশু চিকিৎসক কাওছার হোসেন, গোলামমোস্তফা, মিলন, হান্নান ও মান্নানসহ অন্যান্য মাতব্বরগন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। সেই সাথে গ্রাম্য মাতববর চক্রটি প্রশাসন সহ মিডিয়াকর্মীদের নাম ভাঙ্গীয়া মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অপরদিকে সালিশী বৈঠকটি ধামাপাচা দেওয়ার জন্য গ্রাম্যপ্রধান মতিয়ার রহমান ও গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করারজন্য ৩০ হাজার ও গ্রামে মেলা বসানোর নামে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লম্পট মনিরুজ্জামানেরনিকট থেকে হাতিয়ে নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন ওই মাতব্বর চক্রটি।

প্রধানমাতব্বরদের পকেটে থাকা জরিমানার টাকা উদ্ধার ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসন সহ জাতীয় মানবিধিকারকমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

যেভাবে ৯৬ থেকে ৫২ কেজি হলেন সারা আলি খান!

বলিউড নবাব সাইফ আলী খানের কন্যা সারার অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সৌন্দর্যের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। প্রথম ছবি ‘কেদারনাথ’-এই বহু প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাইফ-কন্যা সারা আলি খান। খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে রণবীর সিংহের বিপরীতে ‘সিম্বা’। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই সারার বৃহস্পতি তুঙ্গে।

কিন্তু প্রথম থেকেই এমন ত্বন্বী ছিলেন না সারা আলি খান। এক সময়ে সারার ওজন ছিল ৯৬ কেজি। এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে ভুগছিলেন সারা। সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও সেই কথা বলেন সারা। হরমোন-জনিত এই রোগের জন্য ওজন কমাতে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল সারাকে।

কিন্তু সেই পৃথুল চেহারা আর নেই। ত্বন্বী সারা এখন ওজন কমিয়ে ইয়ংস্টারদের নতুন সেনসেশন। এখন সারার ওজন মাত্র ৫২কেজি। তবে এই ওজন কমাতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি সারাকে। নিয়মিত ওয়ার্কআউট করার পাশাপাশি ডায়েটেও অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়েছে সারাকে।

জেনে নেওয়া যাক সারা সকাল থেকে রাতের ডায়েট চার্ট—

• ব্রেকফাস্ট- ইডলি অথবা পাউরুটি। সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ।

• লাঞ্চ- রুটি, ডাল, তরকারি, স্যালাড আর কিছু ফল

• সন্ধের স্ন্যাকস- সাধারণত উপমা খান।

• ডিনার— রুটি আর সবুজ তরকারি।

বলিউডের এই অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস!

অক্ষরা হাসান। বলিউডের একজন পরিচিত অভিনেত্রী। এছাড়া তিনি ভারতের খ্যাতিমান অভিনেতা কমল হাসানের মেয়ে। এই স্টার কিডের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস হয়ে গেছে অনলাইনে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে গেছে ছবিগুলো।

অক্ষরা হাসানের ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে তাকে বেশ খোলামেলা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। যেগুলোতে তিনি কেবল অন্তর্বাস পরে রয়েছেন। সবগুলো ছবিই অক্ষরা নিজে তুলেছেন, অর্থাৎ সেলফি। কিন্তু এসব ছবি অক্ষরা নিজে কখনোই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেননি।

তাহলে কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো এই ছবিগুলো? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে। কেউ কেউ বলছে, অক্ষরা হয়ত তার ঘনিষ্ঠ কোনো মানুষকে ছবিগুলো পাঠিয়েছেন। সেখান থেকেই হয়ত এগুলো ফাঁস হয়ে যায়। এছাড়া তার সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েও ফাঁস হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে নিজের এমন ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস হওয়ার বিষয় নিয়ে এখনো কিছুই বলেননি ২৮ বছর বয়সী অক্ষরা হাসান। শুধু তাই নয়, ছবিগুলো আসলেই অক্ষরা হাসানের কিনা, সেই ব্যাপারেও কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করছেন। কেননা আধুনিকতার এই সময়ে ফটোশপের কারসাজিতে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। হলিউডের অনেক তারকা অভিনেত্রীও এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ভারতের অভিনেত্রী অ্যামি জ্যাকসনের ফোন হ্যাক করেও তার ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস করে দেয় হ্যাকাররা।

শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেদের মেরে নিজেও আত্মহত্যা করলেন মা

হাঁটার ক্ষমতাও ছিল না, সম্পূর্ণভাবে বাড়িতেই বন্দি থাকতে হত তাঁদের। প্রায় ২০ বছর ধরে দুই ছেলেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন রাধাম্মা, তবে ফল হয়নি কিছুই
মানসিকভাবে ঠিক কতটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে এক মা তাঁর নিজের ছেলেদের মেরে ফেলে তারপর নিজেও আত্মঘাতী হতে পারেন, সেটা বেঙ্গালুরুর রাধাম্মার গল্প শুনলেই বোঝা যায়।

৫০ বছর বয়সি ডি রাধা ওরফে রাধাম্মা বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক্‌স সিটি এলাকায় থাকতেন তাঁর দুই ছেলে, ২৫ ও ২৮ বছর বয়সি হরিশ ও সন্তোষকে নিয়ে। তাঁরা দু’জনেই ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী।

হাঁটার ক্ষমতাও ছিল না, সম্পূর্ণভাবে বাড়িতেই বন্দি থাকতে হত তাঁদের। প্রায় ২০ বছর ধরে দুই ছেলেকে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেন রাধাম্মা, তবে ফল হয়নি কিছুই। শহরেই ছোট দু’টি বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি, তার আয় থেকেই চলত সংসার। সম্প্রতি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

গত শনিবার তাঁদের বাড়ির দরজা কিছুটা খোলা থাকায় প্রতিবেশীরাই তিনজনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। পরে জানা যায়, খাবারে বিষ মিশিয়ে তা ছেলেদের খাইয়ে, তারপর নিজেও সেই খাবারই খেয়ে আত্মঘাতী হন রাধাম্মা।

ডাক্তার দেখাতে অসুস্থ মাকে কাঁধে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন ছেলেটি!

গত কয়েকদিন যাবত তীব্র জ্বরে ভুগছেন মা। ডাক্তার দেখানোর জন্য এ সন্তান দুই কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন মাকে কাঁধে নিয়ে। আর এই ছবি দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়ে গেছে দেশের মানুষকে।নেত্রকোনার বিরিশিরি ইউনিয়নের সোমেশ্বরী নদীর চর থেকে মঙ্গলবার ছবিটি তুলেছেন বিবিসি’র সাংবাদিক আকবর হোসেন। ছবিটি তার ফেসবুক থেকে নেয়া।

‘ফজরের নামাজ কখনো ক্বাজা করি নাই, ১১৯ বছরেও আমি সুস্থ্য আছি, খালি চোখেই বই পড়ি’

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১৯বছরে পা দিলেও এক ব্যক্তি চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্বাভাবিকভাবে পত্রিকা পড়াসহ সব ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।যে বয়সে তার শেষ সম্বল লাঠি হাতে নিয়ে চলা ফেরা করার কথা ঠিক সেই সময়ে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করায় এলাকায় মানুষের কাছে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বার্ধক্য তাকে হার মানাতে পারেনি। বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি তার কাজকর্মে। তিনি কোন কাজে মনো নিবেশ করলেই আশ-পাশের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় শুরু করে দেন।

এমই এই সাদা মনের মানুষটির নাম মোঃ জোবেদ আলী। তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স হয়তো আারো বেশী হবে। তিনি উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর পুত্র। তাঁর স্ত্রী ফয়জুন নেছা(৮৭), ৩পুত্র ও ৪কন্যা সহ নাতি-নাতিনী সহ বহু বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহী রয়েছে।

৯জানুয়ারী বুধবার দুপুরে তাঁর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোর ঠিক বয়স মনে নেই, তবে আইডি কাডত যা আছে তার চেয়ে বেশী হবে। ছোট বেলা থেকে যুবক বয়সে তিনি নিজের দিঘীর মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, আবাদি বিতরী ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তৈল, রাসায়নিক সার বিহীন শাক-সবজি নিয়মিত খেতেন। এই বয়সে তাঁর ছোট খাট জ্ব্বর-সর্দি ছাড়া বড় ধরনের কোন রোগ ব্যধি হয় নাই।

শরীর এখনও তাঁর ভাল আছে। তিনি একশ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তাই তিনি নিয়মিত পবিত্র কুরআন-মাজিদ, পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। রাতে তিনি কুপি জ্বালিয়ে পবিত্র কুরআন-মাজিদ পড়েন।

তিনি আরো বলেন, কোনদিন ফজরের নামাজ আমি ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলোয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন। এজন্য আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া।

এ ছাড়া পত্রিকা পড়াই তার এখন প্রধান নেশা বলে জানান। এ বিষয়ে রাজারহাট ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই জোবেদ জ্যাঠোকে এই অবস্থায় দেখে আসছি। এখনো তিনি আগের মতোই চলাফেরা করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মরুভূমিতে আজো দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ

অবিশ্বস্য হলেও সত্যে। আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে যে গাছটির নিচে মহানবী (সা) বিশ্রাম নিয়েছিলেন জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় সেই গাছটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও সত্যি। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু দূরে একটি মৃতপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।
মোহাম্মদ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন।
আবু তালিব মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।

পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!

বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্মদ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী।তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী।

চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই।গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পিঠা বিক্রির আয়ে পরিবারের অন্নের যোগান-নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান অদম্য শিশু দোলেনা

কচি হাতে পিঠা বানায় আর বিক্রি করে দোলেনা। পিঠা বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে হয় তার পরিবারের অন্নের যোগান এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ।দোলেনাকে প্রতিদিন দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের পাশের রাস্তায়। সেখানে রাস্তার ধারে খোলা আকাশের নিচে তার পিঠা বিক্রির দোকান। স্কুল থেকে ফিরে ড্রেস খোলার ফুরসৎ পায় না অধিকাংশ সময়। বই খাতা থাকে পাশে, মাথার ওপর খোলা আকাশের সূর্যের তাপ! লাকড়ির চূলার আগুনের উত্তাপ সয়ে কচি হাতে নিপুনভাবে নানারকম দেশি পিঠা আর রুটি তৈরি করে বিক্রি করে দোলেনা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কাজীপাড়া মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী দোলেনা। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি জীবন যুদ্ধে অদম্য সংগ্রামী দশ বছরের শিশু দোলেনা।

মাটির দুটি চুলা, লাকড়ির আগুন, ধোঁয়া, হাড়ি-পাতিল খুন্তি, চিতই, ভাঁপা, চই, কুলি পিঠা তৈরির চাউলের গুড়া, তৈরি নানা পিঠা, শুটকি, শর্ষে ভর্তা, একটি ভাঙ্গা বেঞ্চ, কাঠের ফ্রেমে কাঁচ বসানো বাক্সে সাজানো পিঠা নিয়েই তার দোকানের পসরা সাজানো। নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ভীড় থাকে তার দোকানে। স্কুল শেষে পিঠা তৈরি, বিক্রির সময় সুযোগ বুঝে স্কুলের পড়া তৈরি করা, এই হলো দোলেনার প্রতিদিনের রুটিন।

পারিবারিক জীবনে আদর ভালবাসা মেলেনি দোলেনার। পিতা কিশোরগঞ্জের বায়োজিদপুরের আইয়ূব আলীর মৃত্যু হয় দোলেনার জন্মের পূর্বে। মা হেলেনার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। তাই শিশুকাল থেকে পিতার আদর, মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত দোলেনা।

এতিম দোলেনা আর তার বোন অন্তরা বেড়ে উঠে নানা নানীর আশ্রয়ে। নানী জুবেলা খাতুনের কোলে চড়েই পিঠার দোকানে প্রথম আসে সে। বুঝে উঠে পর এই দোকানে নানীকে সহায়তা শুরু করে। এক পর্যায়ে নানীর এবং নিজের আগ্রহেই ভর্তি হয় স্কুলে।

স্টেশনের পাশে উত্তর মৌড়াইলের একটি ছোট্ট ঘরে অস্থায়ী বসতি তাদের। রেল স্টেশন চত্বরে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় দোলেনার সাথে দেখা হলে সে জানায়, “স্কুল থাইক্যা আইছি, অহন পিঠা বানামু। পিঠা না বানাইলে খামু কি?” লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ব্যক্ত করে সে জানায়, লেহাপড়া না করলে শিক্ষা পামু ক্যামনে? লেহাপড়া আমার ভালা লাগে, তাই লেহাপড়া করি, লেহাপড়া করলে অনেক কিছু জানন যায়। আমি লেহাপড়া কইরা বড় অইতে চাই”।